শেরপুরে বাঙালি নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০২০

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার শেরপুরে বেড়েই চলেছে বাঙালি নদীর ভাঙন। ভাঙনের ফলে বিলীন হতে চলেছে গ্রামের পর গ্রাম। স্কুল প্রতিষ্ঠান, মন্দির, মসজিদ, রাস্তাঘাট ও গ্রাম রক্ষার জন্য স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। যদি সিসি ব্লক  দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হয় তাহলে এবারের দ্বিতীয় বারের বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে কয়েকটি গ্রাম।

জানা যায়, উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঝাঁজর, বিলনোথার, নলডেঙ্গি, খানপুর ইউনিয়নের চক খানপুর, কয়েরখালি, বড়ইতলী ও শালফা পূর্বপাড়া, সুঘাট ইউনিয়নের চকধলী, চক কল্যানী, কল্যানী, আওলাকান্দি, বিনোদপুর, জোরগাছাসহ আরো কয়েকটি গ্রাম নদী ভাঙন এলাকা। ওই এলাকাগুলোর বাড়িঘর ও আবাদি জমির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বাঙালি নদী। এই নদী ভাঙনের ফলে ফসলি জমি ও বাড়িঘর বিলীনের পথে প্রায়।

সুঘাট ইউনিয়নের চক কল্যানী গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বন্যায় নদী ভাঙ্গনের কারণে বসতবাড়ি সরানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের বাসিন্দারা। চোখের সামনেই বাঙালি নদী গ্রাস করে নিচ্ছে তাদের বসতভিটা। ক্ষতিগ্রস্তরা এই সময় সরকারি ত্রান নয় স্থায়ীভাবে বাধ নির্মানের দাবি জানিয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, বন্যার মধ্যে সরকারি সকল কর্মকর্তারা শুধু যমুনা নদী পাড়ের মানুষদের নিয়ে চিন্তা ভাবনা করেন। কিন্তু বাঙালি নদীপাড়ের মানুষরাও অনেক ঝুকর মধ্যে রয়েছে। অথচ বাঙালি নদীর কোথাও কোন স্থায়ী বাঁধ নির্মান করা হয়নি। তারা আরো জানান, সুঘাট ইউনিয়নের চকধলী গ্রাম থেকে শুরু করে কল্যানী বাজার পার হয়ে সীমাবাড়ি ইউনিয়নের চান্দাইকোনা ব্রিজ পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। তার মধ্যে সুঘাট ইউনিয়নের চকধলী-চক কল্যানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চক কল্যানী কাটাখালি বাঁধ পর্যন্ত অত্যন্ত জরুরীভাবে সিসি বøক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

ইতোমধ্যেই কয়েকটি বাড়ি, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও রাস্তাঘাট বাঙালি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে সর্বস্ব হারানো চক কল্যানী গ্রামের নজরুল, বক্কার, ছামসুল, মজিদ, মহির উদ্দিন, মফিজ বলেন, আমরা গত ৪ বছর যাবৎ নদী ভাঙনের কবলে পরে বসতবাড়ি হারিয়েছি। এবারো নদী ভাঙনের কবলে পরেছি। এতে আমরা সংসারের ঘাটতি থেকে উঠতে পারছিনা।

এতো পরিশ্রম করে চাষাবাদ করেও যদি নদী ভাঙনের কারণে ঘাটতি থেকে না উঠতে পারি তাহলে কিভাবে আমরা চলবো। আমাদের বসতবাড়ি ও গ্রামগুলো রক্ষার জন্য সরকারের কাছে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যেই ভাঙন রোধে প্রকল্প পাশ হয়েছে। সিসি ব্লক তৈরির কাজ চলছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে কাজ শুরু হবে।

আপনার মতামত লিখুন :