মানব সম্প্রদায় ভয়ানক গিরিখাদের দ্বারপ্রান্তে

প্রকাশিত : ১১ মে ২০২১

মো. খবির উদ্দিন

এটা কোন বিশ্ব যুদ্ধ নয়। নয় কোন রাসায়নিক আক্রমণ। এমনকি কোন ফকার বা জেটের আক্রমণও নয়। এটা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর এক অদৃশ্য ডিভাইস করোনা ভাইরাসের আক্রমণ। এই অদৃশ্য অতিক্ষুদ্র শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে পৃথিবী আজ সর্বস্বান্তের পথে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শক্তিশালী দেশ আমেরিকাকে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। পৃথিবীর বিশাল বিশাল সম্রাজ্যগুলোর ভীতকে ভীষণভাবে আলগা করে দিতে সক্ষম হয়েছে এই অদৃশ্য অতিক্ষুদ্র শক্তি। মানব সম্প্রদায়ের দাম্ভিকতা আজ ভূলুন্ঠিত। গোটা পৃথিবী আজ পিন পতন নীরবতায় আচ্ছাদিত। এই অদৃশ্য শক্তির এক একটা ঢেউ যেন এক একটা সুনামি হয়ে আছড়ে পড়ছে এক একটা দেশের ভূখন্ডে। পালাবার সমস্ত পথগুলো চোরা বালিতে ছেয়ে গেছে। এর শেষ কোথায়। মানব সম্প্রদায় তাদের জ্ঞানের শ্রেষ্ঠ চর্চা করেও ক্ষণে ক্ষণে রূপ পরিবর্তনকারী এই অদৃশ্য শক্তির পরিবর্তিত ধরনের সাথে পাল্লা দিয়ে নিজেদের অসহায় ভেবে স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। করোনা ভাইরাসের রক্ত চক্ষু যেন আমাদের দীর্ঘদিনের জাবেদা খাতা না মিলিয়ে ছাড়বে না। মানব সম্প্রদায়ের জন্য এটা এক ভয়ানক বার্তা বৈ আর কিছু নয়।

ইতিমধ্যে য্ক্তুরাষ্ট্র ও চীন তাদের বাকযুদ্ধ কিছুটা কমিয়ে এনেছে। দীর্ঘদিন তারা পরস্পরের সাথে যুদ্ধ করেছে করোনা ল্যাবের তৈরি না প্রকৃতিগতভাবে সৃষ্টি। তাদের তর্ক নিয়ে আমাদের মাথা ঘামাবার কারণ নেই। এ তর্ক কোনও দিন সুরাহা হবে না। তর্ক থেকেই যাবে। এটা সীমাবদ্ধতা।

আমেরিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ব্রিটেন ইউরোপ রাশিয়াসহ শক্তিশালীদের ওলট পালট করে দিয়ে আরও ভয়ানক শক্তিশালী হয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় আছড়ে পড়েছে। অনেক শ্রমের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা যে আত্মরক্ষার জন্য টিকা আবিষ্কার করেছে তার মাধ্যমে চেষ্টা করছে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী এর পর্যাপ্ততার সীমাবদ্ধতা এখন পরস্পরের সাথে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হতে চলেছে। এর যথার্থ কার্যকারিতা নিয়ে যতই তর্ক বিতর্ক থাকুক না কেন এই বিপদে বিশ্ব এটাকেই ভরসা ভাবছে।

পৃথিবীর আণবিক শক্তির অধিকারী আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানি, রাশিয়া, ভারতসহ ব্রাজিল, ইরান একের পর এক করোনার তরঙ্গ শুমার করেই অস্থির। যারা একটা আলপিনের মাথাকে লক্ষ্য করে যথার্থ কার্যকরি আঘাত হানতে সক্ষম তাদের প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ করোনায় মারা গেলেও শুধু অসহায় আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কিছুই করতে সক্ষম হননি।

বিশ্ব অর্থনীতি আমাদের বার বার সংকেত দিচ্ছে আগাম অর্থনীতি মন্দার কথা। মন্দা ও ভয়াবহতা আমাদের গরিব করে দেবে। বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মহামারিতে ২০২০ সাথে বৈশ্বিক অর্থনীতি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। যাহা ১৯২৯ এবং ২০০৯ সালে মহামন্দার চেয়ে করোনায় অর্থনৈতিক সংকোচন হয়েছে অনেক বেশি। জাতিসংঘের প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহকারী মহাসচিব ইলিয়ট হ্যারিস বলেছেন অভূতপূর্ব সংকটের গভীরতা ও তীব্রতা থেকে আমরা হয়তো ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হতে পারব। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিশ্বব্যাপী ‘সম্পূর্ণ বা আংশিক’ লকডাউনে প্রায় ২৭০ কোটি শ্রমজীবী মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছে। যারা বিশ্বের মোট শ্রমজীবী মানুষের প্রায় ৮১ শতাংশ।’

পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা করোনার ঢেউয়ের পরিসংখ্যানে ব্যস্ত। কেউ তৃতীয় ঢেউ কেউ চতুর্থ ঢেউ আমরা আছি দ্বিতীয় ঢেউয়ে। এই ঢেউয়ের উচ্চতা একেক দেশে একেক ধরনের। করোনাকে অবহেলা করার কোন সুযোগ মানব সম্প্রদায়ের নেই। আল্লাহর একাত্মবাদে বিশ্বাসীগণ করোনাকে আল্লাহর দেয়া মানব সম্প্রদায়ের জন্য নিজেদের পরিশুদ্ধ হওয়ার সুযোগ বলে মনে করেন। আল্লাহ মানব সৃষ্টির পরে বিভিন্ন নবী ও রাসুলের সময়ে পথ ভ্রষ্টদের সঠিক পথে আনায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের মহামারি দিয়ে সঠিক রাস্তায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। এই ইতিহাসগুলো আমাদের হয়তো সকলেরই জানা আছে। আমরা মানব সম্প্রদায়ের পূর্বা ঘটনাবলি বা ইতিহাস থেকে কোন শিক্ষা গ্রহণ করি না বলেই এই ধরনের ভয়াবহ মহামারি আমাদের উপরে অবতীর্ণ হয় যা ইতিহাস দ্বারা প্রমাণিত। গোটা দুনিয়া আজ অন্যায় অত্যাচার জুলুম নির্যাতন নিষ্পেষণ বেহাল্লাপনা দুর্বলের প্রতি আক্রমণ সর্বোপরি পৈশাচিকতা যা কিনা আমাদের সভ্যতার পূর্ব যুগের কথা মনে করিয়ে দেয়।

পৃথিবীজুড়ে ধর্মীয় বিভাজন, শক্তিশালীদের দ্বারা দুর্বলের ওপর আঘাত মানবতা বিপর্যয়ের মতো ঘটনা আজ গোটা পৃথিবীজুড়ে। আমাদের বার বার মনে করিয়ে দেয় মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দুর্বল দেশের প্রতি বর্বরোচিত লোমহর্ষক ঘটনাবলির কথা। দেশে দেশে সংখ্যালঘু মুসলিমদের প্রতি অত্যাচার, অবিচার, জুলুম, নির্যাতন নিষ্পেষণ। আমরা ভুলিনি আমেরিকা বাহিনির আক্রমণে ক্ষত বিক্ষত য়েই শিশুটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিল আমি আল্লাহর কাছে সব বলে দিব সেই হৃদয় স্পর্শী আর্তনাদ। সারা বিশ্বের সকল বিবেকমান মানুষের ভিতরটা কঠিনভাবে নাড়া দিয়েছিল সেই আর্তনাদে। হয়তো সেই শিশুটি আল্লাহর কাছে বলেও দিয়েছে। ইত্যোকার অসংখ্য ঘটনা আমাদের কঠিনভাবে নাড়া দেয়।

করোনা সংক্রমণের কারণে এরই মধ্যে ভারতের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশটির বিভিন্ন উন্নয়ন কার্মকাণ্ডে। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, করোনার কারণে চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার ৪.৮ শতাংশে নেমে যেতে পারে। ভারতে করোনা সংক্রামন ও মৃত্যু আশংকাজনক। সংক্রমণ এ ব্যাধি আরো দীর্ঘ হলে ভারতের অর্থনীতির ক্ষতি আরো বাড়বে। গত ০৮.০৪.২০২১ তারিখে দেশটির রিজার্ভ ব্যাংক প্রকাশিত ঋণ নীতি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সংক্রমণ এ ব্যাধির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও বিপর্যস্ত। এর নেতিবাচক প্রভাবে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে দুর্ভোগ বেশি হবে। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি ভুগবে। ভারতের লকডাউন বাড়লে দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষতিও বাড়বে।

দেশটির রিজার্ভ ব্যাংকের দাবি, এই মুহূর্তে যা অবস্থা তাতে প্রবৃদ্ধির হারের পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। কারণ মনে করা হচ্ছে, জন-জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদন স্তব্ধ হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে উৎপাদন আরো সংকুচিত হবে। এতে বিশ্বব্যাপী মন্দা দেখা দিতে পারে। ভারতেও এই পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। ভবিষ্যতে কি ধরনের পরিস্থিতি আসবে তা অনিশ্চিত। প্রতিদিন চারদিক থেকে যে সব তথ্য আসছে, তা বৃদ্ধির ইঙ্গিতকে বদলে দিয়ে মন্দার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। একই দিনে বিশ্ব অর্থনীতির বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছে আইএমএফও। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, কোভিড যে বিদ্যুতের গতিতে বিশ্বের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চেহারাকে চুরমার করেছে, তা স্মরণকালে হয়েছে বলে মনে করতে পারছি না।

করোনাকালীন বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অক্সফামের জরিপে দেখা যায় করোনা শুরু হওয়ার পরে বাংলাদেশে গত এপ্রিল ও মে মাসে ৬২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছে। আর ৮৬ শতাংশ মানুষ তাদের খরচ কমিয়েছে, এর মধ্যে ৫২ শতাংশ মানুষ খাওয়া কমিয়েছে, কেউ কেউ তাদের সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছে আবার কেউ কেউ কাঁধে ঋণের বোঝা চাপিয়েছে। গত ০৫.০৫.২০২১ তারিখে এক ভার্চুয়াল সংলাপে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। শীর্ষ এই জরিপ চলতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ২ হাজার ৬০০ লোকের বাড়িতে গিয়ে পরিচালনা করা হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এতে সহযোগিতা করে।

সারা বিশ্ব করোনা ভাইরাসে লন্ডভন্ড। ইতিমধ্যে এই ভাইরাসের দ্বারা প্রায় ষোল কোটি লোক আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৩৩ লাখের উপরে। সবচাইতে বেশি মৃত্যু হয়েছে পৃথিবীর মধ্যে যারা সবচাইতে শক্তিশালী প্রযুক্তিবিদ সেই য্ক্তুরাষ্ট্্ের। এরপরে ব্রাজিল, মেক্সিকো, ভারত, যুক্তরাজ্য ইতালি, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন এবং অন্যান্য দেশ। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট মৃত্যুর তিন ভাগের দুই ভাগের মৃত্যু হয়েছে এই দশটি দেশে যার মধ্যে ব্রাজিল, মেক্সিকো ও ভারত বাদে সব দেশে উন্নত।

করোনা আক্রান্ত উন্নত দেশগুলোর মধ্যে বেশ করেকটি প্রতিষ্ঠান করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে বেশ সফলতা দেখিয়েছে। যুক্তরাজ্য বিশ্বের প্রথম দেশ গত ২০২০ ডিসেম্বরে টিকা প্রয়োগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে সারা বিশ্বে সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১৩টি ভ্যাকসিন জনসাধারণে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের আরও ৭০টি টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলমান।

আমাদের মুসলমানদের সৌন্দর্য হলো আমরা পৃথিবীর সকল মানবকেই এক ও অভিন্ন চোখে দেখি। আমাদের চোখে কোন বৈষম্য নেই। আমরা যে কোন ধর্মের মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে কুন্ঠাবোধ করি না। সর্বোপরি আমরা মানবজাতির প্রত্যেককেই আদি পিতা আদম (আ.) এর সন্তান হিসেবেই বিবেচনায় রাখি। আমাদের নিকটতম প্রতিবেশি ভারত আজ করোনা মাহামারিতে আক্রান্ত। ভারতের এই ভয়াবহ পরিণতির কারণ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মতে স্বাস্থ্যবিধির অবহেলা জনিত কারণ। ফলশ্রুতিতে আজ তারা করোনা সুনামিতে হতবিহব্বল। বাংলাদেশসহ প্রায় গোটা পৃথিবী সাধ্যমত ভারতের পাশে দাঁড়াবার ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশের জনগণও ভারতকে এই বিপদে সহানুভূতি জানাচ্ছে। হয়তো ভারত একদিন করোনা থেকে মুক্ত হবে এবং ঘুরে দাঁড়াবে কিন্তু ভঙ্গুর দশা কাটাতে সময় লেগে যাবে বিস্তর।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ চীনের উহান থেকে যাত্রা শুরু করে এই পর্যন্ত গোটা পুথিবী দাপিয়ে লন্ডভন্ড করে দেশে অর্থনৈতিক কাঠামোকে। একের পর এক ঢেউ দিয়ে যাচ্ছে দেশে দেশে। আর কত ঢেউ পার করে করোনা পৃথিবী থেকে চলে যাবে এর কোন বয়ান আমরা এ পর্যন্ত জাতিসংঘ বা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বা কোন গ্লোবাল বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শুনিনি। করোনা সুনামির ঢেউ কোন দেশে কতবার আছড়ে পড়বে এর আগাম বার্তা দেয়ার ক্ষমতা মানব সম্প্রদায়ের নেই। তাই আমরা মানব সম্প্রদায় অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি করোনা নামক মহামারি পৃথিবীতে থাকার আয়ুষ্কাল কমিয়ে দেয়ার জন্য। আমরা সুস্থ সুন্দর পৃথিবী উপভোগ করতে চাই। আমার ফিরে পেতে চাই ভাইরাস মুক্ত পৃথিবী। এই প্রার্থনায় বর্তমান পর্যায়ে পৃথিবীর সকল ধর্মের মানব সন্দেহাতীতভাবে এক কাতারে দাঁড়িয়েছে। আমরা মানব সম্প্রদায় এক ভয়ানক গিরিখাদের দ্বারপ্রান্তে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি আর বলছি এ যাত্রায় আমাদের ছেড়ে দিন, আর ভুল হবে না।

লেখক : কলামিস্ট ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, দৈনিক ভোরের দর্পণ

আপনার মতামত লিখুন :