মরুভূমির ত্বীনের চাষ হচ্ছে নবাবগঞ্জে

প্রকাশিত : ৩ মার্চ ২০২১

আতিকুল ইসলাম চৌধুরী, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) :

সৌদি আরবের জনপ্রিয় ত্বীন ফল এখন বাণিজ্যিকভাবে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে চাষ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এটি একটি নতুন ও অপরিচিত নাম। তবে পবিত্র কোরআনেও বর্ণিত আছে ত্বীন ফলের তাৎপর্য নিয়ে। স্বাদে আর পুষ্টি-গুণে সমৃদ্ধ সেই ত্বীন ফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছে নবাবগঞ্জের উদ্যোক্তা মতিউল মান্নান। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। করোনাকালীন সময়ে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে বসে থাকেন নি তিনি। ছোট বোন মনিরা আখতারের পরামর্শে গাজীপুর থেকে চারাগাছ সংগ্রহ করে বাগান করেন ত্বীন ফলের।

 

প্রতিটি চারাগাছ ৫২০ টাকা করে কিনে ১৩২ শতাংশ জমিতে ৯০০ চারাগাছ লাগান। বর্তমানে তার বিস্তীর্ণ বাগানে শোভা পাচ্ছে আরব দেশের জনপ্রিয় এই ত্বীন ফল।
মতিউল মান্নান জানান, অত্যধিক সুস্বাদু এবং রসালো এই ত্বীন ফল। চারাগাছ লাগানোর সময় থেকে ৩ মাসেই ফল ধরা শুরু করেছে। যার একেকটির ওজন হবে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত। আর ফল ধরে ৭০-৮০ টির মত। পবিত্র কোরআনের আতত্বীন সূরায় বর্ণিত আছে ত্বীন ফল ডায়াবেটিক, হাঁপানি, ক্যান্সারসহ নানা রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

এছাড়া জ্যাম, জেলি, পুডিন ও আচারেও ব্যবহার করা হয়। ত্বীনফলে আছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, কপার, আইরন। ত্বীন ফলের একেকটি গাছ ৩০-৩৫ বছর পর্যন্ত একটানা ফল দেয়।

মরুভূমির গরম আবহাওয়ায় চাষ হলেও বাংলাদেশে আবহাওয়াতেও দেখা দিয়েছে এর উজ্জল সম্ভাবনা। আর কয়েক দিনের মধ্যে তিনি বাগান থেকে ত্বীনফল বাণিজ্যিক ভাবে বিক্রি শুরু করবে। ত্বীন ফল প্রতি কেজি ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হবে বলে আশা করেন উদ্যোক্তা মতিউল মান্নান ।

এদিকে সৌদি আরব ও বাংলাদেশে ত্বীন ফল নামে ডাকলেও ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, তুরস্ক, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্জির নামে খ্বুই পরিচিত। আর এর বৈজ্ঞানিক নাম ফাইকাস ক্যারাইকা বলে জানা গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভেষজ গুণসমৃদ্ধ এই ত্বীন ফল বহু রোগ-প্রতিরোধে ব্যবহার হয়ে থাকে।

বাণিজ্যিক উৎপাদনের পাশাপাশি রয়েছে বিদেশেও রপ্তানির সম্ভাবনা। তাই বাংলাদেশের মধ্যে নবাবগঞ্জে দ্বিতীয় চাষ হওয়ায় মানুষদের উদ্বুদ্ধ করতে এনিয়ে কাজ করছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন :