সিলেটে একদিনে প্রাণ গেল ৭ জনের

প্রকাশিত : ২৯ আগস্ট ২০২০

সিলেট ব্যুরো : সিলেটের গোলাপগঞ্জে বাস-সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের সদর ইউনিয়নের চৌঘরী বাজারের ওয়াসিমা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন- ফুলবাড়ি ইউনিয়নের মৃত আজমল আলীর পুত্র লাল মিয়া (২৭), গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রামের বাহার উদ্দিন (৪০), জাকারিয়া (৩০), অজ্ঞাত একজনের বয়স ১২ ও অপরজনের বয়স ৪৫ বছর। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বিয়ানীবাজারগামী একটি বাসের সাথে সিলেটগামী একটি সিএনজি অটোরিকশার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় স্থানীয়রা হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৩ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও আশংকাজনক অবস্থায় আরও ৩ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ৩ জন পুরুষ মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাড়ির এসআই ফারুক আহমদ চিকিৎসাধীন দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, সিলেট সদর উপজেলার ২ নং হাটখোলা ইউনিয়নের হাটখোলা গ্রামে ৩ সন্তানের জনক এক ধর্ষণ মামলার আসামীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে বাড়ির পাশে একটি গাছের সাথে তার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। ইসমত আলী (৩২) নামের ওই ব্যক্তি স্থানীয় হাটখোলা গ্রামের মৃত মশাহিদ আলীর ছেলে। জালালাবাদ থানার এসআই জুবায়ের জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নদীতে মাছ ধরার জন্য সে বাড়ি থেকে বের হয়। ভোরে বাড়ির পাশে একটি গাছের সাথে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে আসে। তিনি আরো জানান, পরিবারের সাথে কথা বলে এখনো কোন কারণ জানা যায়নি। পুলিশ প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ৩ সন্তানের জনক ইসমত আলী আলোচিত একটি ধর্ষণ মামলার আসামী। প্রায় ১ বছর হলো তিনি জামিনে আছেন। এছাড়া বেশ কিছু ঋণের মধ্যেও জর্জরিত তিনি। এদিকে, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় নিজ রিকশার চাকার সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় শফিক মিয়া (৩৫) নামের এক চালকের লাশ লাশ উদ্ধার করেছে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে হত্যার পর লাশ ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। রিকশা চালক শফিক বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের রাজনগর রোডের নিয়ামত আলীর কলোনিতে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। আর তার বাবা শহজাহান মিয়া পাশের গ্রাম শহাজিরগাঁওয়ে বসবাস করছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার সিংরাই থানার রফিকনগরে। শুক্রবার রাতে রাজনগর রোডস্থ বাসিয়া নদী তীরে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাত পৌনে ১২টার দিকে রিকশাসহ ওই চালকের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। শনিবার ভোরে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারনা করছে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বৃষ্টি চলাকালীন সময়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর রিকশা চালককে হত্যার পর তার রিকশাতেই বেঁধে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় শনিবার সকালে অজ্ঞাতনামা আসামি করে নিহতের ছোট ভাই রফিক আলী বিশ্বনাথ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন, (মামলা নং ২১)। বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম মুসা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা বলেই মনে হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :