কুবির অনলাইন ক্লাসের আদ্যোপান্ত

প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

কাতিব হাসান মুরাদ, কুবি প্রতিনিধি:

করোনা প্রেক্ষাপট বিবেচনায় গত জুলাই মাসের ১৫ তারিখ থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়। এর আগে ২৭ জুন এ সংক্রান্ত সভায় নেয়া সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রকাশিত হয় নির্দেশনামূলক বিজ্ঞপ্তি। তবে অনলাইন ক্লাস শুরু হলেও নির্দেশনার বাস্তবায়নে বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যাচ ভেদে ফুটে উঠেছে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কিছু বিভাগে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না অথবা ক্লাস হলেও রেকর্ড করা হচ্ছে না।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, একই বিভাগে ব্যাচভেদে ক্লাস নেয়ার পরিমাণে বেশ তারতম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অপরদিকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও অনলাইন ক্লাসে কম। তবে কিছু বিভাগে ব্যতিক্রমও ঘটছে। সেসব বিভাগে নিয়মিত অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে সিলেবাস শেষ করার পর নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস।

 

এদিকে শিক্ষকরা অনলাইন ক্লাস বিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করতে পারার পেছনে প্রযুক্তিগত বা ইন্টারনেট সংযোগে ত্রুটি, শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস বিমুখ আচরণ, অনভিজ্ঞতাসহ নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার কথা বলছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে উঠে এসেছে অনলাইন ক্লাসের হালচাল। বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ফার্মেসি বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচ ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস খুবই কম সংখ্যক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফার্মেসি বিভাগের কোনো কোনো ব্যাচের একটি সেমিস্টারের ক্লাস শেষ হলেও পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস এখনো শুরু না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ রয়েছে গণিত বিভাগের কোনো কোনো কোর্সের ক্লাস সংখ্যার অপ্রতুলতা নিয়েও। তবে পরিসংখ্যান ও রসায়ন বিভাগের নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

 

অপরদিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত প্রতœতত্ব বিভাগে ব্যাচ ও কোর্সভেদে অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত ক্লাস, কোনো ব্যাচে ৫টি কোর্সের মধ্যে ৩টি কোর্সে অনলাইন ক্লাস হওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে। প্রতœতত্বের প্রায় প্রতিটি ব্যাচে গড়ে ২২-৩০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। নৃবিজ্ঞান বিভাগে বেশিরভাগ কোর্সেই নিয়মিত অনলাইন ক্লাস হচ্ছে। তবে তাদেরও অনলাইন ক্লাসের রেকর্ড না থাকা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। একই অনুষদের অর্থনীতি বিভাগের ব্যাচ ও কোর্স ভেদে গড়ে ৫-৬টি করে ক্লাস হয়েছে। সব ব্যাচেই রয়েছে ক্লাস রেকর্ডিংয়ের সমস্যা। অনুষদটির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগেও অনিয়মিত ক্লাস নেয়া এবং ক্লাস রেকর্ড না থাকার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে স¤প্রতি একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ১৫তারিখের ভেতর সিলেবাস শেষ করার সিদ্ধান্তের পর ক্লাসে গতি এসেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

 

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের সব ব্যাচেই মোটামুটি অনলাইন ক্লাস হলেও কোন ব্যাচেই সুনির্দিষ্টভাবে রেকর্ডিংয়ের সুবিধা নেই। এছাড়া, এক সেমিস্টারের ক্লাস শেষ হওয়ার পর
অন্য সেমিস্টারের ক্লাস হবে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা পাননি শিক্ষার্থীরা। আইন অনুষদভুক্ত আইন বিভাগে অনিয়মিত অনলাইন ক্লাস ও ক্লাস রেকর্ড করা বিষয়ক কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে
একাডেমিক কাউন্সিলের সা¤প্রতিক সভার পর তাদেরও ক্লাসে গতি এসেছে।

 

 

কলা ও মানবিক অনুষদের ইংরেজি বিভাগে কোনো কোনো ব্যাচে কোর্সভেদে প্রায় ৩-৬ টি করে ক্লাস হয়েছে। কোনো ব্যাচের ৫টি কোর্সের মধ্যে ৩টি কোর্সের ক্লাস রেকর্ড করা হলেও অপর ২টি কোর্সে রেকর্ড করা হয় না। গত ২ মাসে একটি ব্যাচে সর্বমোট ৫-৬ টি ক্লাস হয়েছে এমন অভিযোগও রয়েছে। বিভাগটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের ২ মাস হলো ক্লাস শুরু হয়েছে। এই ২ মাসে স্যাররা ইচ্ছে করলে সিলেবাস অনেকটা এগিয়ে ফেলতে পারতেন। আমরা ক্যাম্পাস খোলার সাথে সাথে ফাইনাল পরীক্ষায়ও বসতে পারতাম। কিন্তু স্যারদের ক্লাসের প্রতি উদাসীনতা দেখে আমরা শঙ্কিত। অনুষদটির বাংলা বিভাগে যেসব সেমিস্টারের কোর্স বন্ধের আগে শেষ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলো, শ্রেণি উপস্থাপনা পরীক্ষা ও ৩-৪ টি অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে সেসব শেষ করা হয়েছে। ব্যাচ ও কোর্সভেদে ক্লাসের পরিমাণ ও ক্লাস রেকর্ডের পরিমানে পার্থক্য রয়েছে বলছেন শিক্ষার্থীরা।

 

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচে কোর্সভেদে প্রায় ৫-৮টি করে ক্লাস নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২/১টি কোর্সের ক্লাস রেকর্ড করা হলেও বাকি কোর্সগুলোতে রেকর্ড করা হয়নি। ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের কোনো কোনো ব্যাচে কোর্সভেদে ১টি থেকে সর্বোচ্চ ৬টি ক্লাস হয়েছে। বিভাগটির কিছু কোর্সে ক্লাস রেকর্ড করা হলেও সকল কোর্সে তা করা হয়না।
মার্কেটিং বিভাগ এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে। তবে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের ক্লাস রেকর্ড না করার সমস্যা রয়েছে।

 

প্রকৌশল অনুষদভুক্ত কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি একাধিক ব্যাচের প্রজেক্ট সাবমিশনের কাজ চলছে। একই অনুষদের ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের বন্ধের আগে সেমিস্টার ফাইনালের রুটিন প্রকাশ হয়েছে তাদের পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়েছে।

 

অনলাইন ক্লাস সম্পর্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অল্প কিছু বিভাগ অনুসরণ করলেও বেশিরভাগ বিভাগ যথাযথভাবে অনুসরণ বা বাস্তবায়ন না করতে পারা এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার প্রসঙ্গে কুবি উপাচার্য
অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, এটা শুধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েই না, প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই একই রকম অবস্থা। আমরা নিয়মিত মিটিং করছি যেন ক্লাস এবং ছাত্রদের উপস্থিতি বাড়ে। আগের চাইতে এখন অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :