করোনার প্রভাবে অর্থনীতি

প্রকাশিত : ৩০ মার্চ ২০২০

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যত এক দেশ থেকে অন্য দেশ এখন বিচ্ছিন্ন। এই মুহূর্তে বিশ্বের ১৭৬টি দেশ ও অঞ্চল এখন করোনা আক্রান্ত। এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাঁচতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভাইরাসটি আরও জটিলভাবে আঘাত করলে বিশ্বের অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও আঘাত করবে। এই আঘাত থেকে বাঁচার উপায় খুঁজছে সরকার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস আঘাত হেনেছে। গত শুক্রবার পর্যন্ত দেশে মোট রোগির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ জনে। এ পর্যন্ত মারা গেছেন পাঁচজন। সুস্থ হয়েছেন ১১ জন। দেশে কার্যত লক ডাউন চলছে। স্কুল কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রেন বাস লঞ্চসহ গণপরিবহণ বন্ধ। সরকারি-বেসরকারি অফিসে চলছে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি। যদিও দেশের শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন শিল্প কারখানা কেউ কেউ বন্ধ রেখেছেন বা খোলাও রেখেছেন। যদিও জীবাণুমুক্ত পরিবেশে কাজ করার অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, তবুও শেষ মুহূর্তে কী হবে বলা যায় না।

গত ২০১৮-২০২৯ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করে। তখন প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ১৩ শতাংশের মতো। তবে চলতি ২০১৯-২০ অর্থ বছরের দ্বিতীয় মাস থেকেই রপ্তানি আয় কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত অর্থ বছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে বছর শেষে পণ্য রপ্তানি আয়ের চেহারা আরও খারাপ হতে পারে- অনেক উদ্যোক্তা ইতিমধ্যেই এমন আশংকা প্রকাশ করছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চীন করোনা ভাইরাস থেকে পুরোপুরি সুস্থ না হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে তৈরি পোশাক খাতে। অনেক অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২০ সাল হবে অর্থনৈতিকভাবে আরও একটি দুর্বল বছর। এ থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে এখন থেকেই আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :