শিক্ষকের অস্বাভাবিক মৃত্যু: কুয়েট ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার

প্রকাশিত : ৪ ডিসেম্বর ২০২১

ভোরের দর্পণ ডেস্ক:

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি ২ ও ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৭৬তম সভায় উত্থাপন করা হয়। সিসিটিভির ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশৃঙ্খলা ও আচরণবিধির আলোকে অসদাচরণের আওতায় ৯ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী সাদমান নাহিয়ান সেজান, সিই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তাহামিদুল হক ইশরাক ও মাহমুদুল হাসান, এলই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাদমান সাকিব ও আ. স. ম. রাগিব আহসান মুন্না, এমই বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান ও ফয়সাল আহমেদ রিফাত, সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রিয়াজ খান নিলয় এবং এমএসই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাইমুর রহমান অন্তু।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক সেলিম হোসেন গত ৩০ নভেম্বর দুপুর ৩টার দিকে হঠাৎ মারা যান। তার মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, মৃত্যুর আগে তিনি ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে আধা ঘণ্টা লাঞ্ছনার শিকার হন। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে শিক্ষক সমিতি। ওই দিন প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিও জানান শিক্ষকরা।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষক সেলিম হোসেনকে ডেকে নিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি

পরে গতকাল শুক্রবার দুপুরে কুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আনিসুর রহমান ভূঁঞা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে কুয়েট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় ৩ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলো। একইসঙ্গে শনিবার বিকেলে ৪টার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কুয়েটের লালন শাহ হলে ডিসেম্বর মাসের খাদ্য ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন নিয়ে সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান প্যানেলের বিরুদ্ধে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। তারা নিজেদের মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে হলের প্রাধ্যক্ষ শিক্ষক সেলিম হোসেনকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

গত ৩০ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিম হোসেনকে জেরা করা শুরু করে। পরে তড়িৎ প্রকৌশল ভবনে ওই শিক্ষকের চেম্বারে ঢোকেন নেতাকর্মীরা। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, তারা প্রায় আধা ঘণ্টা সেলিম হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

পরে অধ্যাপক সেলিম হোসেন দুপুরে খাবারের জন্য বাসায় যান। আড়াইটার দিকে তার স্ত্রী লক্ষ্য করেন, সেলিম হোসেন বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না। এরপর দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :