করোনায় পান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রাজশাহীর চাষিরা

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০২০

রফিকুল হাসান ফিরোজ, রাজশাহী :  রাজশাহীর দুর্গাপুরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ ও সামাজিক দূরুত্ব নিশ্চিতে কঠোর প্রশাসন। এই নির্দেশনা পালনে বর্তমানে দুর্গাপুর সদরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে সাপ্তাহিক সব হাট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সাথে গণপরিবহণ চলাচলও বন্ধ। এতে পাইকার ব্যবসায়ীরা আসতে না পারায় বরজের পান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। ক্রেতা না থাকায় অনেক বরজের পান পচে নষ্ট হচ্ছে। ফলে চরম ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী অ লের মধ্যে দুর্গাপুর পান চাষের জন্য বেশ বিখ্যাত। এখানকার পান সুস্বাদু ও মিষ্টি। দেশ ছাড়াও বিদেশেও রয়েছে এই অ লের পানের ব্যাপক চাহিদা। উপজেলার শ্যামপুর, আলীপুর, দেবীপুর, গোপালপুর, শিবপুর, নওপাড়া, পালশা, গোপালপুর, নারায়ণপুর, দাওকান্দি, সুখানদিঘী, পারিলা, নোনামাটিয়াল সহ প্রায় এলাকায় বির্স্তৃণ এলাকা জুড়ে পানের বরজ গড়ে উঠেছে। প্রায় কয়েক হাজার পানের বরজ রয়েছে এই উপজেলায়। সুস্বাদু মিষ্টি ও দেখতে ভালো হওয়ায় এই অ লের উৎপাদিত পান দেশের বিভিন্ন অ লে সরবরাহ হয়ে থাকে।
উপজেলা সদর, আলীপুর, শ্যামপুর, নারায়ণপুর, দাওকান্দি, কালিগঞ্জ, গোপালপুরসহ বিভিন্ন বাজারে শুক্রবার ছাড়া প্রত্যেক দিন পানের বৃহত্তম আড়ত বসে। ওই সব আড়ত গুলোতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার পান কেনাবেচা হয়। ঢাকা, চিটাগাং, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা পান কিনতে আসেন। 
কিন্তু গত প্রায় ১মাস থেকে করোনা ভাইরাস জনিত কারনে প্রশাসনের নির্দেশনায় এসব বৃহৎ আড়ত গুলো বন্ধ রয়েছে। পরিবহণ বন্ধ থাকায় দুরুন্ত থাকা ব্যবসায়ীরাও আসতে পারছেন না। ফলে কৃষক বরজের পান নিয়ে দু:চিন্তায় পড়েছেন।

উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের পানচাষি আলতাফ হোসেন ও জালাল উদ্দিন বলেন, আমাদের এই অ ল পান চাষের জন্য বিখ্যাত। এখানকার মানুষের মূল পেশা হলো পান চাষ। এছাড়া অন্য কোনো আবাদ এখানে তেমন হয় না। আর এসব মিঠা পানের দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারনে আমরা পানচাষিরা সংকটের মধ্যে রয়েছি। বর্তমানে মৌসুম শেষ। যার কারনে পান বরজে রাখতেও পারছি না। বরজের অবিক্রিত পান রাখলে মোটা হয়ে যাচ্ছে। পরে ওই এসব পান পচে খসে পড়ছে। সব পানের আড়ত বন্ধ থাকায় বিক্রি করতে পারছি না।
তারা আরো বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হয়েছে পান না ভাঙার জন্য। কিন্তু এই এলাকায় মৌসুম প্রায় শেষ। তাই বরজে যে পান রয়েছে সেগুলো ভাঙতেই হবে। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ অতি শীঘ্রই অন্তত পানের আড়ত খুলে দেওয়া হয়। তাহলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আসলে পানের চাহিদা থাকতো। এতে করে আমরা বরজের অবিক্রিত পান গুলো বিক্রি করতে পারতাম।
গোপালপুর বাজারের পান ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, হাট বন্ধ রয়েছে। এলাকায় প্রচুর কৃষকের বরজে পান অবিক্রিত রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারনে বাহিরের পাইকাররাও আসতে পারছেন না। গত বছর এসময় ৭হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পোয়া পান বিক্রি হয়েছিল।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খুরশীদা বানু বলেন, এই এলাকার প্রধান অর্থনৈতিক ফসল পানচাষ। করোনাভাইরাসের কারণে পানের আড়ত গুলো বন্ধ রয়েছে। এতে কৃষকরা তাদের বরজের পান নিয়ে দু:চিন্তায় রয়েছে। কৃষকের কথা ভেবে অন্য কোন পদ্ধতিতে পান বিক্রি করা যায় কিনা এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা হচ্ছে। খুব দ্রæতই একটা সুরহা হবে বলে জানান ওসি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহসীন মৃধা বলেন, আড়ত গুলো আপাতত খুলে দেওয়া হবে না। তবে কৃষকরা চাইলে বাড়িতে অথবা বরজ এ তাদের পান বিক্রি করতে করতে পারেন। এ বিষয়ে আমাদের কাছে পুলিশ হেটকোয়ার্টাস থেকে নির্দেশনা এসেছে। এছাড়াও পিঁয়াজের হাটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কৃষকরা চাইলে আপাতত বাড়িতে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারবেন।
 

আপনার মতামত লিখুন :