রাজশাহীতে করোনা ছড়াচ্ছে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ ফেরতরা

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল ২০২০

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত চারজনের তিনজনই এসেছেন নারায়নগঞ্জ থেকে। অপরজন এসেছেন ঢাকা থেকে। তাদের অনেকেই রাজশাহীতে আসার পর ঘুরে বেরিয়েছেন। গেছেন হাট-বাজারে আত্মীয়-সজনদের বাড়িতে। ফলে এ জেলায় করোনা সংক্রমনের জন্য ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ থেকে আসা মানুষদের নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয়রা বলছেন, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে যারা এসেছেন তাদের যে কোনভাবে ঘরে রাখতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। নয়লে রাজশাহীতে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে প্রাণঘাতি এই ভাইরাস।
এদিকে বাইরের জেলা থেকে রাজশাহীতে যাতে কোনো মানুষ প্রবেশ করতে না পারে এবং রাজশাহীর কোনো মানুষ যাতে জেলার বাইরে যেতে পারে, সেজন্য প্রশাসন গত ১৪ এপ্রিল থেকে রাজশাহী জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে। তবে এর পরও থেমে নেই আক্রান্ত জেলাগুলো থেকে রাজশাহীতে মানুষের প্রবেশ।
জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘন্টায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজশাহী আসা ৯৭ জনকে কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ঢাকা থেকে এসেছে ৪৬ জন এবং নারায়নগঞ্জ থেকে এসেছে ১৫ জন।
এছাড়া মাগুরা থেকে ৪ জন, কুষ্টিয়া থেকে ১ জন, নাটোর থেকে ১ জন, চঁাপাইনবাবগঞ্জ থেকে ১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ১ জন, রংপুর থেকে ৪ জন, গাজিপুর থেকে ২ জন, মানিকগঞ্জ থেকে ১৩ জন, ফেনি থেকে ২ জন, খুলনা থেকে ৩ জন, শরীয়তপুর থেকে ২ জন এবং মুন্সিগঞ্জ থেকে এসেছে ২ জন।
৯৭ জনের মধ্যে মহানগরে ২২ জন, বাঘায় ১০ জন, দুর্গাপুরে ৩৪ জন, তানোরে ৩১ জন রয়েছেন। নতুন ৯৭ জনসহ বর্তমানে রাজশাহীতে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৩২২ জন। এর মধ্যে নগরে ৫৯ জন, বাঘায় ২২ জন, চারঘাটে ৩২ জন, পুঠিয়ায় ৮৩ জন, দুর্গাপুরে ৩৪ জন, তানোরে ৯২ জন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা নির্ণয় ও চিকিৎসক টিমের প্রধান ডাক্তার আজিজুল হক আজাদ বলেন, রাজশাহীকে করোনামুক্ত রাখতে হলে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ মানুষের আসা বন্ধ করতে হবে। আর যারা এরই মধ্যে এসেছে তাদের চিহ্নিত করে ১৪ দিন ঘরে আটককে রাখতে হবে এবং সবার নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
ডা. আজাদ বলেন, ঢাকা এবং নারায়নগঞ্জ থেকে বেশ কিছু মানুষ বিভিন্নভাবে রাজশাহী অঞ্চলে চলে এসেছে। আমি জনগণের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা যদি জানেন যে কেউ ঢাকা কিংবা নারায়নগঞ্জ থেকে এসেছেন, তাহলে অনুগ্রহ করে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বা জনপ্রতিনিধিদের জানান। তারা যেন এই মানুষগুলোকে আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করে এবং আমাদেরকে জানায়, যাতে আমরা এসব মানুষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে পারি

আপনার মতামত লিখুন :