অপ্রতিরোধ্য করোনা যোদ্ধাকে স্যালুট

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০২০

কবিগুরু ও বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী কবিতার পঙক্তি মালাদিয়ে শুরু করবো:

“গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।

কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।

রাশি রাশি ভারা ভারা

ধান কাটা হল সারা,

ভরা নদী ক্ষুরধারা

খরপরশা।

কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।

একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,

চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।

পরপারে দেখি আঁকা

তরুছায়ামসীমাখা

গ্রামখানি মেঘে ঢাকা

প্রভাতবেলা–

এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।

গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে,

দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।”

 

বিশ্ব কবির মানব সম্প্রদায়ের প্রতি যে ভালবাসা তার বহিঃপ্রকাশ দেখেছি তার প্রতিটি কবিতা ও লেখায়। মানব প্রেম ও মানব কল্যানেরই জয়গান গেয়েছেন। আমাদের কবি, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, মজুর, কৃষক সকলেই মানব কল্যানে কাজ করেন। সমাজ, দেশ ও বিশ্বমানবতার কল্যানে কাজ করছেন অনেক বাঙালি। এমন উদাহরণ আমাদের সামনেই দৃশ্য মান।

 

বড় ধরণের শারিরীক অসুস্থতা রয়েছে। তারপরো সংকটের এসময়ে হাতগুটিয়ে বসে না থেকে সমাজ দেশ তথা বিশ্ববাসীর জন্য এগিয়ে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক ও বর্তমানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। মানবিক এ মানুষটি করোনা নিয়ে কাজ করছেন দেখে ব্যক্তিগত ড্রাইভারকেও ছুটি দিয়ে নিজেই গাড়ী চালাচ্ছেন। অনন্য উচ্চতার এ মানুষটি জানালেন সিঙ্গাপুর থেকে সরাসরি ল্যাব সেট আপ আমদানি করে আনা গেলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশেই করোনার টিকা নিয়েও কাজও করা সম্ভব। বরেণ্য এ একাডেমিশিয়ান যোগ করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে একাডেমিশিয়ান আছে তাদের দিয়েই সম্ভব।

অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, পৃথিবীর উন্নত যতো দেশ আছে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ইত্যাদি তাদের কেন্দ্রে কিন্তু গবেষণা হয় কম। বরং পেরিফেরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরো বেশি হয়। আমাদের পেরিফেরিগুলোতে বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এগুলোতে ভালো মানের একাডেমিশিয়ান নিয়োগ দিয়ে এসব ল্যাবগুলো কাজে লাগানো সম্ভব। এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব আছে সেগুলোকে কাজে লাগানোই সংকটের এসময়ে জরুরি। আমলাতান্ত্রিক জটিলাতা কাটিয়ে কাজ করা কঠিন এ কথা সত্য। তবে দৃঢ়তা থাকলে এবং কাজের আগ্রহ থাকলে সব প্রতিকুলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ। এখানে জন্ম নেয়া অনেক বিজ্ঞানী সারা বিশ্বে কাজ করছেন। সংকটের এ সময় মান অভিমান নয়। সবাইকে এক যোগে কাজ করতে হবে। যদি দেশকে সুরক্ষা না দিতে পারি তাহলে আমাদের সব কাজই মূল্যহীন হয়ে যাবে।

 

জানালেন, একটি আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব করতে কম করে হলেও ছয় মাস লাগে। এটা নতুন করে করে সময় ক্ষেপণ না করে আমাদের যে বিদ্যমান ল্যাবগুলো আছে সেগুলোকেই কাজে লাগাতে হবে। বরং এখন প্রয়োজন টিকা আবিষ্কারে বাংলাদেশে নিজস্ব উদ্যোগে কাজ করা। জানালেন যদি সিঙ্গাপুর বা উন্নত বিশ্ব থেকে সরাসরি সেট আপ করা ল্যাব আনা যায় তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই টিকা নিয়ে কাজ শুরু করা যায়। আমাদের দক্ষ মানব সম্পদ আছে সেগুলোকেই কাজে লাগাতে হবে। এখন ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয় সবাইকে কাজে লাগাতে হবে। তাহলেই আমারা আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিদান দিতে পারবো। সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারবো।

অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছি, এটাই আমাদের স্বার্থকতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ ‘সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি’ অনুসরণ করে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করা হচ্ছে যবিপ্রবিতে। ইতোমধ্যে জিনোম সেন্টারের সকল যন্ত্রের ফিটনেস পরীক্ষা করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস শনাক্তের কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। শুক্রবার থেকেই করোনার পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তাঁর ভাষায়, দেশ থাকলে আমরা থাকবো। বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে। অন্যথায় আমরা সব হারাবো। এ দুঃসময়ে বিজ্ঞানীরাই এগিয়ে আসবেন। না হলে সমাজ ও দেশকে চরম মূল্য দিতে হবে।

যবিপ্রবিসহ চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রাথমিক অনুমতি দেয়া হয়েছে। আমরা বহুদিন ধরে বলছিলাম, যাতে এই সংক্রান্ত কাজে মাইক্রোবায়োলজিষ্টসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ গবেষকদের কাজ করার সুযোগ দেয়া হয়। করোনা মোকাবিলায় সকলের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। বিভিন্ন জায়গায় করোনা পরীক্ষার কাজে ইতিমধ্যেই অনেক মাইক্রোবায়োলজিস্ট যুক্ত হয়েছেন, স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। গণস্বাস্থ্যের কিট তৈরির কাজেও যুক্ত হয়েছেন মাইক্রোবায়োলজিস্টরা। প্রথম থেকেই এই সংক্রান্ত বিষয়ে, এমনকী নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও বিজ্ঞানীদের আরো বেশি সম্পৃক্ত করা যেত। এখনো কিন্তু অনেক গবেষক, গ্রাজুয়েট এই পরিস্থিতিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ খুঁজছেন। বায়োকেমিস্ট এ বিজ্ঞানী জানালেন, মলিকিউলার বায়োলজিসটরা covid-19 যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। এ জন্য দরকার সুযোগ, ল্যাব ফ্যাসিলিটিস এবং পূর্ন সমন্বয় এটাও যোগ করলেন দৃড়তার সাথে।

দুই.

যবিপ্রবি ভিসির মহোদয়ের সাথে পরিচয় বন্ধু কামরুল হাসান হিরোকের মাধ্যমে। স্যার বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ হলেও সামাজিকতাতেও অন্যন্য। আমরা ঢাবি ফোরাম যশোর স্যারকে সব সময় বিরক্ত করি। কিন্তু এসবে তিনি বিরক্ত না হয়ে উল্টো আমাদেরই তাঁর জায়গা থেকে চাওয়ার চেয়ে বেশি করেন। আজ সকালে কথা হচ্ছিলো ভিসি মহোদয়ের সাথে। করোনার এ সংকটে কিভাবে একক প্রচেষ্টায় যবিপ্রবিতে ল্যাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন জানালেন সেসব কথা। করোনা সংক্রমণ নিয়ে কাজ করার কথা ব্যক্ত করেছিলেন দেশে করোনা প্রথম সনাক্ত হওয়ার দিন থেকে। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠিয়ে আলোর মুখ দেখেছে এটি। জানালেন মার্চের শেষের দিকেই শুরু করা যেতো। তবে শুরু হয়েছে সেনাবাহিনী, জেলাপ্রশান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সবার আন্তরিকতা ছিলো বলেইে। এতে করে যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ ও মাগুরার মানুষ উপকার পাবেন। তবে নমুনা সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে সংগ্রকারীদের প্রশিক্ষণ আরো নীবিড় করার কথা। যোগ করলেন এ প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য যবিপ্রবিতেই দক্ষ একাডেমিশিয়ান আছেন।

জনালেন, তবে এ কথাও মনে রাখতে হবে, মাইক্রোবায়োলজিস্ট বা এই রিলেটেড ফিল্ডের গবেষকদের কাজ শুধুমাত্র পরীক্ষা করা নয়। এর বাইরেও এই ভাইরাস নিয়ে অনেক গবেষণার প্রয়োজন আছে। হাতুড়ে মার্কা গবেষণা নয়, সত্যিকার অর্থে গবেষণার জন্য দক্ষ লোক থাকলেও গবেষণার সুবিধাসম্পন্ন ল্যাব বা অন্যান্য সুবিধা অপ্রতুল। নেপালে কোভিড-১৯ সংক্রমণ অত্যন্ত কম হলেও, নেপালে প্রাপ্ত ভাইরাসের জিনোম নকশা (জিনোম সিকুয়েন্স) প্রকাশিত হয়েছে। ভারত পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি ভাইরাল আইসোলেটের জিনোম সিকুয়েন্স করা হয়েছে। এলাকাভেদে, আবহাওয়াভেদে আয়াভাইরাসের মিউটেশন, তার পরিবর্তিত প্রকৃতি বুঝতে জিনোম সিকুয়েন্স করা অপরিহার্য। আমাদের দেশ থেকে নভেল করোনা ভাইরাসের কোন জিনোম সিকুয়েন্সিং এখন পর্যন্ত করা হয়নি। যদিও আমাদের দেশে তা করার মত যন্ত্র আছে কয়েকটি জায়গায়। উপযুক্ত ল্যাব সুবিধাদি থাকলে ভ্যাক্সিন তৈরি, ড্রাগ ডিজাইনসহ আরো বেশ কিছু ক্ষেত্রে এদেশের বিজ্ঞানীরা অবদান রাখতে পারতেন। এখনও সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলে এ সংক্রান্ত গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারিত করা সম্ভব।

