ফেসবুক পেজে রিচ বাড়ানোর কিছু কৌশল

প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর ২০২১

ভোরের দর্পণ ডেস্কঃ

বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা এখন বেশ জনপ্রিয়। পেজ যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে প্রতিযোগিতা। এ কারণে আগের মতো এখন অরগ্যানিক ওয়েতে রিচ বাড়ছে না।

ব্যবসায় মন্দাও যাচ্ছে অনেকের। অপরদিকে এটাও মানতে হবে ফেসবুক ছাড়া ব্যবসা করা সহজ না। আর বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী তো কল্পনাই করা যায় না। অনেক সময় দেখা যায় পেজের অরগ্যানিক রিচ কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছে ব্যবসা।

অরগ্যানিক রিচ হচ্ছে, কোনো পেইড ডিস্ট্রিবিউশন ছাড়া অর্থাৎ বুস্টের মতো কাজ ছাড়া আপনার পেজ থেকে কত মানুষ আপনার কনটেন্ট দেখছেন, সেটিকে বলা হয়। পেইড প্রমোশন করলে আপনি তাৎক্ষণিকভাবে সুবিধা পেতে পারেন। একই সঙ্গে এটি আপনার অরগ্যানিক রিচে প্রভাবও ফেলতে পারে।

এই অরগ্যানিক রিচ অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। একটি পোস্ট দেওয়ার পর কত মানুষ ক্লিক করছেন, লাইক করছেন, কমেন্ট করছেন সেটির অনুপাতে ওই পোস্টটি ছড়াতে থাকে। পেজ বাড়ার কারণে ২০১৬ সাল নাগাদ অরগ্যানিক রিচ ৫২ শতাংশ কমে গেছে।

অরগ্যানিক রিচ যত বাড়বে আপনার পেজ তত সাবলীল থাকবে। আপনার কনটেন্ট অনুযায়ী ক্রেতা বা গ্রাহক পেজে আসবে। অরগ্যানিক রিচ বাড়লে আপনার ক্যাম্পেইন মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছাবে। একটা সময় পেইড ক্যাম্পেইনেও ক্লিকপ্রতি আপনার খরচ কমে যাবে। তবে খুব সহজ কিছু পদ্ধতিতে ফেসবুক পেজের অরগ্যানিক রিচ বাড়াতে পারেন। জেনে নিন উপায়গুলো-

  • শুধু পোস্ট দিলেই হবে না। প্রতিনিয়ত তা আপডেট করুন। যদি আপনি প্রতিদিন একই রকম কনটেন্ট দিতে থাকেন, তাহলে তা আপনার পেজের ফলোয়ারদের মধ্যে একঘেয়েমিতা সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়াও পেজের রিচ অনেকটাই নির্ভর করে পোস্টের গুণাগুণের ওপর। কনটেন্ট ভালো না হলে রিচ উল্টো কমতে থাকবে। তাই সময়োপযোগী বিভিন্ন ট্রেন্ড্রের সঙ্গে আপনার কনটেন্ট উপস্থাপন করুন। ফলে আপনি আপনার প্রোডাক্ট গতানুগতিক ধারার বাইরে একটু অনন্যভাবে প্রকাশ করতে পারবেন। এতে আপনার পেজের রিচও বাড়বে।
  • টাইমিং এর দিকে নজর রাখুন। কোন সময়ে, কোন দিনে পোস্ট দিলে তা বেশি ফলোয়ারদের এনগেজ করছে তা খেয়াল রাখবেন। কিছুক্ষণ পর পর আপডেট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। তার বদলে দিনের এমন একটা সময় বেছে নিন যখন ফলোয়াদের বেশি এনগেজমেন্ট থাকে। সেই সময়টিতে নতুন প্রোডাক্ট নিয়ে আপনার ফলোয়াদের জানান।
  • ফেসবুক যেহেতু আগ্রহের ভিত্তিতে চলে। তাই শুধু গতানুগতিক প্রোডাক্ট ও সার্ভিস পোস্ট না করে ভিডিওগ্রাফির সহায়তা নিতে পারেন। কারণ ভিডিও সব সময় ভালো রিচ করে। আপনার প্রোডাক্টের কয়েকটি ছোট ছোট ভিডিও পোস্ট করতে পারেন। মাঝেমাঝে লাইভেও আসতে পারেন। লাইভে আসলে পেজের ফলোয়ারদের সঙ্গে আপনার যোগাযোগও বাড়বে।
  • টার্গেট অডিয়েন্স সম্পর্কে পরিষ্কার জ্ঞান থাকতে হবে। পোস্টের লেখা ও ছবি টার্গেট অডিয়েন্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। আপনাকে জানতে হবে আপনার প্রোডাক্ট কারা কেনে, তারা কী ধরণের লেখা বা ছবি দেখতে চায়। প্রয়োজনে আপনার ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলাপ করেও জানতে পারেন তারা কি ধরণের আপডেট চান। ফেসবুক ইনসাইটস টুলস ব্যবহার করলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার টার্গেট অডিয়েন্স আসলে কোন বয়সী এবং তারা কেমন কনটেন্ট বেশি পছন্দ করছেন।
  • রিভিউ দিতে ক্রেতাদের উৎসাহিত করুন। ধরুন আপনার বিক্রি করা প্রোডাক্টটি ক্রেতার অনেক পছন্দ হয়েছে। তখন আপনি তাকে আপনার পেজে প্রোডাক্টটি সম্পর্কিত একটি রিভিউ দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারেন। এতে নতুন ক্রেতারাও আপনার পেজ থেকে প্রোডাক্ট কিনতে সাহস পাবে।
  • মনে রাখবেন, শুধু বেশি বেশি পোস্ট করাই অরগ্যানিক রিচ করার কোনো সমাধান নয়। আপনার কনটেন্টে কিছুটা বৈচিত্র্য আনুন, ফলোয়ারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন, তাদের চাহিদা বুঝতে চেষ্টা করুন। এর মাধ্যমে অনেকখানি রিচ এমনিতেই বেড়ে যাবে।

ফলোয়ারদের কাছে প্রশ্ন রাখার মাধ্যমে পেজের এনগেজমেন্ট বাড়াতে পারেন । এজন্য আপনি আপনার পেজের ফলোয়ারদের বিভিন্ন প্রশ্ন করতে পারেন। যেমন পরবর্তীতে তারা আপনার পেজ থেকে কেমন প্রোডাক্ট আশা করছে তা প্রশ্ন করতে পারেন। কিংবা কোনো উপদেশ চাইতে পারেন। দেখবেন, আপনার পোস্টে কমেন্ট পরতে শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :