বোরো ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় নিয়ামতপুরের কৃষক!

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০২০

শাহজাহান শাজু, (নিয়ামতপুর) নওগাঁ : আর মাত্র কয়েকদিন বাদে শুরু হবে বোরো ধান কাটা। আগাম জাতের ধান এরইমধ্যে পাকা শুরু হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে এমনটি আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ফলে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সকল কৃষক ঘরে ধান তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তা আর দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলায় ২০ হাজার ৪শ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। শুরু থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান বেশ ভাল হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার রোগ বালাই না থাকায় ধানের অনেক ভাল ফলন হবে আশা করছি। এরইমধ্যে আগাম জাতের ধান পাকতে শুরু করেছে। হয়তো আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে এসব ধান কাটা শুরু হবে। সারাদেশে করোনাভাইরাসের কারণে একদিকে যেমন একের পর এক জেলাগুলো লকডাউন করে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হচ্ছে জনসাধারণকে।
উপজেলার কৃষকরা বলছেন, উপজেলাজুড়ে ধান কাটা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিশেষ করে পার্শবর্তী জেলা চাঁপাই নবাবগঞ্জের হাজার হাজার শ্রমিক এসে ধান কেটে ঘরে তুলে দেন। কিন্তু এবার কি হবে! 
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সন্ধা ৬টা থেকে নওগাঁ জেলাসহ উপজেলাকে লক ডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসন। এরমধ্যে কিভাবে শ্রমিকরা আসবেন। এ নিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা। যদি শ্রমিকরা লকডাউনের মধ্যে সময় মতো আসতে না পারেন তা হলে কিভাবে ধান ঘরে উঠবে এমন দুশ্চিন্তাই কৃষকদের ঘুম নেই। এমন ভাবনা যেন দুর্বল করে ফেলছে কৃষকদেরকে। 
নিয়ামতপুর উপজেলার মায়ামারী গ্রামের আবুল কাশেম, নংপুর গ্রামের সেন্টু, বাতপাড়া গ্রামের মাসুদ রানা, আদমপুরের মনজুর রাসেলসহ অনেক কৃষকরা বলেন, আমন আবাদে ধান পাকার পরেও ধান কাটতে হাতে কিছু সময় পাওয়া যায়। ইরি-বোরো মৌসুমে নানান রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে। ফলে ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়তে হয়। বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চক মনসুর গ্রামের হামিদুর রহমান বলেন, কয়েক বছর ধরে এমনিতে ধানের আবাদে নানা কারণে লোকসান গুনতে হয়েছে। এই মৌসুমেও যদি শ্রমিক সংকটে সময় মতো ধান ঘরে তোলা না যায় তাহলে ব্যাপক লোকসানের কবলে পড়তে হবে। তাই ধান ঘরে তুলতে কৃষি শ্রমিকদের অবাধ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
এ ব্যাপারে নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমির আব্দুল্লাহ মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, প্রধান মন্ত্রী সোমবার ভিডিও কনফারেন্সে কৃষি শ্রমিকরা যেন আসতে পারে এবং কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দিতে পারে সে লক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। তাছাড়া উপজেলায় ৫টি সরকারী ভর্তুকি দেওয়া কম মাইন্ড হারবেস্টরের মাধ্যমেও ধান কাটার ব্যাপারে কৃষি অফিস সহযোগিতা করবে। ধান কাটা শ্রমিক নিয়ে কৃষকদের চিন্তার কোনো কারণ নেই আশা করছি সমস্যার সমাধান হবে।

আপনার মতামত লিখুন :