বাইডেন জিতলে যুক্তরাষ্ট্র দখলে নেবে চীন :ট্রাম্প

প্রকাশিত : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আক্রমণ ট্রাম্পের ট্রাম্পকে দসু্য ও বর্ণবাদী বললেন সাবেক আইনজীবী

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এর মধ্যেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু নির্বাচনের সময় যতই এগিয়ে আসছে, প্রার্থীরা ততই একে অন্যের সঙ্গে বাগ্‌বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন যদি নির্বাচনে জয়ী হন, তবে যুক্তরাষ্ট্র দখলে নেবে চীন। সংবাদসূত্র : রয়টার্স, বিবিসি ট্রাম্প বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডাবিস্নউটিও) চীনের প্রবেশকে সমর্থন করেন বাইডেন। তিনি বলেন, বাইডেন নাফটার প্রতি সমর্থন দিয়েছেন; এমনকি তিনি ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনে চীনের অংশগ্রহণ সমর্থন করেন। ট্রাম্পের দাবি, ‘আমরা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার দিকে তাকিয়ে আছি। তারা আমাদের সঙ্গে খুবই ভালো আচরণ করছে। তারা আমাদের সঙ্গে নরম সুরে কথা বলছে।’ তার মতে, চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতি অনুসরণ করে না। চীনের প্রতি এ কারণেই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আচরণ ভালো নয়। এরপরই তিনি বাইডেনের কথা উলেস্নখ করে বলেন, ‘তিনি নির্বাচনে জয়ী হলে আমাদের দেশের দখল নেবে চীন।’ ট্রাম্প দাবি করেন, তার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র উৎপাদনে শক্তিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই যেন দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে।

 

এর আগে কোনো মার্কিন নির্বাচনে এত তিক্ততা আর সামাজিক বিভাজন দেখা যায়নি। চলতি বছরের আসন্ন এই নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য লড়াই করছেন ট্রাম্প। প্রতিপক্ষ জো বাইডেনের সমর্থকদের উদ্দেশে সম্প্রতি তিনি হুঁশিয়ার দিয়েছেন, নৈরাজ্যবাদীদের যেভাবেই হোক যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে উচ্ছেদ করবেন তিনি। অপরদিকে, এই নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের মেয়াদকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক কালো অধ্যায় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, মার্কিন জনগণের একতা এই কালো অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাবে। এভাবেই চলছে একে অপরকে আক্রমণ। নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে যা নতুন নয়। এদিকে, বাইডেনকে ‘বেকুব’ বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। বাইডেন করোনাভাইরাস টিকাবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন অভিযোগ করে এরজন্য তাকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন ট্রাম্প। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন বাইডেন, তার প্রতিক্রিয়ায় সোমবার এসব কথা বলেন ট্রাম্প। সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নজিরবিহীন আক্রমণ মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নজিরবিহীন আক্রমণ চালিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। সোমবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি বলছি না যে, সামরিক বাহিনী আমার প্রেমে পড়েছে, সেনারা এবং সম্ভবত পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও নয়। কারণ তারা যুদ্ধ ছাড়া কিছুই চান না, যাতে বোমা এবং বিমান প্রস্তুতকারী বিচিত্র সব কোম্পানি খুশি থাকে।’ ট্রাম্প এমন এক সময় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, যখন দেশটির বেশ কিছু প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পেন্টাগনের নেতৃত্বের সম্পর্ক ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকর হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন। যুদ্ধে নিহত মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা এবং প্রবীণ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করে সম্প্রতি দেশটিতে সমালোচনার মুখে পড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে ‘দ্য আটলান্টিক’ ম্যাগাজিন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত সেনাদের নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের খবর প্রকাশের পর সমালোচনা শুরু হয়। ট্রাম্পকে দসু্য ও বর্ণবাদী বললেন সাবেক আইনজীবী অন্যদিকে, ট্রাম্প একজন দসু্যর মতো আচরণ করেন এবং সব কৃষ্ণাঙ্গ সম্পর্কে তার বাজে ধারণা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাবেক আইনজীবী মাইকেল কোহেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারণায় অবৈধ আর্থিক লেনদেনসহ একাধিক অপরাধের কারণে কারাভোগ করছেন কোহেন। কারাগারে বসে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে লেখা ‘ডিজলয়্যাল : এ মেমোয়ার’ বইয়ে এসব অভিযোগ করেছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :