বিশেষ প্রতিবেদন ঠাকুরগাঁওয়ে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ

প্রকাশিত : ৩০ মার্চ ২০২০

ঠাকুরগাঁওয়ে ধীরে ধীরে বাড়ছে বিভিন্ন ফুলের চাষ। জেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের চাহিদা মিটিয়ে এখানকার ফুল এখন দেশের অন্যান্য জেলায় বিক্রি হচ্ছে। বিয়ে, জন্মদিন, পার্টিসহ নানান অনুষ্ঠানে ফুলের কদর রয়েছে। আর এই ফুলের চাহিদা কে মাথা রেখে কিছু উদ্যমি উদ্যোক্তা  ঠাকুরগাঁওয়ে বানিজ্যিক ভাবে ফুল চাষ  শুরু  করেছে। আগে ঠাকুরগাঁওয়ে নার্সারী পর্যায়ে ফুল চাষ ও চাড়া উৎপাদন হলেও বর্তমানে বানিজ্যিক ভাবে ফুল চাষ করে স্বাবলম্বি হচ্ছে চাষীরা। ঠাকুরগাঁওয়ের নারগুন, বেগুনবাড়ি, আশ্রম পাড়া, আকচা, বড়গাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক জন কৃষক এই ফুল চাষ শুরু করেছেন। অন্যান্য ফসলের চেয়ে ফুল চাষের পদ্ধতি সহজ এবং বীজ বপনের ৩ মাস পর থেকেই ফুল সংগ্রহ করা যায়। দামও তুলনা মূলক বেশী হওয়ায় লাভবান হচ্ছে চাষীরা। তাদের দেখে আগ্রহী হয়ে উঠছে অন্য কৃষকরাও ।

 বর্তমানে এ জেলায় গোলাপ, রজনিগন্ধা, গাদা, গ্লাডিওলাসসহ নানান জাতের ফুল চাষ হচ্ছে। ফুল চাষী জুম্মন খান জানান, কৃষি লোন ও সরকারের পৃষ্টপোষকতা পেলে তারা আরও বড় আকারে ফুলের চাষ করতে পাড়বে। বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী দিবস ও অনুষ্ঠানে ব্যাপক ফুলের চহিদা রয়েছে। শহরের চৌরাস্তার ফুল ব্যবসায়ী মিজান বলেন, আগে আমাদের যশোর থেকে ফুল আনতে হতো। এতে অনেক সমস্যার সম্মুখিন হতে হতো। তাই নিজেই ফুল চাষ শুরু করেছি। এখন নিজের বাগানের ফুল নিজেই বিক্রী করি।  ফুল চাষ বৃদ্ধির ফলে এক দিকে যেমন জেলার চাহিদা মিটছে অন্য দিকে অনেক কর্মস্থানেরর সৃষ্টি হয়েছে।

 
নারগুন গ্রামের ফুল বাগানে কাজ করে নবম শ্রেণীর ছাত্রী তপসা রাণী। সে জানায় ফুল বাগানে কাজ করে তার যা আয় হয় এ দিয়ে সংসার ও পড়াশুনার খরচ চালায় সে। শেফালী বেগম জানান ফুল বাগানে কাজ করে সে মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পায়। এ দিয়ে তার সংসার ভালই চলছে। ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফতাব হোসেন জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি ফুল চাষের জন্য উপযুক্ত। বানিজ্যিক ভিত্তিতে অন্যরা ফুল চাষে এগিয়ে আসলে অন্য অঞ্চলের মত এ জেলাও ফুল চাষে সমৃদ্ধ হবে। 

আপনার মতামত লিখুন :