১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার সত্যতা মিলেছে তদন্তে

প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর ২০২১
অভিযুক্ত ফারহানা ইয়াসমিন

ভোরের দর্পণ ডেস্ক:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এর সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে অভিযুক্ত করে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

জানা গেছে, ২৭ অক্টোবর (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি প্রতিনিধি দল বিষয়টি তদন্ত করতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসবেন। তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার হলে প্রবেশের পথে অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। গতকাল রোববার সকালে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের বিসিক মোড় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন ও কান্দাপাড়া এলাকায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বাইরে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তারা বিকেল ৪টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও তদন্ত কমিটির প্রধানসহ ৩৩ জন শিক্ষক-কর্মকর্তাকে একাডেমিক ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

এ বিষয়ে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ও রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, রেজিস্ট্রারসহ আমরা ৩৩ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা গতকাল বিকেল ৪টা থেকে একাডেমিক ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে ছিলাম। তবে রাত ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা আমাদের ছেড়ে দেয় এবং বাসায় পৌঁছে দিয়ে যায়।

সার্বিক বিষয়ে কথা বলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলী ও ভারপ্রাপ্ত ভিসি ট্রেজারার আব্দুল লতিফের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের স্থায়ী বহিষ্কার চেয়ে করা আন্দোলন থেকে বক্তব্য দেওয়া কালে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রকাশ্যে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে শামীম হাসান (২৪) নামে এক শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে তাকে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বহিষ্কার চেয়ে ২২ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে দ্বিতীয় দফায় আন্দোলন ও আমরণ অনশনে নামেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বিকেলে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিষয়ে সিন্ডিকেট সভায় কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় আবারও আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

আপনার মতামত লিখুন :