দুপচাঁচিয়ায় আলুর দামে ধস

প্রকাশিত : ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

এমডি শিমুল, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) :

গুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় দিন দিন বাজারে আলুর দাম নিম্নমুখী হওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে আগস্টের মাঝামািঝ সময় পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজ হতে বের হওয়া আলু ১৮ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি করেছেন কৃষকরা। আর এখন সেই আলু স্টোর হতে পাইকাররা ১০ থেকে ১১ টাকা কেজি দরে কিনছেন। এদিকে উৎপাদন থেকে শুরু করে কোল্ড স্টোরেজে রাখা পর্যন্ত প্রতি কেজি আলুতে যে খরচ হয় তা বর্তমান বাজারে লোকসান ছাড়া লাভ হবে না বলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

এ হিসাবে কোল্ড স্টোরেজে আলু রেখে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কেজি প্রতি ৭-৮ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। দুপচাঁচিয়া উপজেলায় দুইটি কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। এ স্টোর দু’টির আলু ধারণ ক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার বস্তা। গত বছরে এ সময়ে ৪০ থেকে ৫০ ভাগ আলু বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এ বছর এ কোল্ড স্টোরেজ হতে ২০ থেকে ২৫ ভাগ আলু বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে কার্ডিন্যাল আলু ৭ টাকা ও ফাটা পাকড়ি আলু ১০ থেকে ১১ টাকা কেজি দরে পাইকারী বিক্রি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর এ উপজেলায় ৫ হাজার ৭শ ৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। আলু উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯শ ৪০ মেট্রিকটন। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি।

উপজেলার দেবখন্ড গ্রামের আলু চাষি আব্দুল মান্নান এবার ১শ বস্তা আলু ও ফেঁপিড়া গ্রামের সুখিন চন্দ্র দাস ৭০ বস্তা আলু স্টোরে রেখেছেন। কথা হয় তাদের সঙ্গে। তাঁরা জানান, এবার ১০ থেকে ১১ টাকা কেজি দরে স্টোরে রাখা আলুু পাইকারী বিক্রি করে বড়ই লোকসানের মুখে পড়েছেন। অথচ গত বছর এ আলু ২৪ টাকা কেজি দরে পাইকারী বিক্রি করেছিলেন। এ বছর আলুর বাজারের যে অবস্থা তাতে এখন যদি আলু বিক্রি না করি তাহলে দিনদিন যে হারে দাম কমছে তাতে স্টোর হতে আলুর বস্তা তোলারও টাকা হবেনা।

আলু ব্যবসায়ী সামছুল আলম বলেন, গতবার আলুর যেমন চাহিদা ছিল দামও ছিল ভালো। দিনদিন দাম নিম্নমুখী হওয়ায় লোকসানের ভয়ে বেশি পরিমান আলু কিনতেও পারছিনা।
দুপচাঁচিয়া সাহারা কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার মো. নান্টু জানান, অন্যান্যবারের চেয়ে এবার তুলনামূলক বেশি আলু স্টোরে রেখেছেন চাষীরা। লকডাউন চলাকালীন সময়ে হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য খাবারের দোকান বন্ধ থাকায় অন্য সময়ের তুলনায় আলুর তেমন চাহিদা ছিলনা। বর্তমানে চাহিদার চেয়ে আলুর সরবরাহ বেশি হওয়ায় বাজারে আলু দর নিম্নমুখী বলে তার ধারণা। সর্বোপরি আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা আলুর এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

আপনার মতামত লিখুন :