কিশোরগঞ্জে শিক্ষক নিয়োগ ও বদলিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

শাহ মো. সারওয়ার জাহান, কিশোরগঞ্জ:

দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বণিকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলামিন। গতকাল কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ আনা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের তদন্তের দাবি জানান।

ভূক্তভোগী শিক্ষক তার বক্তব্যে বলেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বণিক কিশোরগঞ্জ জেলায় যোগদানের পর থেকে নিয়োগ, বদলী, পোস্টিং বাণিজ্য, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ থেকে ঘুষ গ্রহণ ও উপজেলা শিক্ষা অফিস সমূহ থেকে মাসোহারা গ্রহণসহ স্লিপ ফান্ড কার্যক্রম থেকে ঘুষ বাণিজ্য করেন। পরবর্তীতে ঘুষের অর্থ রুপিতে পরিণত করে তিনি ভারতে পাচার করেন।

তার দুর্নীতির সহচর কোদালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক মীর (কিরণ) এর মাধ্যমে তিনি যাবতীয় কর্মকান্ড করে থাকেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, ২০২০ সালে সর্বশেষ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় এ জেলায় প্রায় ৬শ জন শিক্ষক নিয়োগ হয়। অধিকাংশ শিক্ষকের কাছ থেকে ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করেন এই কর্মকর্তা। পোস্টিং দেয়ার জন্য ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ নেন। এমনকি যে শিক্ষকরা দুর্নীতিগ্রস্থ এ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেননি তাদেরকে স্থায়ী ঠিকানা থেকে দূরবর্তী স্থানে পোস্টিং দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ওই শিক্ষক বর্তমান সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর নিকট কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বণিকের সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিকারসহ দ্রুত বিভাগীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বণিককের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ ডাহা মিথ্যা বলে দাবি করেন।

আপনার মতামত লিখুন :