মাঝরাতে হেলসের ‘ভীতিকর’ মেসেজ, পিএসএল স্থগিতের নেপথ্য গল্প

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল ২০২০

করোনাভাইরাসের কারণে প্লে-অফ পদ্ধতি থেকে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের ফরম্যাটে ফিরে গিয়েছিল পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। সময় বাঁচানোর জন্যই কমিয়ে আনা হয়েছিল ম্যাচের সংখ্যা। তবু শেষ করা যায়নি এ টুর্নামেন্ট। স্থগিত হয়ে গেছে অনির্দিষ্টকালীন সময়ের জন্য।

স্থগিত হওয়ার আগে শেষ হয়েছিল টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডের সব ম্যাচ। বাকি ছিল শুধুমাত্র দুই সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচটি। সেটি মাঠে নামানো গেল না, কিন্তু কেন? টুর্নামেন্টের ফরম্যাটে বদল এনেও শেষমুহূর্তে বন্ধ করা হলো কেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়া হয়নি। জানানো হয়েছে করোনা সতর্কতার কারণেই আপাতত স্থগিত করা হলো পিএসএল। পরে পরিস্থিতি ও সময়-সুযোগ বুঝে খেলানো হবে বাকি থাকা তিন ম্যাচ। যদিও আপাতদৃষ্টিতে চলতি বছর আর পিএসএল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

পিএসএলের সবশেষ ম্যাচটি হয়েছে করাচি কিংস ও কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের মধ্যকার, ১৫ মার্চে। টুর্নামেন্ট স্থগিত করার পেছনে রয়েছে এই ম্যাচেরও বিশেষ অবদান। করাচি কিংসের হয়ে সেই ম্যাচটি খেলেননি ইংলিশ ওপেনার অ্যালেক্স হেলস। তবে তার এক মেসেজেই টনক নড়েছে আয়োজকদের।

সব দেশের ফ্লাইটের নিষেধাজ্ঞা শুরু হতে থাকায় ১২ মার্চের ম্যাচটি খেলেই ইংল্যান্ডে ফেরত যান হেলস। সেখানে ঢুকে যান ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে। কিন্তু প্রথম প্রথম তার অবস্থা ভাল মনে হচ্ছিল না নিজের কাছে। তাই সতর্ক করেছিলেন করাচির মালিক সালমান ইকবালকে।

পাকিস্তান সময় রাত ২টার সময় সালমান পেয়েছিলেন হেলসের এক ভীতিকর মেসেজ। যেখানে জানানো হয়েছিল, করোনা আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করছেন হেলস। তাই পিএসএলের সবার যেন পরীক্ষা করিয়ে নেয়া হয় দ্রুতই। আর এ কারণেই ঠিক পরদিন স্থগিত করে দেয়া হয় পুরো টুর্নামেন্ট।

প্রায় মাসখানেক পর বিবিসির এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন করাচির মালিক সালমান ইকবাল। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে তখন রাত ২টা বাজে। আমরা অ্যালেক্স হেলসের একটা মেসেজ পেলাম। ও লিখেছিল, “বস, আমার কোভিড-১৯ উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আমি মনে করি আপনাদের সবার পরীক্ষা করান উচিৎ।” এই মেসের পরপরই কোচ ডিন জোনস কল দিয়ে বলল, সে এখনই আমার সঙ্গে দেখা করতে চায়।’

সালমান বলতে থাকেন, ‘আমরা সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আপনার উপসর্গ থাকলে নিজেকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। আমি চেষ্টা করছিলাম হেলসের পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে। এমনকি লন্ডনে আমার ডাক্তারকেও বলেছিলাম, সে যদি হেলসের কাছে যেতে পারে। তবে তা হয়নি। শেষপর্যন্ত দলের সবার পরীক্ষা করা হয়। সবাই এতে ভয় পেয়ে গিয়েছিল এবং পরদিনই টুর্নামেন্ট স্থগিত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :