ফোন পেয়ে ছাত্রীর বাড়িতে বই নিয়ে হাজির ইউএনও

প্রকাশিত : ১৫ এপ্রিল ২০২১

সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি :

 

বর্তমানে বৈষিক মহামারীর করোনাকালীন সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ দীর্ঘদিন ধরে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছেনা। তাই বলে লেখাপড়াতো বন্ধ রাখা যাবেনা। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে নিজের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন বই। কিন্তু লেখাপড়ার বিষয়ে এমন ইচ্ছে শক্তি থাকা সত্তে¡ও বই কেনার সামর্থ নেই গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর গার্লস ডিগ্রী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ফেন্সি আক্তারের। তাই এই ছাত্রী বই চেয়ে মুঠোফোনে কল করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।

 

এমন ফোন পেয়ে বই কিনে সোমবার দুপুরে ছাত্রীর বাড়ীতে হাজির হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নবীনেওয়াজ। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) এমন সারায় অবাক হয়েছেন ছাত্রীসহ এলাকার মানুষ।

 

সাদুল্যাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের বুজরুক পাটানোছা গ্রামের ফিরোজ কবির আকন্দের মেয়ে ফেন্সি আক্তার জানান তাদের সংসারে অভাব নিত্যদিনের। বাবা দিনমজুর। মা গৃহিনী। করোনার মধ্যে বাবার হাতে কাজ নেই। রোজগার না থাকায় দুই ভাই বোনের লেখা-পড়ার খরচ যোগাতে পারছেনা বাবা। কলেজ বন্ধ থাকায় ক্লাস হচ্ছেনা। টাকার অভাবে সব বই ক্রয় করা সম্ভব হয়নি।

 

প্রতিবেশি এক ভাইয়ের নিকট থেকে কয়েকটি পুরনো বই কিনেছেন বাকীতে। সেই টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি। এই অবস্থায় আরও দুটি বই (অর্থনীতি এবং মনোবিজ্ঞান) প্রয়োজন। দীর্ঘদিনেও বই দুটি কিনতে পারেননি। তাই বই দুটির জন্য রোববার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ফোন করেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নবীনেওয়াজ জানান, ছাত্রীর ফোন পেয়ে রোববার রাতে তিনি সাদুল্যাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতির মাধ্যমে খোঁজ-খবর নেন। এতে ওই ছাত্রীর পরিবারের দরিদ্রতার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত হতে পারেন। এর পর সোমবার দুপুরে বই, কাগজ, কলম কিনে নিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়ীতে পৌছে দেন। একই সঙ্গে পূর্বের পুরনো বই কেনার বকেয়া টাকা পরিশোধ করে দেওয়ার জন্য ছাত্রীর হাতে নগদ এক হাজার টাকা দিয়েছেন।

 

ওই ছাত্রীর বাবা ফিরোজ কবির আকন্দ জানান, বইয়ের জন্য তার মেয়ের ফোন পেয়ে একজন কর্মকর্তা এভাবে সারা দেবেন সেটি তিনি ভাবতেও পারছেন না।
সাদুল্যাপুর গার্লশ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল আলম বলেন, করোনার কারনে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ছাত্রীরা কলেজে না আসায়, জানতে পারিনি কোন ছাত্রীর কেমন পারিবারিক অবস্থা। তাই ওই ছাত্রীর বিষয়টি তাঁর জানা ছিলোনা। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাত্রীর ফোন পেয়ে নিজ দায়িত্বে তার বাড়ীতে বই পৌছে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নবীনেওয়াজ বলেন, সরকারী নির্দেশনায় প্রতিদিনের দাপ্তরিক সকল দায়িত্ব পালনের পরও অনেক কাজ করার সুযোগ থাকে। একজন মানুষ ‘মন থেকে’ ইচ্ছে করলেই ভালো কাজ করতে পারবেন। ভালো কাজের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবেনা। আর পড়া-লেখার বিষয়েতো কোন কথাই নেই। শিক্ষিত মানুষরা এগিয়ে না আসলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে।

 

তাই এই করোনাকালীন সময়ে ঘড়ে থেকে নিজের এবং প্রতিবেশির শিশুদের পড়া-লেখার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে কেউ ভুলবেন না।

 

আপনার মতামত লিখুন :