রাজশাহীতে সবজি বিক্রেতাদের মহল্লায় পাঠাচ্ছে পুলিশ

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০২০

রাজশাহী প্রতিনিধি:  রাজশাহীতে জনসমাগম ঠেকাতে বাজারকে বিকেন্দ্রীকরণ শুরু হয়েছে। এ লক্ষে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া থানা এই উদ্যোগ নিয়েছে। মহানগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট বোয়ালিয়া থানারই এলাকা।
সাহেববাজারে ভিড় কমাতে এখন থেকে সবজি বিক্রেতাদের পাড়া-মহল্লায় পাঠাচ্ছে ওই থানার পুলিশ। এর ফলে কাঁচাবাজারে ভিড় কমছে। গত ১৫ এপ্রিল থেকে পাড়া-মহল্লায় সবজি বিক্রেতাদের পাঠাতে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ওই থানার অধীনে থাকা ১৭টি ওয়ার্ডের ৯০টি পাড়া-মহল্লায় সবজির ভ্যান পাঠানো সম্ভব হয়েছে। পুলিশ বলছে, পাড়া-মহল্লায় সবজির ভ্যান পাঠানোর কারণে বাজারে ভিড় কমছে। পাশাপাশি বিক্রেতারাও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবজি বিক্রি করতে পারছেন। এতে করোনাভাইরাসে ঝুঁকি কমছে।
মহানগরীর টিকাপাড়া এলাকার গৃহিণী তানিসা খাতুন জানান, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সবজি কিনতে বাজারে যেতেই তিনি ভয় পেতেন। তারপরেও যেতে হতো। তিনি সামাজিক দূরত্ব মেনে কেনাকাটা করলেও অনেকেই তার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে পণ্য কেনা শুরু করতেন। পুলিশের পক্ষ থেকে মহল্লায় সবজির ভ্যান পাঠানোর নিশ্চয়তা দেয়ার পর তিনি স্বস্তি পান। এখন তিনি বাড়ির সামনেই ভ্যান থেকে সবজি কেনেন।
বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন জানান, বাজার ছেড়ে ভ্যানে করে সবজি নিয়ে পাড়া-মহল্লায় যাওয়ার জন্য প্রথম দিন ১০ জন বিক্রেতাকে ঠিক করা হয়। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩১৫ জনকে ঠিক করা হয়েছে। তাদের এলাকাও ভাগ করে দেয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ভ্যানগুলো চিহ্নিতও করে দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত ভ্যান নির্ধারিত এলাকায় যাচ্ছে।

তিনি জানান, ব্যবসায়ীরা সকাল ৭টার আগে সাহেববাজার সংলগ্ন মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজার থেকে পাইকারিতে সবজি কিনছেন। তারপর তারা পাড়া-মহল্লায় চলে যাচ্ছেন। বিকাল ৫টা পর্যন্ত তারা সবজি বিক্রি করতে পারছেন। বাসিন্দারা বাজারে না গিয়ে বাড়ির সামনেই যেন ভ্যান থেকে সবজি কেনেন তার জন্য প্রচারণা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভালো সাড়াও মিলছে।
ওসি বলেন, সাহেববাজারের কাঁচাবাজার একটি সংকীর্ণ রাস্তার ওপর। ইতোমধ্যে সে রাস্তায় একমুখি বাজার চালু করা হয়েছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেখানে দোকানপাট খোলা থাকে। কিন্তু এখানে ভিড় কমানো যাচ্ছিল না। এ কারণে বাজার বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এতে ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে মানুষের ভিড় কমছে। পাড়া-মহল্লায় এখন শুধু সবজি পাঠানো হলেও ধীরে ধীরে অন্য প্রয়োজনী পণ্য পাঠানোর চিন্তা করছেন বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আপনার মতামত লিখুন :