উপাচার্যের শেষদিনে রাবিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান স্থগিত

প্রকাশিত : ৮ মে ২০২১

ভোরের দর্পণ ডেস্ক:

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ মে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। 

এর আগে, গত বুধবার (৬ মে) ক্যাম্পাসে মেয়াদের শেষ দিন শিক্ষকসহ ১৪১ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেন রাবির বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান।

শনিবার (০৮ মে)  বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়া ওই বিজ্ঞপ্তিটি পাঠানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বুধবার (০৫ মে) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডহকে যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তা অবৈধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে মন্ত্রণালয়। এ কমিটির রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো রূপ সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপত্রের যোগদান এবং তদসংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

এদিকে, গতকাল শনিবার (০৮ মে) সকালে ক্যাম্পাসে আসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। ক্যাম্পাসে এসেই বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক সোবহানকে তলব করে তদন্ত কমিটি। বিকেল ৩টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে কমিটির সঙ্গে বসেন সদ্য বিদায়ী উপাচার্য। প্রায় দুই ঘণ্টা পর কমিটির সঙ্গে শেষ হয় উপাচার্যের সাক্ষাৎ।

কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান জানান, ‘দীর্ঘদিন থেকে ক্যাম্পাসে কোনও নিয়োগ হয়নি। আমরা অনেক আগেই শুরু করেছিলাম নিয়োগ প্রক্রিয়াটা। কিন্তু এর মধ্যেই করোনা ভাইরাস চলে আসে। এরইমধ্যে কিছু শিক্ষক বলে যে নিয়োগ দেওয়া যাবে না, নিষেধাজ্ঞা আসবে। এরপরেই আমার ই-মেইলে নিষেধাজ্ঞাটি আসে। আমি বিষ্মিত হয়েছি, সেই শিক্ষকরা আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি কি করে জানল।’

নিয়োগপ্রাপ্তদের পক্ষে সুপারিশ করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যারা নিয়োগ পেয়েছে তারা সবাই নিয়োগ ডিজার্ভ করে। এখানে মানবিক দিকটি বিবেচনা করা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশে একটা আইন আছে। সেই আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে একটা ক্ষমতা দেওয়া আছে। সেই আইনের বলে আমি নিয়োগটা দিয়েছি। যেখানে সুস্পষ্ট আইন আছে সেখানে নিষেধাজ্ঞা আসতে হলে তো ওই আইনটা বাতিল হওয়া উচিত।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর জানান, ’বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এসেছি যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রণালয় যেভাবে বলেছে আমরা সেভাবে কাজ করছি। আমরা এই বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গেই কথা বলেছি। আমরা সকল তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছি, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখেছি। আমরা সেসব কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আমাদের প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেবো। আমরা চাই যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেই উদ্দেশ্য যেন সফল হয়।’

গত বুধবার (৬ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে মেয়াদের শেষ দিন শিক্ষকসহ ১৪১ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেন রাবির বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান। সেই নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আপনার মতামত লিখুন :