অনেকে প্রশ্ন করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে করোনা পরীক্ষা নিরাপদ কী না। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব ল্যাবে এই পরীক্ষার সুযোগ দেয়া হয়েছে তা bsl-2 মানের৷ দুএকটি পত্রপত্রিকায় এসেছে, ভাইরাস পরীক্ষার জন্য নাকি আরো উঁচু মানের ল্যাব (bsl-3,4) প্রয়োজন। কথাটি ঠিক নয়। ডব্লিউএইচও-এর রিকোমেন্ডেশন অনুযায়ী নিউক্লিক এসিড এম্পলিফিকেশন টুল (NAAT) পরীক্ষা (যেমন- পিসিআর, আরটিপিসিআর) এবং সিকুয়েন্সিং এর জন্য বিএসএল-২ মানের ল্যাবই যথেষ্ট। ভাইরাসের চাষবাস করে, অর্থাৎ ভাইরাসকে ল্যাবে গ্রো করিয়ে অন্যান্য পরীক্ষার জন্য বিএসএল-৩ বা বিএসএল-৪ ল্যাব লাগে। করোনা পরীক্ষার জন্য তাই অনুমতিপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ল্যাব যথেষ্ট উপযোগী৷ তবে সেখানে যারা কাজ করবেন তাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা এবং তাদের নিজেদের বায়োসেফটি ট্রেনিং থাকা জরুরি৷

গোটা দেশে দুতিনটি জায়গা ছাড়া বিএসএল-৩ মানের ল্যাব নেই। এই ল্যাবের সংখ্যা আরো বাড়লে ভাইরাসসংক্রান্ত আরো গবেষণা করা যেত, এমনকি ভ্যাক্সিন তৈরির কাজও এগিয়ে নেয়া যেত। যবিপ্রবির উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন ঢাকাস্থ ল্যাবে গরুর খুরা রোগের কার্যকর ভ্যাক্সিন তৈরি করা গেছে, সেখানে আমরা ভাইরাস কালচার বা ভাইরাস গ্রো করাতে পেরেছি (এই ভাইরাস মানুষকে সংক্রমিত করে না, তাই বিএসএল-২ ল্যাবেই কাজ করা গেছে)। ইতিমধ্যেই একই ল্যাবের কিছু গবেষক করোনাভাইরাসের ভ্যাক্সিনের একটি সম্ভাব্য ডিজাইনও করেছেন, কিন্তু সেটা নিয়ে কাজ করা, বা তার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা এ ল্যাবে সম্ভব নয়।

আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারগুলোকে আরো উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা আমরা কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি৷ মাইক্রোবায়োলজিসহ জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়ে গবেষণার জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। মাইক্রোবায়োলজি গবেষণা শুধু রোগ থেকেই মানুষকে বাঁচায় না, (প্রকৃতপক্ষে ৯৫ ভাগ অণুজীবই রোগ তৈরি করে না) বরং অণুজীবসংক্রান্ত গবেষণা কৃষি, শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব রাখতে পারে। এ ধরনের গবেষণা মানুষের জীবনযাত্রার মান ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম। অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০০টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। এর বেশিও নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা ও জনবল আমাদের আছে। তবে এটা নমুনা সরবরাহের উপর নির্ভর করবে।

তিন.

