পোশাক শ্রমিদের বেতন ভাতা পরিশোধ না করায় গাজীপুরে লকডাউন অকার্যকর 

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল ২০২০

 

মঞ্জুর হোসেন মিলন, গাজীপুরঃ  গাজীপুরে বেতন ভাতা পরিশোধের দাবীতে ফের লকডাউন নীতি উপেক্ষা করে বৃহষ্পতিবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে অন্ততঃ ২২টি পোশাক কারখানার শ্রমিক। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ কয়েকটি সড়কের বিভিন্নস্থানে সকাল থেকে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে কারখানা কর্তৃপক্ষ পুলিশের মধ্যস্থতায় চলতি মাসের মধ্যেই (পৃথক সময়ে) শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করে ফিরে যায়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের এএসপি আরিফ রাইয়ানসহ শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গাজীপুরের আড়াই সহ¯্রাধিক কারখানার অধিকাংশ কারখানা ছুটি ঘোষণা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে করোনা পরিস্থিতিতে সুরক্ষা পোশাক পিপিই, মাস্ক, গøাভস সহ গোখাদ্য ও ঔষধ উৎপাদনের জন্য ১২০টি কারখানা চালু রাখা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই এসব বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তাদের মার্চ মাসের বেতন ভাতাসহ বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের দাবী জানিয়ে আসছিল।

ইতোমধ্যে বেশীরভাগ কারখানার শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করা হয়েছে। তবে নানা জটিলতার কারণে কিছু সংখ্যক কারখানার শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েকটি কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রমিকদের বেতন ভাতা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধের চেষ্টা চালিয়ে শ্রমিকদের হিসাব নম্বর জমা দেওয়ার আহবান জানায়। কিন্তু অনেক শ্রমিকের ব্যাংকে হিসাব না থাকায় এবং কারখানায় দাখিলকৃত শ্রমিকদের দেওয়া তথ্যে ভুল থাকায় অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও বেতন ভাতা পরিশোধের চেষ্টাও ব্যার্থ হয়।

কারখানা সমূহের মালিকগণও শ্রমিকদের পাওনাদি হাতে হাতে পরিশোধ করতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন ভাতাদি পরিশোধ করতে পারে নি কারখানা কর্তৃপক্ষ। এতে বেতন ভাতা না পেয়ে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। গত কয়েকদিন ধরেই জেলার বিভিন্নস্থানের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা তাদের মার্চ মাসের বেতন ভাতাসহ বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের দাবীতে পৃথকভাবে বিক্ষোভ করে আসছে। এসময় তারা সড়ক মহাসড়কও অবরোধ করছে। বৃহষ্পতিবারও জেলার ভোগড়া, কড্ডা, নাওজোর, হোতাপাড়া, কালিয়াকৈর, টঙ্গী ও তিনসড়কসহ বিভিন্ন এলাকার অন্ততঃ ২২টি পোশাক কারখানার শ্রমিক বিভিন্নস্থানে পৃথকভাবে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ কয়েকটি সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ করেছে। 

গাজীপুর শিল্প পুলিশের এএসপি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোগড়া ও বাসন সড়ক এলাকার আলিফ গার্মেন্টস ও কলম্বিয়া গার্মেন্টসের শ্রমিকরা তাদের মার্চ মাসের বেতন ভাতা পরিশোধের দাবীতে বৃহষ্পতিবার সকাল হতে ওই দু’কারখানার গেইটে জড়ো হতে থাকে। করোনা পরিস্থিতির কারণে কারখানা দু’টি বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা কারখানার গেইটে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করলেও মালিক পক্ষের কাউকে না পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং বিক্ষোভ শুরু করে।

একপর্যায়ে তারা কারখানার পার্শ্ববর্তী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর এসে পৃথকভাবে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশের মধ্যস্থতায় কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে আগামী ২০ এপ্রিল অনলাইনে বেতন পরিশোধের তারিখ ঘোষণা দিলে শ্রমিকরা তাদের আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করে ফিরে যায়। এসময় শ্রমিকদেরকে অনলাইন ব্যাংকিং হিসাব খুলে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার আহবান জানানো হয়। 

এছাড়াও মহানগরীর দিঘীরচালা এলাকার ইলিবাট কিংসওয়্যার লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কারখানার সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ল⊃2;ীপুরা এলাকার স্টাইল ক্র্যাফ্ট পোশাক কারখানার শ্রমিকরা একইদিন একই দাবীতে বিক্ষোভ করেছে। এসময় তারা কারখানার পার্শ্ববর্তী ঢাকা-জয়দেবপুর সড়ক অবরোধ করে। এসময়ে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসময় পুলিশের মধ্যস্থতায় কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে আগামী ২০ এপ্রিল বেতন পরিশোধের তারিখ ঘোষণা দিলে শ্রমিকরা তাদের আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় পরিস্থিতি স্বভাবিক হয়। 

তিনি আরো জানান, মহানগরীর কড্ডা এলাকার ভূঁইয়া গামেন্টসের শ্রমিকরা একই দাবীতে সকাল হতে বিক্ষোভ করেছে। এসময় তারা কারখানার কারখানার পার্শ্ববর্তী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময়ে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রোগীবাহী কয়েকটি এ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদ জানান, এছাড়াও রাজেন্দ্রপুর হোতাপাড়া এলাকার গিভেন্সি, শ্রীপুরের কেওয়া এলাকাস্থ নাকিব স্পিনিং মিল, ভাংনাহাটী এলাকার এম এইচ সি অ্যাপারেলস লিমিটেড, সাইটালিয়া এলাকার কে ডি এম গেøাবাল অ্যাপারেলস লিমিটেডসহ টঙ্গী ও কালিয়কৈরসহ জেলার বিভিন্নস্থানে বেশ কয়েকটি কারখানার পোশাক শ্রমিকরা বেতন ভাতা পরিশোধের দাবীতে বিক্ষোভ করেছে। শ্রমিকরা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের কোন নিয়ম কানুন না মেনেই পৃথকভাবে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও আন্দোলন করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

আপনার মতামত লিখুন :