মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে জাককানইবি ছাত্রলীগ

প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর ২০২১

মো. আরাফাত রহমান: জাককানইবি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) ইউনিট বছরের পর বছর চলছে একই কমিটি দিয়ে । এতে নতুন নেতৃত্ব যেমন তৈরি হচ্ছে না, তেমনি সাংগঠনিক চেইনও ভেঙে পড়েছে। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ‌্যে আছে অসন্তোষ, ক্ষোভ ও হতাশা। তাই অবিলম্বে ও দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন করে সংগঠনকে চাঙ্গা করার দাবি জানিয়েছেন জাককানইবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

দেশের অন্যতম প্রাচীন ছাত্রসংগঠনটির এই ইউনিটের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে সাড়ে ৩ বছর আগে। অথচ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এখনো দিব্যি সেই কমিটি নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। কমিটির মেয়াদ শেষ হয়, নেতৃত্ব ফুরায় না। গত কয়েক বছরের কার্যক্রম দেখলে জাককানইবি ছাত্রলীগের ক্ষেত্রে কথাটি সহজেই বলা যায়।

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নিয়ে এভাবেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) শাখা ছাত্রলীগ। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এতে একদিকে যেমন কমিটির নেতারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে অপরদিকে তৈরি হচ্ছে গ্রুপিং, বাড়ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, রাজনীতি ছেড়ে সরে যাচ্ছেন অনেকেই। শাখা ছাত্রলীগেরে ভিতরে-বাইরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের অধিক দৌরাত্মের কারণে নতুন কমিটি হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।

জানা যায়, গত ২০১৭ সালের ৭ মে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস. এম. জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নজরুল ইসলাম বাবু ও রাকিবুল হাসান রাকিবকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক বছরের জন্য আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর সাড়ে ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি কমিটি ।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ‘জাককানইবি ছাত্রলীগ ‘। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির বিষয়ে কোনো উল্লেখ করা নেই। তবে গঠনতন্ত্রের ৬ (জ) ধারায় উল্লেখ আছে, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ সাংগঠনিক জেলা হিসেবে গণ্য হবে।’ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে জেলা শাখার সমতুল্য বলে গণ্য করা হলে এ কমিটির মেয়াদকাল হবে এক বছর। সে হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সাড়ে তিন বছর ধরে চলছে এ কমিটি।

জাককানইবি ছাত্রলীগের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান কমিটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে । এদিকে বর্তমান ছাত্রলীগ কমিটির মেয়াদ সাড়ে ৪ বছর পার হওয়ায় দেখা দিয়েছে গ্রুপিং। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সকল বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কেবল একটি সিন্ডিকেটেরই আধিপত্য । প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা , আবাসিক হলের প্রভোস্ট সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ দেয়া হয় শুধুমাত্র একটি সিন্ডিকেটের দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে । তৃণমূল পর্যায়ের অন্যান্য নেতাকর্মীরা হচ্ছেন অবমূল্যায়নের শিকার । দিনের পর দিন একটি সিন্ডিকেটের বেপরোয়া আধিপত্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের মাঝে । কবে নাগাদ নতুন কমিটি হবে তাও জানে না কেউ ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাককানইবি ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, ছাত্রলীগের অনেক কর্মীকে তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করেও কোনও পরিচয় ছাড়াই ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে যা একজন কর্মীর কাছে অনেক কষ্টের বিষয় । ১ বছরের কমিটি প্রায় ৫ বছর ধরে কোনভাবেই থাকতে পারে না, যা ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী। এতে করে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে ব্যাঘাত ঘটছে।

হল কমিটির বিষয়ে ছাত্রলীগের অন্য এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন হল কমিটি পূর্ণাঙ্গ না করে চার-পাঁচটি ব্যাচকে কর্মী বানিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। সাংগঠনিক নাম-পরিচয় নেই কারো। এ অবস্থার কারণে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

আপনার মতামত লিখুন :