শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা ভারতেও

প্রকাশিত : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনা পরিস্থিতিতে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য ২১ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল খোলার বিষয়ে আচরণবিধি প্রকাশ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওই আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষার জন্য স্কুলের প্রধান ফটকে থার্মাল গান রাখতে হবে।

এছাড়া সকলের মুখে মাস্ক বা কাপড়ের আচ্ছাদন থাকতে হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্কুল খোলার আগে ক্লাসরুম, অফিস, গ্রন্থাগার, পরীক্ষাগার স্যানিটাইজ় করতে হবে। দরজার হাতল, সিঁড়ির রেলিং, বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল, ডেস্ক, শৌচাগারে জলের কল ইত্যাদি জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে।

যে সমস্ত স্কুলে কোয়রেন্টিন সেন্টার হয়েছিল, সেগুলো খোলার আগে ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ওই আচরণবিধিতে আরও বলা হয়েছে, স্কুলে হাজিরার হার ৫০ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। অনলাইন ক্লাসও চালু থাকবে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে চাইলে অভিভাবকের অনুমতি জরুরি।

এদিকে এ বিষয়ে টুইট করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁন্ধী। তিনি লিখেছেন, ‘করোনা পরিস্থিতি সামলাতে মোদী সরকারের ব্যর্থতার ফলে ভারতের আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সপ্তাহান্তে ভারতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা আমেরিকা ও ব্রাজিলের মিলিত সংখ্যার চেয়ে বেশি। রবিবারে সারা বিশ্বের ৪০ শতাংশ নতুন রোগীর সন্ধান মিলেছে শুধু ভারতে।’

আচরণবিধি মোতাবেক নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ক্ষেত্রে কন্টেনমেন্ট জ়োনে স্কুল বন্ধ থাকবে। সেখানকার বাসিন্দারাও স্কুলে যেতে পারবেন না, বায়োমেট্রিক হাজিরা বন্ধ থাকবে। স্কুলে গেলে অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে যেতে হবে। এছাড়া হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও স্কুলেরই সমস্ত নিয়ম। পাশাপাশি উপসর্গহীন শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল খুলতে হবে। ১৪ দিনের কোয়রেন্টিনের পরে ক্লাসে যাওয়া যাবে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ-ক্রমে উচ্চশিক্ষা দফতরের অনুমতি জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে সংক্রমিতের সংখ্যা পরপর গত দু’দিন নব্বই হাজারের গণ্ডি পেরোনোর পরে আজ বুধবার ৭৫ হাজারে নেমে এসেছে। কিন্তু এ চিত্র ভবিষ্যতেও নিম্নগামী হবে, এমন আশ্বাস দিতে পারেননি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, সাধারণ মানুষদের একাংশ গা-ছাড়া মনোভাব নিচ্ছেন বলে রাজ্যগুলো থেকে অভিযোগ। নীতি আয়োগের সদস্য (স্বাস্থ্য) ভি কে পল বলেন, ‘উপসর্গ থাকলে নিজে থেকে পরীক্ষা করাতে এগিয়ে আসা দরকার।’ মাস্ক পরা, হাত পরিষ্কার রাখা, পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো স্বাস্থ্যবিধি ফের মনে করিয়ে দেন তিনি।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব বলেছেন, ভারতে প্রতি দশ লাখে সংক্রমিতের সংখ্যা তিন হাজার ১০২ জন, যা বিশ্বের সবচেয়ে কম পরিসংখ্যানগুলোর একটি। সারা বিশ্বে প্রতি দশ লাখে কোভিডে মৃত্যুর গড় ১১৫ হলেও ভারতে তা মাত্র ৫৩ বলে দাবি করেছেন তিনি। খবর: আনন্দবাজার।

আপনার মতামত লিখুন :