কোটালীপাড়ায় ৪৩ জন ভিক্ষুককে চাকুরী দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা 

প্রকাশিত : ২ মে ২০২১

কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

করোনা কালীন সময়ে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৪৩ জন পেশাদার ভিক্ষুককে চাকুরী দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা।
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেশজুড়ে ভিক্ষুক পুনর্বাসনে প্রচলিত বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা’র সুচিন্তিত দিকনির্দেশনায়, কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমানের উদ্যোগে ও সরকারি অর্থায়নে সদ্য বাস্তবায়িত “অবলম্বন” প্যাকেজিং ফ্যাক্টরীতে কোটালীপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৪৩ জন পেশাদার ভিক্ষুককে ভিক্ষা বৃত্তি থেকে নিবৃত করে হাতে-কলমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে সেই ফ্যাক্টরীতে তিন হাজার টাকা মাসিক বেতনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী বাজারজাত করে প্রতিষ্ঠানটি লাভবান হলে সেখান থেকে লাভের ২০% শতাংশ সেই ৪৩ জন শ্রমিকের মাঝে বন্টন করা হবে। ভিক্ষুক মুক্ত গোপালগঞ্জ গড়তে জেলা প্রশাসনের ব্যতিক্রমধর্মী এ উদ্যোগকে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সহ সকল মহল সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এ লক্ষ্যে শনিবার (১লা মে) বেলা সাড়ে ১১ টায় গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের চৌরখুলী গ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে সদ্য নির্মিত “অবলম্বন” প্যাকেজিং ফ্যাক্টরীর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং (সদ্য ভিক্ষা বৃত্তি ছাড়া) প্রশিক্ষিত সেই ৪৩ জন শ্রমিকের হাতে চাকুরীর নিয়োগ পত্র তুলে দেন।
এ সময় কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পৌর মেয়র হাজী মো.কামাল হোসেন শেখ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহসীন উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, উপজেলা প্রকৌশলী দেবাশীষ বাগচী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান শুভ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী, কুশলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বাদল, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী বৃন্দ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জানাগেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের চৌরখুলী গ্রামে কোটালীপাড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও সরকারি অর্থায়ণে ৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ প্যাকেজিং ফ্যাক্টারীর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে এ ফ্যাক্টারীর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এই ৪৩ জন ভিক্ষুক এখন থেকে এই ফ্যাক্টারীতে কাজ করবেন। ভিক্ষুকের হাত এখন থেকে হয়ে উঠবে কর্মজীবীর হাত। এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, যে ব্যাগে এতো দিনের ভিক্ষা বৃত্তি” সে ব্যাগ তৈরীতেই হবে মুক্তি”  অবলম্বন ভিক্ষা নয়, কর্মময়। আর ভিক্ষা নয়, কর্মময় হবে ৪৩ জন ভিক্ষুকের জীবন। এরা এখন কাজ করে সংসার চালাতে পারবে। “
এ ধরনের উদ্যোগ দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে। আমাদের দেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত ও উন্নত সমৃদ্ধ হবে। এ ক্ষুদ্র উদ্যোগটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেশকে ভিক্ষুক মুক্ত করতে সহায়তা করবে বলে আমার বিশ্বাস।

আপনার মতামত লিখুন :