হারিয়ে যাচ্ছে নলিতে সুতা ভরা চরকা

প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর ২০২০

বসন্ত দাস, বেড়া (পাবনা) :

বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু হওয়ায় বেড়া উপজেলার বিভিন্নাঞ্চলে ধুঁকে ধুঁকে আজও টিকে রয়েছে কিছু তাঁতি পরিবার। এদের বেশীর ভাগ সদস্য বর্তমানে পাওয়ারলুম কারিগর হলেও হতদরিদ্র পরিবারের শ্রমিকরা এখনও সেই আগেকার দিনের মতোই দিনরাত চরকা টেনে আর চরকার নলিতে সুতা ভরে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

বেড়া পৌর এলাকার সান্ন্যালপাড়া মহল্লার মধ্য বয়সি জনৈকা নারী শ্রমিক রিজিনা খাতুন এ প্রতিনিধিকে জানান, অভাব অনটনের সংসারে সাংসারিক কাজের ফাঁকে নলিতে সুতা ভরে যে পারিশ্রমিক পাওয়া যায় তা দিয়ে সামান্য কিছুটা হলেও সংসারের কাজে লাগে।

স্বামীর উপার্জনে সংসারে টানা পোড়েন থেকে যাওয়ার কারণে নলিতে সুতা ভরার পারিশ্রমিক দিয়ে সংসার চালাতে স্বামীকে সহযোগিতা করি। নলিতে সুতা ভরে দৈনন্দিন কত টাকা উপার্জন হয় জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি নলিতে সুতা ভরে পারিশ্রমিক পাওয়া যায় ১২৫ থেকে ১৫০ টাকা।

বেড়া পৌর এলাকার সান্ন্যালপাড়া, বনগ্রাম, হাতীগাড়া এবং উপজেলার চাকলা, বাটিয়াখরা, রাকশা সহ বিভিন্নাঞ্চলে প্রায় শতাধিক চরকা শ্রমিক রয়েছেন এদের বেশীরভাগ অতি দরিদ্র শ্রেনীর। নলিতে সুতা ভরে যে পারিশ্রমিক পায় তাই দিয়ে অতি কষ্টে চলে তাদের সংসার। আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ প্রায় হারিয়ে যাওয়া এ পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁত পল্লীর হাজারো পরিবারের গৃহবধুরা।

সংসারের নানা কাজের পাশাপাশি বাড়ীতে বসেই তারা চরকা চালিয়ে আয় করতেন বাড়তি টাকা। এতে গৃহবধুরাও স্বামীর পাশাপশি সঞ্চয় করে সংসারে সহযোগী ভূমিকা রাখতেন। কিন্ত বর্তমানে বৈদ্যূতিক পদ্ধতি চালু হওয়ায় সুতা ভরতে চরকার ব্যবহার কমে এসেছে।

তাই এখন চরকা কেবল যে অঞ্চলে বিদ্যূৎ নেই সেখানকার হত দরিদ্র শ্রমিকদের উপার্জনের একমাত্র বাহন। এদিকে হ্যান্ডলুম মিল মালিকেরা নলিতে সুতা ভরা দেরি হওয়ার অজুহাতে চরকা শ্রমিকদের কাজে লাগাচ্ছেনা। এতে চরম কর্মহীন পরিবেশ তৈরী হয়েছে এই পেশার শ্রমিকদের। ফলে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

তাঁত ব্যবসায়ী মো. ইসমাইল হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান, কালের বিবর্তনে আধুনিকায়নের ছোঁয়া পেয়ে অনেক পুরনো এ চরকা শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। ফলে ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্ম নলিতে সুতা ভরা চরকা চিনতেই পারবেনা। তাই পুরনো ঐতিহ্যের লালনে চরকাকে টিকিয়ে রাখতে উদ্যোগ গ্রহন করা একান্ত প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, বেড়া উপজেলার বিভিন্নাঞ্চলে এক সময় তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ ছিল। এসব তাঁত কলে নারী-পুরুষ সমান তালে শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আজ তাদের বেশীরভাগ শ্রমিক গার্মেন্টস সহ অন্য পেশায় চলে গেছেন। তবে সেসব বুনন পদ্ধতি ও বুনন হাতিয়ারগুলো টিকে রাখতে বিলুপ্ত প্রায় শিল্পের নিদর্শন হিসেবে তাই এসব রক্ষায় সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগ প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন :