রাজশাহীতে হঠাৎ বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম, বিড়ম্বনায় সাধারণ মানুষ

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল ২০২০

রফিকুল হাসান ফিরোজ, রাজশাহী : প্রাণঘাতি করোনা সংক্রমণ নিয়ে মানুষ যখন অর্ধাহারে অনাহারে দিন পার করছে, ঠিক তখনই রাজশাহীর চারঘাটে হাট-বাজারগুলোতে হঠাৎ করেই বেড়েছে নিত্যপন্যের দাম। এতে করে চরম বিড়ম্বনায় সাধারন মানুষ। ক্ষোভে ফুসে উঠছেন দিনমজুররা।
বাজারে কারসাজি করে এমন দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে দাবি ক্রেতাদের। তবে বিক্রেতাদের দাবি বাজারে চাহিদার তুলনায় আমদানি কম থাকায় দাম একটু বেশি।
খেঁাজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৫ দিন আগেও বাজার স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ করে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি পন্যের দাম বেড়েছে কয়েক গুন। চাল, ডাল, তেল, পিয়াজ, রসুন, আদাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম হুড়হুড় করে বাড়ছেন চারঘাটে। বাজারে সংকট নেই, তার পরেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম।
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন যখন ব্যস্ত, ঠিক তখনই কিছু অস্বাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাজারে নিত্যপন্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। অতি প্রয়োজনীয় এই পণ্যগুলোর দাম নিয়ন্ত্রনে এখনই পাইকারী ও খুচরা বাজারে মনিটরিং অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সাধারন ভোক্তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, করোনা ভাইরাস আতঙ্ককে পুঁজি করে হঠাৎ করে এসব নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা বেড়ে যায়। এর ফলে এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় এপ্রিল মাসের ১ম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে বাড়াতে থাকে চাল, তেল, পিয়াজ, রসুন, আদাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম।
চারঘাট বাজারে বাজার করতে আসা কালুহাটি গ্রামের বাবু বলেন, গত এক সপ্তাহ আগেও পিয়াজের কেজি ছিল মাত্র ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা কিন্তু এখন তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা দরে, রসুন ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা দরে, বেগুন ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাউল বেড়েছে প্রতিকেজিতে ৮ টাকা থেকে ১৫ টাকা। মশুর ডাল কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। এভাবেই প্রতিটি নিত্যপন্যের দাম বেড়েছে কয়েক গুন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সয়দা সৈামিরা বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে করোন আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম সংকট করে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা খুব শ্রীঘ্রই উপজেলা সব হাট-বাজারগুলোতে অভিযান চালাবো। কেউ অযৌক্তিক দাম বাড়ালে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :