চিরিরবন্দর উপজেলা থেকে ধান কাটার শ্রমিক যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্বা লে

প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০২০

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর)প্রতিনিধি: সরকারি নির্দেশনায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা থেকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বা লে আগাম বোরো ধান কাটতে কৃষি শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩১ জন ধান কাটার শ্রমিক পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পিবার উপজেলা পরিষদ চত্বর হতে সরকারিভাবে আত্রাই, নওগাঁ জেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে ৩১ জন কৃষি শ্রমিক। চিরিরবন্দর থেকে ধান কাটার শ্রমিক প্রেরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা। এ সময় শ্রমিকদের হাতে হাতে কৃষি বিভাগের প্রত্যায়নপত্র, উন্নতমানের ফেস মাস্ক, খাবার, জীবাণুনাশক স্প্রে, প্রয়োজনীয় ওষুধসহ বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
দেশের দক্ষিণ-পূর্বা লে ক্ষেতের পাকা ধান কাটতে শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় সরকার প্রধানের নির্দেশে দিনাজপুরসহ উত্তরা লের বিভিন্ন এলাকার ধান কাটার শ্রমিক বিশেষ ব্যবস্থায় প্ররণের উদ্যোগ নিয়েছে চিরিরবন্দর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও উপজেলা প্রশাসন।
প্রতি বছর বোরো মৌসুমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থেকে কৃষি শ্রমিকরা দেশের হাওর ও দক্ষিণ অ লে আগাম বোরো ধান কাটতে বিভিন্ন জেলায় যায়। কিন্তু এবার মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি বিধিনিষেধ ও লকডাউনের কারণে কেউ এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে পারছেন না। এতে করে দক্ষিণ-পূর্বা লে আগাম বোরো ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছে সেখানকার চাষিরা। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীসহ কৃষি মন্ত্রণালয় নির্দেশনায় দিনাজপুর অ ল হতে ধান কাটার শ্রমিক পাঠানোর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে চিরিরবন্দর উপজেলা থেকে কৃষি বিভাগ ও পুলিশের সহযোগিতায় ধান কাটার শ্রমিক পাঠানো হবে। এরই প্রেক্ষিতে চিরিরবন্দর কৃষি সম্প্রসারনের অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রথম ধাপে উপজেলার আব্দুলপর ইউনিয়ন ও আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের ৩১ জন ধান কাটার শ্রমিককে একটি বাসে করে আত্রাই নওগাঁ জেলায় প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান জানান, শ্রমিকরা যাতে করোনার সংক্রমণ থেকে নিরাপদে থাকে সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকার লোকজনের সাথে তাদের কেউ মেলামেশা করতে পারবে না। সেখানকার প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক শ্রমিককে আলাদা করে থাকার ও খাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শ্রমিকরা সেখান থেকে মাঠে গিয়ে ধান কাটার পর আবার নিজ নিজ কক্ষে ফিরে যাবেন। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে এ অ ল থেকে ৩ শত কৃষি শ্রমিকের তালিকা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বা লের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতে ধান কাটতে পাঠানো হবে। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প.প কর্মকর্তা ডা. আজমল হক কৃষি শ্রমিকদের সবাইকে স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করেন।

আপনার মতামত লিখুন :