সুজনের ‘তুরুপের তাস’ তাসকিনের অভিষেকেই বাজিমাত

প্রকাশিত : ১১ মে ২০২০

ক্রিকেটে নেট বোলার থেকে ম্যাচ বোলার হয়ে সুনাম কুড়ানোর নজির প্রচুর। বিশেষ করে ক্লাব ক্রিকেটে এমন ভুরি ভুরি উদহারণ রয়েছে। তবে বিপিএলের মত বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট, যেখানে অনেক টাকার ছড়াছড়ি, বিশ্ব তারকাদের অবাধ উপস্থিতি- সেখানে কোন নেট বোলারের প্র্যাকটিসে সহায়ক ভূমিকা ছেড়ে মূল দলে জায়গা পাওয়া সহজ নয়।

অতিবড় বোদ্ধা, ঝানু কোচও হয়তো অমনটা করতে চাইবেন না। চাওয়ার কথা না। মূল কারণ দুটি। প্রথমত, বিশাল অর্থ লগ্নি করা ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের চাপ আর প্রতিপক্ষ দলে সব নামি আন্তর্জাতিক মানের তারকা ক্রিকেটারের উপস্থিতি। দুয়ে মিলে নেট বোলারকে ম্যাচ খেলানো রীতিমত ঝুঁকিপূর্ণ বলেই ভাববেন তারা।
কিন্তু শুনে ও জেনে অবাক হবেন, আজ থেকে প্রায় ৭ বছর আগে বিপিএলেই অমন বড়সড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন বাংলাদেশেরই এক কোচ, খালেদ মাহমুদ সুজন। নেটে তাসকিনের বোলিং দেখে মনে ধরেছিল তখনকার চিটাগাং কিংসের কোচ সুজনের।

তারপর তাসকিনকে হুট করে সুযোগ দিয়ে ফেললেন। তাও কোন কম গুরুত্বের রবিন লিগের ম্যাচে নয়। একদম এলিমিনেশন ফাইনালে। আর সে ম্যাচে সুযোগ পেয়েই ম্যাচ জেতানো বোলিং করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয়ে রীতিমত হইচই ফেলে দেন তাসকিন আহমেদ।

রোববার রাতে তামিম ইকবালের সঙ্গে ফেসবুক লাইভে তাসকিনের বিপিএল অভিষেকের গল্প শোনালেন সুজন। তখনকার নেট বোলার আজকের এক্সপ্রেস বোলার তাসকিনকে প্রথম সুযোগ দেয়ার গল্প শুরুর পর সঞ্চালক তামিমও ‘ইনপুট’ দেন। বলে রাখা ভাল, ঐ বিপিএলে তামিমও ছিলেন চিটাগাং কিংসে।

তামিমও অবলীলায় বলে দিলেন, সুজন ভাই আমারও মনে আছে। ঐ আসরে তাসকিন আমাদের নেট বোলারই ছিল। আজকের ফাস্টবোলার তাসকিন তখন আমাদের টিমের নেটে নিয়মিতই বোলিং করেছে।

এমনকি দলের অ্যানালিস্টেরও সায় ছিল না সুজনের এ সিদ্ধান্তে। সেসময়ের কথা মনে করে সুজন বলেন, ‘তাসকিনকে আমি যখন প্রথম খেলাই তখন সবাই বলছিল আমি কি পাগল হয়ে গেছি? এমনকি আমাদের অ্যানালিস্ট (নাসির আহমেদ) নাসু ভাইও বলছিলেন, কী করছিস সুজন? নেট বোলারকে সরাসরি বিপিএলের মত বড় আসরে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চান্স দিতে চাস?’

এসব কথায় দমে যাননি সুজন। অটল থাকেন নিজের সিদ্ধান্তে। শেষপর্যন্ত সেই নেট বোলারকেই রীতিমত তুরুপের তাস বানান খালেদ মাহমুদ সুজন। নিজে ঝুঁকি নিয়ে তাসকিনকে সুযোগ দেন একদম বাঁচা মরার ম্যাচ এলিমিনেশন ফাইনালে।

বিপিএলে অভিষেকেই আলো ছড়ানো তাসকিন

দিনটি ছিল ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের এলিমিনেশন ফাইনালে দূরন্ত রাজশাহীর সঙ্গে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সুযোগ পেয়েই বল হাতে দূর্বার তাসকিন। তিন ওভারে ৩১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলের জয়ের নায়ক, সেই সঙ্গে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

দূরন্ত রাজশাহীর দুই ওপেনার সায়মন ক্যাটিচ, চার্লস কভেন্ট্রি, জহুরুল ইসলাম অমি আর মুখতার আলি ফিরেছিলেন সেদিন তাসকিনের প্রচন্ড গতি আর বিষাক্ত সুইংয়ে। এর ভেতরে সায়মন ক্যাটিচ ও কভেন্ট্রিকে আউট করেন প্রথম ওভারের চার ও ছয় নম্বর বলে।

নেট বোলার থেকে ম্যাচ বোলার হয়েই সেরা পারফরমার। তারপর সেমিতে সিলেট রয়্যলসের বিপক্ষে এক উইকেটে পেলেও (৪ ওভারে ১/২৪) সুনিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ফাইনাল ম্যাচেও দলে অন্যতম স্ট্রাইক বোলার বনে যান তাসকিন।

পরে ফাইনালে মাশরাফি, সাকিব, আশরাফুল, এনামুল বিজয়দের ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের সঙ্গে তার দল চিটাগাং কিংস ৪৩ রানে হারলেও, নিজের ৪ ওভারে ২৮ রানে ২ উইকেট দখল করেন আজকের প্রতিষ্ঠিত ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ।

যিনি সে অর্থে মূল স্কোয়াডেই ছিলেন না। পরিচয় ছিল মূলত নেট বোলার হিসেবে। সেই ১৮ বছরের তাসকিনই বল হাতে আগুন ঝরিয়ে শেষ তিন ম্যাচে দলের অন্যতম স্ট্রাইক বোলার বনে গিয়েছিলেন। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। পরের বছরই সুযোগ পেয়ে যান জাতীয় দলে, খেলেন ২০১৫ সালের বিশ্বকাপেও।

আপনার মতামত লিখুন :