অভিনেতা হওয়ার সুযোগই কপালে জুটেনি: এটিএম শামসুজ্জামান

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ভোরের দর্পণ ডেস্ক:

তার ইচ্ছা ছিল লেখক হওয়ার। কিন্তু বাবা চেয়েছিলেন উকিল বানাতে। অভিনয় শুরুর পর বাবা নুরুজ্জামান তাকে বাড়ি থেকেই বের করে দিয়েছিলেন। তখন পাশের গলির এক বাসায় থাকতেন তিনি। বলছিলাম কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের কথা। চলচ্চিত্রে অভিনয় করে যিনি পরিচিতি পেয়েছেন সর্বত্র।

সাংবাদিক রণেশ দাসগুপ্তকে লেখালেখির গুরু মানতেন এটিএম শামসুজ্জামান। লেখা শেষ করেই দেখাতেন তাকে। ক্যারিয়ারের শুরু দিকে নাটকের ‘প্রমট’ করতেন তিনি। পেতেন ২০ টাকা। বাবা বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় সূত্রাপুরের একটি হোটেলে তিন বেলা খাওয়াদাওয়া করতেন।

ছোটবেলা থেকেই সিনেমার পোকা ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান। প্রথম সিনেমা দেখেছিলেন মায়ের সঙ্গে, নিউ পিকচার হাউসে। মায়ের সঙ্গে সিনেমা দেখতে দেখতেই অভিনয়ের প্রতি দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল। সেই থেকেই অভিনয়ে আসা। জীবনের শেষ মুহূর্তেও অভিনয় করতে চেয়েছিলেন তিনি।

গত বছর শুরু দিকে পিজি হাসপাতালের বিছানায় বসে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন আক্ষেপের কথা। বলেছিলেন, ‘আমি যা করতে চেয়েছিলাম তা আজও পর্যন্ত আমি করতে পারিনি। আমাকে অভিনয় করার সুযোগ দেয়নি। আমি সুযোগ পেয়েছি আবু ইসহাক চৌধুরীর ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’, আমজাদ হোসেনের ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ সিনেমাগুলোতে। এগুলোতে আমি অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি।’

আক্ষেপ করে তিনি আরও বলেন, ‘দেশ যখন স্বাধীন হলো ভারত থেকে তখনকার প্রথম পরিচালক হলেন রাজেন তরফদার। ‘পালঙ্ক’ সিনেমা নিয়ে এসেছিলেন, তিনি আমার খোঁজ নেননি। তারপর ঋত্বিক ঘটকও আমার খোঁজ নেননি। ভালো অভিনেতা হওয়ার সুযোগই আমার কপালে জুটেনি।’

বড় এবং ছোটপর্দায় সরব উপস্থিতি ছিল গুণী এ অভিনেতার। চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। অভিনেতা হিসেবে তার যাত্রা ১৯৬৫ সালে। ‘ন্যায়ি জিন্দেগি’ তার সিনেমার সিনেমা, মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায় তার এ সিনেমার কাজ। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। তারপর অভিনয় করেছেন তিন শতাধিক সিনেমায়।

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সূত্রাপুরের ৪৬ দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এ অভিনেতা। এখানেই বেড়ে উঠেছেন এটিএম শামসুজ্জামান। যদিও তার জন্ম নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে। সবার পরিচিত এবং ভালোবাসা এ অভিনেতার মৃত্যুতে কান্নার শব্দে ভারী হয়ে উঠেছে ৪৬ দেবেন্দ্রনাথ দাস লেন। ওপারে ভালো থাকবেন কিংবদন্তি। সবার মতো এমন প্রত্যাশা আমাদেরও।

আপনার মতামত লিখুন :