ঘাটাইলে উপজাতি নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারি ২০২১

ভোরের দর্পন ডেস্কঃ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী এলাকার মালিরচালায় চোর সন্দেহে সন্ধ্যা রানী (৩৫) নামে এক উপজাতি নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ‘বাংলাদেশ কোচ আদিবাসি ইউনিয়ন’-এর টাঙ্গাইল জেলা শাখার নেতাকর্মীরা।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এতে সংগঠনটির নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান, না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নির্যাতিতা সন্ধ্যা রানীর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তার ছেলে পলাশ (৮) একই গ্রামের মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার পরিবারের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে প্রায়ই খেলা করত। ঘটনার ১৫ দিন আগে পলাশ মনিরুলের বাড়ি থেকে ঘুড়ি বানানোর জন্য পত্রিকা আনে এবং তার সন্তানদের সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ায়। হঠাৎ মনিরুলের বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকাসহ মূল্যবান কাগজপত্র চুরি যায়। এ ঘটনার জের ধরে ৩ জানুয়ারি শিশু পলাশকে তারা বাড়িতে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে এবং তার মায়ের কাছে জমা দেওয়ার স্বীকারোক্তি আদায় করে। ৯ জানুয়ারি মনিরুলের দুই বোন মোছা. খুকি (৩৭) ও সুমি আক্তার (৩২) সন্ধ্যা রানীর বাড়ি গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে একটি আকাশমনি গাছের বাগানে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন।

এ সময় মনিরুল ভূঁইয়া তার দুই ছেলে মোস্তফা ও দুই বোন মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এ ব্যাপারে সন্ধ্যা রানী বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :