স্বেচ্ছায় লকডাউনে কাপাসিয়ার খিরাটী গ্রাম

প্রকাশিত : ৬ এপ্রিল ২০২০

মঞ্জুর হোসেন, গাজীপুর: মরণঘাতক করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি রোধে স্বেচ্ছায় কোয়ারিন্টেনে যাওয়ার শুভবুব্ধির উদয় হচ্ছে মানুষের মধ্যে। বৈশ্বিক মহামারি করোনার ভয়াবহ ঝুঁকি উপলব্ধি করে সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার খিরাটী গ্রামের মানুষের সচেতনতায় সঙ্কট মোকাবেলায় সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাঁশ বেঁধে ও সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে গ্রামের প্রবেশপথ রুদ্ধ করা হয়েছে। জীবন বাঁচানোর তাগিদ থেকে স্থানিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন খিরাটী গ্রাম উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে ৬ এপ্রিল সোমবার থেকে কাপাসিয়ায় খিরাটী গ্রাম স্বেচ্ছায় লকডাউনে যায়।
বিশ^ জুড়ে মহামারি নভেল করোনাভাইরাসে(কোভিট-১৯) বাংলাদেশেও বেড়েই চলছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এদিকে গাজীপুর জেলার প্রায় প্রত্যেকটা উপজেলা সদর ও এর আশপাশের বাজার এলাকাগুলোতে চলাচল সীমিত করা হয়েছে। জীবন বাঁচানো আর সামাজিক সুরক্ষায় গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের খিরাটী গ্রামের লোকজন তাদের গ্রামকে স্বেচ্ছায় লকডাউন ঘোষণা করেছে।
‘নিজের জীবন রক্ষার্থে নিজেদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে’ এই ¯েøাগানে খিরাটী গ্রামের দুটি পাড়ার প্রায় (১০৫ টি পরিবার) অধিবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে স্বেচ্ছায় লকডাউন করেছে তাদের গ্রামের ৪নং ও ৫নং ওয়ার্ডের অর্ধেক। বিশেষ কোন জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ তাদের ঘর থেকে বের হবে না এবং বাহির হওয়ার পথগুলোও বড় বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, খিরাটী গ্রাম উন্নয়ন পরিষদের মহাসচিব ও জাগরনী টিভির লিগ্যাল এ্যাডভাইজার এডভোকেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের নের্তৃত্বে পুরো পাড়ার অলি-গলিতে ও রাস্তা-ঘাটে জীবানু নাশক স্প্রে ছিটানো হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খিরাটী গ্রাম উন্নয়ন পরিষদের মহাসচিব এডভৈাকেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, সাড়ে ৬ হাজার লোকের বসবাস খিরাটী গ্রামে দুই পাড়া থেকে প্রথমে শুরু করেছি দুই দিনের ভিতরে আমাদের পুরো গ্রামটি এই লকডাউনের আওতায় এনে ফেলবো। 
লকডাউনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, সরকার এই মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশের সর্বত্রই  চলাচল সীমিত করেন। এরই প্রেক্ষিতে আমরাও আমাদের নিজেদেরকে সেভ রাখার জন্য ১০৫টি পরিবারকে লকডাউনের আওতায় নিয়ে এসেছি । এক বাড়ির লোক অন্য বাড়িতে যেতে পারবেনা। রাস্তার পাশে বসানো হয়েছে হাত ধোয়ার জন্য পানির ট্যাংক ও সাবান। খিরাটী বাজার থেকে কামারগাঁও অভিমুখী রাস্তা দিয়ে প্রায় সারাদিনে হাজার খানেক সিএনজি, অটোরিক্সা, ভ্যানগাড়ী চলাচল করতো, আর এই লকডাউনের ফলে এখন পুরো গ্রামই যেন শান্ত হয়েগেছে। এই ভাইরাসের ফলে দেশের পরিস্থিতি যতদিন ভালো না হয় ততদিনই থাকবে আমাদের এই কার্যক্রম। খিরাটী গ্রাম উন্নয়ন পরিষদের সদস্য ও এলাকার তরুণরা এসব তদারকি করছে।
স্থানীয় যুবক ইসমাইল বলেন, আমরা প্রতিটি পরিবার সচেতনতার সঙ্গেই এই উদ্যোগ নিয়েছি এবং প্রত্যেকটা পরিবার থেকেই সচেতনতা কমিটিতে সদস্য রয়েছেন।
স্থানীয় মেম্বার মোঃ কফিল উদ্দিন শুক্কুর জানান, আমরা আমাদের গ্রামকে এবং নিজেদের করোনাভাইরাসের ছোবল থেকে রক্ষা করা ও এলাকাবাসীদেরকে রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। তিনি এই উদ্যোগের সাথে সকলকে একাত্বতা ঘোষণার দাবী জানান।
এই লকডাউনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহীনুর আলম সেলিম বলেন, আমি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমি চাই আমার ইউনিয়নের প্রত্যেকটা এলাকা  যেন স্বেচ্ছায় লকডাউনের আওতায় চলে আসে।
 

আপনার মতামত লিখুন :