খুলনা বিভাগে আরও ২১ রোগী সনাক্ত : মোট মৃত্যু ৩

প্রকাশিত : ১ মে ২০২০

রায়হান, খুলনা : খুলনা জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে গত ১৬ দিনে জেলায় মোট রোগী ১৪ জন হলেও রোগীরা আলাদা ৭টি এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় খুবই উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা। ফলে সামাজিক সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের। এদিকে খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় আরও ২১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত খুলনা বিভাগে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হল ১৩৯ জন। আর ৩ জনের মৃত্যু হলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৪ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয় খুলনায় আর গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৬ দিনে রোগী সনাক্ত হয়েছে ১৪ জন। এর মধ্যে নগরীর ৭ জন এবং রূপসা উপজেলার ৭ জন। নগরীর সাত জন দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা কালিবাড়ি, নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা, খুলনা মেডিকেল কলেজ গেস্ট হাউজ ও করীমনগর এলাকার। আর রূপসা উপজেলার মধ্যে কাজদিয়া, রাজাপুর ও দেয়াড়া তিনটি আলাদা এলাকার বাসিন্দা সাত জন।

খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল আহাদ এ প্রতিবেদককে বলেন, খুলনা জেলায় রোগীর সংখ্যা ১৪ জন হলেও রোগীরা যেহেতু আলাদা আলাদা এলাকার বাসিন্দা উদ্বেগের বিষয়টি এখানে। ফলে ধরে নিতে হবে হতে পারে খুলনায় সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়ে গেছে যা খুবই উদ্বেগজনক। এখনই কঠোর পদক্ষেপে সামাজিক সংক্রমণ ঠেকানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। নাহলে পরিস্থিতি খুবই ভয়ানক হতে পারে। এতে করে মানুষ জানবেই না তারা কিভাবে কখন কার মাধ্যমে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের ঝুঁকি আরও বাড়বে তখন।

এদিকে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক রাশিদা সুলতানা জানান, গত ১০ মার্চ থেকে খুলনায় করোনা পরীক্ষার হিসাব রাখা শুরু হয়। ৭ এপ্রিল থেকে করোনা পরীক্ষা শুরু হয়। এরপর এখন পর্যন্ত বিভাগে ১৩৯ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। তিনি জানান, ২৪ ঘন্টায় বিভাগে ২১ জনের শরীরে নতুন করে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

এরমধ্যে বাগেরহাটে ২ জন পজিটিভ শনাক্ত ও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর খুলনায় ২ জন, যশোরে ১২ জন, কুষ্টিয়ায় ২ জন  ও চুয়াডাঙ্গায় ১  জন, মাগুরায় ১ জন এবং সাতক্ষীরায় ১ জন রোগীর শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এ ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে ৩১৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ জন রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে। আর ৪৫৭ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৬৩ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ৩ জনকে। 

তিনি আরও জানান, যশোর জেলাতেই করোনা পজিটিভ সবচেয়ে বেশি। শুধুমাত্র যশোরেই ৫৬ জন। ২১ জন পজিটিভ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ঝিনাইদহ জেলা। এছাড়া কুষ্টিয়া জেলায় ১৬ জন, খুলনা জেলায় ১৪ জন, নড়াইল জেলায় ১৩ জন, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৮ জন, মাগুরা জেলায় ৫ জন, মেহেরপুর জেলায় ২ জন, বাগেরহাট জেলায় ৩ জন ও সাতক্ষীরা জেলায় ১ জন পজিটিভ রয়েছে। 

আপনার মতামত লিখুন :