সকালে আমার কর্মস্থল নড়াইলের জেলা প্রশাসক জনাব আনজুমান আরা মহোদয় স্যারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্টাটাস দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক মহোদয় অত্যন্ত আশাবাদী ও উদ্যোগী মানুষ। তাঁর ফেসবুকে স্টাটাস দিয়েছেন, “সুখবর ! সুখবর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এখানেই নড়াইল বাসির নমুনা পরীক্ষা করা হবে আশা রাখি এক দিনেই ফলাফল পাওয়া যাবে।” স্যারের এ বিষয়টিও জানিয়েছিলাম যবিপ্রবি'র ভিসি মহোদয়কে। জানালেন নড়াইলসহ এ খানকার চার জেলার নমুনা পরীক্ষা হবে এখানে।

ভিসি মহোদয় নিজে কাজ করছেন ও ল্যাবে শিক্ষকবৃন্দদের করোনা ভাইরাস পরীক্ষা বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন। দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে গত মার্চ মাসেই তিনি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার বিষয়ে সরকারকে চিঠি দিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা ও সদিচ্ছার কথা জানান। স্থাপন করেন দেশপ্রেম ও মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দেশে যখন কোভিড-১৯ সন্দেহে মরণাপন্ন বা মৃত ব্যক্তির পাশে যেতেই অনেকে সাহস পাচ্ছেন না। করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ল্যাব চালাবার ভয়ে চাকরি ছাড়তে চাইছেন। তখন তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কাজে এগিয়ে আসেন। তিনি দায়িত্ব নিয়ে বসে থাকেননি। নিবিড়ভাবে সবকিছুর তত্ত্বাবধান করছেন সব কিছু।

ব্যক্তিগত গাড়ি চালকের সমস্যার কারণে তাঁকে ছুটি দিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে অফিস করছেন। তা ছাড়া যেহেতু তিনি জিনোম সেন্টারে করোনা পরীক্ষার কাজ তদারকি করতে প্রায় যাচ্ছেন, তাই অন্য চালকদের যেন কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে না পড়তে হয়, সেটা নিশ্চিত করতে নিজেই ড্রাইভ করছেন। হয়ত অনেকেরই অজানা, এই স্বনামধন্য অণুজীববিজ্ঞানী ইতোমধ্যে গরুর খুড়া রোগের জন্য FMDV (Foot and Mouth Disease Virus)-এর Vaccine আবিষ্কার করেছেন। তিনি Bangladesh Academy of Sciences-এর একজন স্বর্ণপদক বিজয়ী বিজ্ঞানী।

দুই সন্তানের জনক এ বিজ্ঞানী অসাধারণ মানবিকগন সম্পন্ন একজন মানুষ। বড় ছেলে কানাডার ম্যাগগিল বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক ও স্নাতোকত্তর করেছেন। তাঁর ছোট সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউয়ার্ক এর ইউনিভার্সিটি অব কলম্বিয়া স্নাতক ও স্নাতোকত্তর। অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রি থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। দীর্ঘ সময়ে উচ্চতর গবেষণা করতে থেকেছেন বিদেশ বিভুইয়ে। পিএইচডি করেছেন টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। গরু খুরা রোগের টিকা নিয়ে কাজ তা সমাপ্ত করেছেন। সেটি এখন প্যাটেনট হওয়ার পথে।

কামেনী রায়ের কবিতা “সকলের তরে সকলে আমরা” পঙতি মামলার অবতারণা করবো

“পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি

এ জীবন মন সকলি দাও,

তার মত সুখ কোথাও কি আছে?

আপনার কথা ভুলিয়া যাও।

পরের কারণে মরণেও সুখ,

‘সুখ-সুখ’ করি কেঁদো না আর;

যতই কাঁদিবে যতই ভাবিবে,

ততই বাড়িবে হৃদয়-ভার।

আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে

আসে নাই কেহ অবনী পরে

সকলের তরে সকলে আমরা

প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।”

করোনা সংকট মোকাবেলায় পরিশেষ বলবো শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা দুনিয়াকেই এখন প্রস্তুত হতে হবে। জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণার কাজকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষকে হত্যা করার অস্ত্র বানিয়ে নয়, মানুষ বাঁচানোর অস্ত্র ও প্রযুক্তি তৈরি করতে গবেষণা বৃদ্ধি করতে হবে। মানুষ না বাঁচলে কোন উন্নতিইকাজে আসবে না !

 

বিল্লাল বিন কাশেম

কবি, লেখক ও গল্পকার।

[email protected]

আপনার মতামত লিখুন :