কালাইয়ে পুকুরে বিলীন হচ্ছে পাকা রাস্তা

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০২১

মো. আতাউর রহমান, কালাই (জয়পুরহাট) :

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের ছিলিমপুর-শালুকগাড়ী ফিডার রোডের প্রায় ২০০ মিটার ইট বিছানো রাস্তা, গাইড ওয়ালের অভাবে জেলা পরিষদের পুকুরে বিলীন হতে বসেছে। একই সাথে সরকারি ৪০-৪৫ হাজার টাকার ৪-৫ টি আম ও রেইনট্রি গাছ উপড়ে পরার উপক্রম হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার ছিলিমপুর দাখিল মাদ্রাসার পূর্ব পাশের দেয়াল ঘেষে ওই ফিডার রোডের শুরুতেই জেলা পরিষদের ৪ একর আয়তনের পুকুরের মধ্যে ভেঙে গেছে। পুকুরের পাড়ে গাইড ওয়াল না দেয়া গেলে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই পুরো রাস্তা পুকুরের মধ্যে ধসে যাবে। খোদ জেলা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান রকেট রাস্তাটির বেহাল অবস্থা দেখেছেন এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি। তাই রাস্তাটির ভাঙন রোধে তারা (এলাকাবাসী) যত দ্রæত সম্ভব পুকুরের পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণসহ রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ছিলিমপুর-শালুকগাড়ী রাস্তাটি নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এ রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন পেশার শতশত লোক যাতায়াত করে। রাস্তাটির দু’পাশের ৭টি গ্রামে রয়েছে ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১২টি পোল্ট্রি ফার্ম, ৪০টি গরুর খামার, মাছ চাষের উপযোগী ১-১০ একর আয়তনের অন্তত ৫০টি পুকুর, ধান-চাল ও আলু বেচা-কেনার ৫টি আড়ৎ। ফলে, প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে মালাবালবাহী নানা ভারি গাড়ি চলাচল করে। এছাড়াও চলাচল করে ভ্যান, ভটটটি, সিএসজি, ব্যাটারিচালিত ইজিপাওয়ার, সাইকেল, মোটরসাইকেল ইত্যাদি যানবাহন।

 

উপজেলার ভাউজা-পাথার গ্রামের মাছ চাষি ও গরুর খামারি তসলিম উদ্দিন জানান, বার বার অনুরোধ করা সত্তে¡ও স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যান এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রাস্তাটি সংস্কার বা পুকুর পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণের ব্যাপারে কোন ভ‚মিকা রাখেনি। এ জন্য মাছ চাষ আর গরু পালনকালে তার খরচ বেশি হচ্ছে। পোহাতে হচ্ছে নানা দুর্ভোগ।

 

খাদ্য পরিবহণে এবং মাছ ও গরু ক্রয়-বিক্রয়ের সময় খরচ বেশি হয়। তাই লাভ হয় কম। এ জন্য অনেক সময় লোকশানও গুণতে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চাষকৃত পুকুরে মাছের শতকরা ৭০ ভাগ খাবার তৈরি হয় কিনারে এবং বাকী ৩০ শতাংশ খাবার তৈরি হয় মাঝের অংশে। তাই বেশি খাবারের লোভে মাছেরা কিনারার পাশে থাকে এবং নরাচড়া করে। ফলে, অব্যাহত ঢেউয়ের সৃষ্টি হওয়ায় পুকুরের পাড় ভেঙে যায়।

 

পুকুরে কমন কার্প, মৃগেল ও গ্রাসকার্প জাতীয় মাছ থাকলে সে মাছগুলো পাড়ের মাটির পচনশীল খাদ্য ও ঘাস খায়। ফলে পাড়ে ভাঙন ধরে। আবার মাছ চাষের জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক সার ও চুন ব্যবহারের প্রয়োজন হয় যা মাটির স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে ভঙ্গুরতার সৃষ্টি করে। এ কারণেও পুকুরের পাড় ভেঙে যায়। এ ব্যাপারে কালাই উপজেলা প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বক্তব্য দিতে অসম্মতি জানান।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আ.ন.ম শওকত হাবিব তালুকদার লজিক জানান, জেলা পরিষদের পুকুরটির কারণেই রাস্তাটির বেহাল দশা হয়েছে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে সম্প্রতি সরেজমিনে বিষয়টি দেখানো হয়েছে। তিনি গাইড ওয়াল নির্মাণ করে দিতে চেয়েছেন।

জেলা পরিষদের মাত্রাই এলাকার সদস্য আব্দুল কাদের জানান, পুকুরটির জন্য রাস্তা এবং গাছগুলো ঝুঁকির মুখে পরেছে। কী করলে, এ সমস্যার টেকসই সমাধান হবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সে বিষয়ে তার পরামর্শ চেয়েছেন ।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান রকেট জানান, এ বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। উদ্ভ‚ত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের সদস্যকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :