যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যু ৬৫ হাজার ছাড়াল

প্রকাশিত : ৩ মে ২০২০

মহামারি করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া সবশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজার ১৭৩ জন কোভিড-১৯ রোগী মারা গেছেন। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১১ লাখ ৬ হাজার ৩৭৩ জন।

চীনে প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও করোনায় বিপর্যস্ত হওয়ার শীর্ষে এখন যুক্তরাষ্ট্র। আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধারেকাছেও নেই কোনো দেশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ২৮ হাজার ৭১০ জন। আর ২ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি আক্রান্ত নিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্য-অঞ্চলে করোনার প্রকোপ মহামারি আকার ধারণ করেছে। সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল ওই অঙ্গরাজ্যে ২৪ হাজার ৩৬৮ জন মারা গেছে। আক্রান্ত প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার; যা বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক বেশি।

এছাড়া নিউ জার্সিও বিপর্যস্ত। শুধু ওই অঙ্গরাজ্যে করোনায় শনাক্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার মানুষ। যাদের মধ্যে ৭ হাজার ৭৪২ জন ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন। নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির পর সংক্রমণের হিসাবে তালিকায় উপরে রয়েছে ম্যাসাচুসেটস, ইলিনয়, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান ও কানেক্টিকাট।

এই অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির অর্থনীতি পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে তোড়জোর চালাচ্ছেন তিনি। এরমধ্যে আলাবামা, ইডাহোর মতো রাজ্যগুলো লকডাউন প্রত্যাহার করছে। স্টে-অ্যাট-হোম অর্ডার বাতিল করেছে ২ কোটি ৯০ লাখ বাসিন্দার রাজ্য টেক্সাসও।

জরুরি প্রয়োজনে ‘রেমডেসিভির’ ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা জানান। মহামারি ইবোলার জন্য তৈরি ওষুধ রেমডেসিভির করোনা রোগীদের প্রয়োগ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আশাব্যঞ্জক কথা শোনা যাচ্ছিল।

লকডাউন প্রত্যাহার করতে হলে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতে হবে মন্তব্য করে ট্রাম্পের বদ নজরে পড়েছেন শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি। ট্রাম্পের বক্তব্য, যথেষ্ট পরিমাণে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি করার প্রয়োজন নেই। সামনে নির্বাচন তাই ব্যবসা-বাণিজ্য চালুর জন্য মরিয়া ট্রাম্প।

এদিকে করোনা মোকাবিলা পরিস্থিতি নিয়ে অ্যান্থনি ফাউসিকে তলব করেছে মার্কিন কংগ্রেস। কিন্তু ট্রাম্পের নির্দেশে হোয়াইট হাউস থেকে তার কংগ্রেসে হাজির হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস বলছে, এই প্রক্রিয়ায় সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সাক্ষ্যদান করাটা ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ হবে।

আপনার মতামত লিখুন :