বাগেরহাটে করোনায় ভারসাম্যহীন মানুষের পাশে ‘ইচ্ছা’

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০২০

সৈয়দ শওকত হোসেন, বাগেরহাট : বাগেরহাটে করোনায় এই করুণ পরিস্থিতে নীরবে, নিভৃতে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের পাশে দাড়িয়েছে  সেচ্ছাসেবি সংগঠন ইচ্ছা। সমস্যায় পড়েনি এমন কোনো পেশা বা শ্রেণির মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন চাল-চুলোহীন ছিন্নমূল ও মানসিক ভারসাম্যহীন পথে থাকা মানুষগুলো।

রকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাধারণ বিত্তশালীরা কর্মহীন ও অসহায়দের খাদ্যসামগ্রী দিলেও, অভুক্ত থেকে যাচ্ছেন মানসিক ভারসাম্যহীন ও ছিন্নমূল মানুষেরা। কারণ স্বাভাবিক অবস্থায়ই তারা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটান। নোংরা কাপড়, লম্বা জট ওয়ালা চুল, ময়লাযুক্ত শরীরের কারণে তাদের ধারে কাছে কেউ আসতে চায় না। খাবারের হোটেলের সামনে অনটাইম প্লেটে কাস্টমারের মাখা খাবারে পেটের জ্বালা মেটায় এরা। করোনা পরিস্থিতে না খেয়ে মরার উপক্রম হয়েছে এই মানুষগুলোর।

এই করুণ পরিস্থিতে নীরবে, নিভৃতে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষগুলোকে রান্না করা খাবার খাওয়াচ্ছেন সেচ্ছাসেবি সংগঠন ‘ইচ্ছা’। একবার যাকে খাবার দিয়ে আসছেন ‘ইচ্ছা’র কর্মীরা তার কাছে জানতে চান পরবর্তীতে কি খেতে চান তিনি। পরবর্তী সময়ে ওই মানুষটির চাহিদা অনুযায়ী খাবার রান্না করে আবার হাজির হন স্বেচ্ছাসেবকরা। মানসিক ভারসাম্যহীনদের পাশাপাশি বাগেরহাট শহরের ২০টি স্থানে বেওয়ারিশ কুকুর এবং পাখিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছে এই সংগঠনটি।

ইচ্ছা‘র সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহিন সিদ্দিকি বলেন, ২০১৪ সালে বাগেরহাটের হতদরিদ্র মানুষের জন্য রক্ত জোগার করার মাধ্যমে সংগঠনের পথ চলা। এরপরে অসহায় দরিদ্র শিশুদের জন্য ঈদের পোশাক দেওয়া। দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়তার মধ্য দিয়ে চলতে থাকে আমাদের সেবাধর্মী কাজ। বৈশ্বিক এই মহামারিতে যেসব মধ্যবিত্ত মানুষ কারও কাছে খাবার চাইতে পারে না, তাদের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। বাগেরহাট শহরে থাকা ছিন্নমূল ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে প্রতিদিন দুই বেলা রান্না করা খাবার দিচ্ছি। বেওয়ারিশ কুকুর পাখিদেরও খাবারের ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতে যেকোন দুর্যোগে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :