মৌসুমীপুত্র ফারদিন: মায়ের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছেন জায়েদ

প্রকাশিত : ১৪ জুন ২০২২

ভোরের দর্পণ ডেস্কঃ

গত কয়েকদিন ধরে চলচ্চিত্র অভিনেতা জায়েদ খান ও ওমর সানীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরগরম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ঢালিউডপাড়া। এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন চিত্রনায়িকা ও ওমর সানীর স্ত্রী মৌসুমী। তিনি জায়েদ খানের বিরুদ্ধে করা ওমর সানীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সোমবার (১৩ জুন) দুপুরে মৌসুমী এক অডিও বার্তায় বলেন, “জায়েদ ভালো ছেলে। তিনি তাকে কখনো বিরক্ত করেননি। তার সঙ্গে মৌসুমীর শুধু পেশাগত সম্পর্ক।”

মৌসুমীর এমন বক্তব্যের পর ওমর সানী আবারও দাবি করেন, বিরক্ত করার যাবতীয় তথ্য প্রমাণ তাদের ছেলে ফারদিনের কাছে রয়েছে।

এসব বিষয় নিয়ে মৌসুমী-সানীর ছেলে ফারদিন এহসান স্বাধীনের সঙ্গে কথা বলেছে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো।

ফারদিন সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, “আমার আব্বা এত বছর ধরে চলচ্চিত্র আছেন, তিনি তো না বুঝে কথা বলবেন না। আর যাকে নিয়ে অভিযোগ এসেছে, তাকে (জায়েদ খান), দিয়ে তো সব সম্ভব। এর চেয়ে বেশি নোংরা কিছু করা সম্ভব। সবকিছুই সম্ভব। তবে তাকে আমার ফ্যামিলির জন্য কোনো একটা ইস্যু বা টিস্যু কোনো কিছুই মনে করি না।”

ফারদিন বলেন, “আমার বাবা সিনিয়র, তিনি (জায়েদ) বেয়াদবি করছেন। এ বেয়াদবির কারণে একটা থাপ্পড় দিয়ে বসেছেন। থাপ্পড়ের পর যদি তিনি পিস্তল বের করেন, সেটা তো অবশ্যই দুঃখজনক। এই শিক্ষাটা তো আমি আমার বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাইনি। বাট আমাদের ফ্যামিলিতে জায়েদ খান কীভাবে ক্ষতি করতে চাচ্ছেন, এটা বলতে গেলে লম্বা ঘটনা। তিনি থাপ্পড় খাওয়ার যোগ্য দেখেই থাপ্পড় খেয়েছেন। আর আমার বাবা পাগল না। বুঝেই সেসব করেছেন। মায়ের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছেন তিনি। তাকে প্রপারলি শাস্তি দিয়েছেন আব্বা।”

ফারদিন আরও বলেন, ‘“আমার আম্মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। বলেছিলাম মা, তুমি যে অডিও বাইটের প্রথমে বা লাস্টে যে বললে, কী বললে? জানাতে চেয়েছিলাম, বিশ্রী একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। (কারণ, সিচুয়েশনটা আগলি না।) এটা সমাধান করতে হবে ঘরোয়াভাবে। এটা গণমাধ্যম পর্যন্ত যাওয়া লাগবে না। বা চলচ্চিত্রে সিনিয়রেরা আছেন তারাই বিষয়টি সমাধান করতে পারেন।”

তখন আপনার মা মৌসুমি কী বলেছিলেন, জানতে চাইলে ফারদিন বলেন, “তখন মা বলেন, দেখ বাবা আমি তো তখন রাগের মাথায় বলেছি। তোমার বাবার সঙ্গে একটু রাগারাগি হয়েছে। সেভাবেই বলেছি। আমি কিন্তু মিথ্যাচার করছে সানী এটা ডিরেক্ট বলি নাই। যতটুকু বলেছি, আমি রাগের মাথায় বলেছি।”

ফারদিন বলেন, “চিত্রনায়িকা মৌসুমির পেছনে একটি মানুষ আছে। মানুষ রাগ করে অনেক সময় অনেক কিছু বলে। আম্মু আব্বুর ওপর রাগ করে কথাগুলো বলেছেন।”

ফারদিন আরও বলেন, “মা বলেছেন বাবার সঙ্গে কিছুটা রাগারাগি হয়েছে। আমার দর্শক ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী যারা একটু কষ্ট পাচ্ছেন, আমি একটু সুস্থ হলেই আবার অডিও বার্তা হোক, ভিডিও বার্তা হোক, যেভাবেই হোক আমি মনের কথা জানাব। আর বাবা–মায়ের মধ্য কিছুটা মনোমালিন্য হয়েছে, এর মানে এই নয়, সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়ে যাবে। তেমন কিছু না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে জায়েদ খানকে কিছুই মনে করি না। আর ফ্যামিলির জন্য তো আরও কিছুই না। এখন কাউকে যদি ক্ষতি করতে চান, তাহলে তার ব্যবসাকে ঘাই দেওয়ার চেষ্টা করবেন, তার পরিবারের ক্ষতি করার চেষ্টা করবেন। জায়েদও তাই করেছেন।”

জায়েদ খান ফারদিনের ব্যবসারও ক্ষতির চেষ্টা করেছেন এমনটা উল্লেখ করে এই তারকা সন্তান বলেন, “তার তো কোনো সিনেমা নেই, কোনো কাজ নেই। কাজ না থাকলে যা হয়। আমরা সবাই ব্যস্ত থাকি। তার না আছে ক্যামেরার জীবন, না আছে অন্য জীবন। যার কিছুই থাকে না, তার টার্গেট থাকে যার কিছু থাকে তারটা নিয়ে সে নষ্ট হবে বা তারটা নিয়ে সে ভালো হবে। এটা ইন্ডাস্ট্রির সবাই জানে। এফডিসির সবাই আমার পরিচিত। আঙ্কেল খালা মামা। আমি ইন্ডাস্ট্রির ভাগনে, ভাতিজা, ছেলে। তাদের কে বলতে হয় জায়েদ খান নিম্ন মানের মানুষ। আমি গত তিন চার মাস ধরেই বুঝে আসছি জায়েদ ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন। একদিন রাতে তিনি আমাকে পুলিশকে দিয়ে ফোনও দিয়েছে। তাকে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই পছন্দ করেন না।”

প্রসঙ্গত, শুক্রবার ঢাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে অভিনেতা ডিপজলের ছেলের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার অনুষ্ঠানে চিত্রনায়ক জায়েদ খানকে অভিনেতা ওমর সানী চড় মেরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় জায়েদ খানও পিস্তল বের করে ওমর সানীকে গুলি করার হুমকি দেন বলেও জানা যায়।

ওমর সানীর দাবি, তার স্ত্রী চিত্রনায়িকা চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে বিরক্ত করায় তিনি জায়েদ খানকে চড় মেরেছেন। তবে জায়েদ খান প্রথম থেকেই চড় দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করে আসছিলেন। এমনকি, তার সঙ্গে পিস্তল ছিল না বলেও জানান এ অভিনেতা।

পরবর্তীতে রবিবার  জায়েদ খানের বিরুদ্ধে রবিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওমর সানী। অভিযোগে তিনি জায়েদ খানের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী এবং চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে হয়রানি ও বিরক্ত করার অভিযোগ আনেন। এমনকি, জায়েদ খান তাদের সুখের সংসার ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :