শ্রীমঙ্গলে ব্যক্তি মালিকানা জমির উপর এলজিইডি’র কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের অভিযোগ

প্রকাশিত : ৭ মে ২০২০

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ব্যক্তি মালিকানা জমির উপর কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়ার খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, উপজেলার রাধানগর গ্রামে এ্যারোনিয়া এসোসিয়েট প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের নামে ক্রয়কৃত জমির উপর এলজিইডি কর্তৃক ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৪টি কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সেখানে একটি পরিবেশবান্ধব ইকো পার্ক নির্মানের কথা রয়েছে।

জমির মালিক পক্ষ জানিয়েছেন, এনিয়ে স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি। এমন অভিযোগ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক মো. রুকোনুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গত বছর প্রতিষ্ঠানটির নামে উপজেলার বালিশিরা পাহাড় ব্লক -৩ মৌজায়, প্রায় ১৮ একর জমি রেজিষ্টারী করা হয়। আমরা পরে জানতে পারি ক্রয়কৃত জমির ৬৩৯ ও ৬৪২ দাগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ শ্রীমঙ্গল থেকে ৪টি বক্স কালভার্ট নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ব্যক্তিগত মালিকানাধিন প্রতিষ্ঠানের ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে না জানিয়ে এলইজিডি কিভাবে প্রকল্প গ্রহন করে তা বোধগম্য নয়।  ১৯৫৬ সালের এসএ ও ১৯৯০ সালের বিএস রেকর্ডে উল্লেখিত দাগসহ অপরাপর অন্যান্য দাগের ম্যাপে এই রাস্তার কোন উল্লেখ নাই’ বলে জানানো হয়।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ইকো পার্কের নিরাপত্তার স্বার্থে জমির পাশে বসবাসরত ১০/১২টি পরিবারের চলাচলে কিছুটা শর্ত আরোপ করা হয়। এনিয়ে  সদর ইউপি চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়, ইউপি সদস্য ও মুরুব্বীদের মধ্যেস্থতায় সীমানার উভয় পার্শ্বে গেইট নির্মাণ এবং পরিবারগুলোর লোকজন শর্ত সাপেক্ষ্যে চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এরপর ইউপি চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে এখন বলাবলি করছেন এখানে নাকি ৪টি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। একই ভাবে এলাকার জনৈক কাজী সামসুল হক স্থানীয় কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোকজন নিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার অপপ্রায়াসে রাস্তাকে ইস্যু বানিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, সরকারী অর্থের অপচয় করে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। আমরা কোম্পানীর অর্থায়নে এই ড্রেনগুলোর উপর প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ করতে পারি। সংবাদ সম্মেলনে এই অপ্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প বাতিলে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

এ ব্যাপারে সদর ইউপি চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় জানিয়েছেন, ‘এটি পুরাতন রাস্তা দীর্ঘদিন থেকে এ রাস্তা দিয়ে লোকজন যাতায়াত করে আসছেন। এই রাস্তার উন্নয়নে এলজিইডি কর্তক চল্লিশ লাখ টাকা ব্যয়ে এখানে ৪টি কালভার্ট নির্মাণ করার কথা রয়েছে। কিন্তু সেখানকার জায়গার মালিক পক্ষ কালভার্ট র্নিমানে বিরোধীতা করে আসছে’।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সঞ্জয় মোহন সরকার এ বিষয়ে জানান, এই রাস্তাটি এলজিইডির আইডিভুক্ত। সেখানে কালভার্ট নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু কালভার্ট নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখতে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে লিখিত আবেদন পেয়েছি। এনিয়ে আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সাইট পরিদর্শন করবো বলে তিনি জানান।

ভূমি অধিগ্রহন ছাড়া কিভাবে ব্যক্তি মালিকানাধিন জমিতে সরকারী প্রকল্প নেয়া হয়-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার আসার আগে ২০১৭ সালে রাস্তাটি গেজেটভুক্ত হয় আর রাস্তা গেজেটভুক্ত হতে নিশ্চয় প্রক্রিয়া অনুস্বরণ করা হয়েছে’।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, ‘এলজিইডির আইডিভুক্ত এই রাস্তা কালভার্ট নির্মাণে কেউ বাধা দিতে পারে না। সরকার যদি কারো জায়গা নিয়ে যায় বা কেউ বঞ্চিত হয় সেক্ষেত্রে তারা আদালতের স্বরণাপন্ন হতে পারেন। তবে নাগরিক সুবিধা বিবেচনায় এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে নিয়ে স্থান পরিদর্শন করে পরবর্তি ব্যবস্থা নির্ধারণ করবো’ বলে তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন :