করোনার কারণে কষ্টে আছেন রংপুর বিভাগের আদিবাসীরা

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল ২০২০

রবিউল ইসলাম দুখু, রংপুর: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে জনসমাগম ও চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় রংপুর বিভাগের আট জেলার আদিবাসীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কোনো কাজ না পাওয়ায় বসে বসে সময় কাটাচ্ছেন তারা। কাজ হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ।   ঘরে থাকায় জুটছে না খাবার। এখন তাদের দিন চলছে অর্ধাহারে- অনাহারে।
 রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩১ নং ওয়ার্ডের আদিবাসীরা জানান, তারা  দিন মজুরের কাজ করে চলেন। ২৬ শে মার্চের সাধারণ ছুটি ঘোষণার  পর থেকে তাদের কাজ বন্ধ। কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তারা। এ পর্যন্ত তারা কোন ধরেন সাহায্য সহযোগিতা পাননি। বয়স্করা ক্ষুধা সইতে পারলেও শিশুরা পারছে না। খিদের চোটে কান্না করছে তারা। এতে অস্থির হয়ে পড়ছেন বড়রা। কিন্তু তাদের যেন কিছুই করার নেই। তারা কামনা করছেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে যাক। আবার স্বাভাবিক হোক জনজীবন। আবার তারা কাজ করে খাবার জোটাতে চান।
এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সামসুল হক জানান, তার ওয়ার্ডের আদিবাসীদের তালিকা করা হয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যে তারা ত্রাণ পাবেন। 
 মিঠাপুকুর উপজেলার বদলিপুকুর এলাকার কলেজ ছাত্র সারুফ  পাহান ফোনে জানান, আদিবাসীরা অধিকাংশই কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালান। ঘরে থাকায় এখন  চরম কষ্টের মধ্যে আছেন ।  এসময় সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করা হলে আদিবাসীদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হতো। 
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রবীদ্রনাথ রায় মাহাতো জানান, বিভাগের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাও, নীলফামারী এবং পঞ্চগড় এই আট জেলায়  জনসংখ্যা প্রায়  ২ কোটি। এর মধ্যে আদিবাসীর সংখ্যা  প্রায় ১৪ লাখ। এ বিভাগে  ওঁরাও, , মুরমু, পাহান , সাঁওতাল, মুশোহর, পাহান ও মুন্ডাসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের আদিবাসীরা বাস করেন।  বিভাগে শুধুমাত্র  গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা বেশিরভাগ আদিবাসী সম্প্রদায়কে ত্রাণ দিয়েছেন। অন্যান্য জেলা-উপজেলায়  হাতেগোনা ২/৩ জনকে দেয়া হয়েছে (যা জরিপে ওঠে  এসেছে)।  বিভাগের সিংহভাগ আদিবাসী ত্রাণ পানি। খাবারের অভাবে তারা এখন বড়ই কষ্টে আছেন।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিভূতিভূষণ মাহাতো জানান, জনপ্রতিনিধিরা যখন তালিকা করেন তখন আদিবাসীদের বিষয়ে গুরুত্ব দেন না। একারনেই ত্রাণ বঞ্চিত হচ্ছেন আদিবাসীরা।

আপনার মতামত লিখুন :