মিয়ানমারে বিক্ষোভে গুলিবিদ্ধ তরুণীর মৃত্যু, বিচার দাবি

প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ভোরের দর্পণ ডেস্ক:

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে গুলিবিদ্ধ ২০ বছর বয়সী তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে এটাই কোনো মৃত্যুর ঘটনা।

গেল সপ্তাহে জলকামান, রাবার বুলেট এবং গুলি চালিয়ে পুলিশ যখন বিক্ষোভেকারীদের ছত্রভঙ্গ করছিল তখন মায়া থ্যা থ্যা খাইং আহত হন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, পুলিশের গুলিতে মায়া আহত হন।

অং সান সূ চি’র নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মিয়ানমারে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ চলছে।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় রাজধানী নেইপিদোর একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান বলে জানানো হয়। পরিবার জানায়, রোববার শেষকৃত্যানুষ্ঠান হবে।

একজন চিকিৎসক ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আমরা বিচার চাই। বিচারের জন্য লড়াই চলবে। তিনি আরও বলেন, আহত মায়াকে  হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়ার পর থেকে তাদের নানা ধরনের চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা মামলাটি তদন্ত করবে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মায়া ২০ বছরে পা রাখেন। ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

তিনি জান্তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ তাদের ওপর জলকামন, রাবার বুলেট এবং গুলি ছোড়ে।

বিবিস বার্মিসকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, মায়াকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল।

মায়া এবং তার পুরো পরিবার অং সান সূ চি’র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সমর্থক। তার ভাই জানান, নভেম্বরে তিনি প্রথমবারের মতো ভোট দেন। ওই নির্বাচনে এনএলডি ভূমিধস জয় পায়।

মায়া থ্যা থ্যা খাইংয়ের মৃত্যুর পর সংক্তিপ্ত বক্তব্যে তার বোন মায়া থা তোয়ে এনইউ সাংবাদিকদের শুক্রবার বলেন, বর্তমান শাসকের হাত থেকে মুক্তির জন্য বিক্ষোভে অংশ নিতে সকল নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

এসবের মূলে কী

সূ চি’র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দেশটির নভেম্বরের নির্বাচনে ভূমিধস জয় পায়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয়।

সেনাবাহিনীর দাবি, এনএলডি জালিয়াতি করে নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, নির্বাচনে কারচুপির কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু সামরিক বাহিনী জালিয়াতি করা ভোট ফেরত দেয়ার দাবি জানায়।

বর্তমানে দেশটির কমান্ডার ইন চিফ মিং অং হ্ল্যাং ক্ষমতায় আছেন। সূ চি গৃহবন্দি।

প্রথমে সূ চির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ওয়াকিটকি ব্যবহারের অভিযোগে মামলা হয়। পরে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ভঙ্গের দায়ে দ্বিতীয় দফায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সবশেষ মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

বিক্ষোভকারীরা সূ চিসহ এনএলডি’র শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছেন। অভ্যুত্থানবিরোধী চলমান বিক্ষোভকে দেশটিতে ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত কথিত জাফরান বিপ্লবের চেয়ে বৃহৎ বলে আখ্যা দেয়া হচ্ছে।

চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী এবং আন্দোলকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। আন্দোলন দমাতে ইন্টারনেট পরিষেবার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে যাচ্ছে জান্তা সরকার।

মিয়ানমারের মূল পরিচয়

মিয়ানমার বার্মা নামেও পরিচিত। ১৯৬২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দেশটি সামরিক বাহিনীর কঠোর শাসনে থাকায় একে জাতিবিচ্যুত রাষ্ট্র বলেও দীর্ঘদিন অভিহিত করা হয়। ২০১০ সালে সামরিক শাসন থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০১৫ সালে সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির জ্যেষ্ঠ গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সূ চি’র সরকার গঠন হয়।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর ভয়াবহ নৃশংসতা চালায়। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয় অন্তত ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সেনাবাহিনীর নৃশংসতাকে পাঠ্যপুস্তকে উল্লেখিত গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করেছে জাতিসংঘ।

নভেম্বরের নির্বাচনে এনএলডি বিশাল জয় পাওয়ায় ১ ফেব্রুয়ারি সূ চি’র সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী।

আপনার মতামত লিখুন :