আড়াইহাজারে স্বপ্ন ভঙ্গ দুই শতাধিক মৌসুমী সবজি চাষির

প্রকাশিত : ২ মে ২০২০

আড়াইহাজার প্রতিনিধি: প্রাণঘাতি (কভিড১৯) করোনাভাইরাসের আতঙ্কে আড়াইহাজারে স্বপ্ন ভঙ্গ প্রায় দুই শতাধিক মৌসুমী সবজির চাষির স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাঁচাবাজারগুলোতে বেচাকেনায় সময় নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে এমন অবস্থা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত চলবে এতে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ শাকসবজি বিক্রি করতে বেগ পেতে হচ্ছে পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে গণপরিবহন

বাজারগুলোতে ক্রেতা সমাগম কম এতে চাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় দুই শতাধিক মৌসুমী সবজি চাষি এখন মোটা অংকের টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে তারা এখন দিশেহারা কিভাবে পরিশোধ করবেন ঋণের কিস্তি এমন অবস্থায় তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ করোনা আতঙ্কের চেয়ে এখন ঋণের আতংক তাদের পিছু নিয়েছে পাইকাররাও এখন সবিজ কিনতে জমিতে আসছে না

কিছুদিন আগে সবজি কিনতে তাদের আনাগোনা ছিল সবজি পেতে কৃষকদের তারা অগ্রীম টাকা দিয়ে রাখতেন ক্রেতাবিক্রেতায় মুখরিত ছিল সবজি চাষিদের আড়তগুলো এখন তার উল্টো চিত্র করোনা আতংকে পাল্টে গেছে পুরো দৃশ্যপট বর্তমানে জমিতে অনেকের সবজি পচে যাচ্ছে এখন তাদের স্বপন ভঙ্গ সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের সরাবদী এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় বছরজুড়েই মৌসুমী বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ করে আসছেন উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি হচ্ছিল

এমনকি উৎপাদিত সবজি বর্হিবিশ্বের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হয়ে আসছে কোনো প্রকার সার বিষাক্ত কেমিক্যাল ছাড়াই শুরু গোবর সার দিয়ে সবজি চাষ করা হচ্ছে এর ফলোশ্রæতিতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সরাবদীকে নিরাপদ সবজি গ্রাম নাম দিয়েছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মোট জমির পরিমাণ ১৮ হাজার ৩৩৫ হেক্টোর আবাদি জমি ১৫,২৫০ হেক্টোর এর মধ্যে সবজি চাষ হচ্ছে ২৫ হেক্টার জমিতে

সরাবদী এলাকার কৃষক নুরুজ্জামান জানান, তিনি ১০ বছর ধরে মৌসুমী সবজির চাষ করে আসছেন এর আয় থেকেই চলছে তার সংসার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, লাউ শিম সহ বিভিন্ন ধরনের মেীসুমী সবজি চাষ করে আসছিলেন হঠ্যাৎ করোনাভাইরাসের কারণে তিনি সবজি বিক্রি করতে পারছেন না এতে তাকে মোটা অংকের টাকা লোকসান গুনতে হবে তিনি আরো বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সবজি চাষ করে এখন আমি দিশেহারা

একই এলাকার কৃষক হারুন বলেন, বাড়ির দলিল ব্যাংককে জমা দিয়ে মোটা অংকের টাকা ঋণ নিয়ে সবজি বর্তমান পরিস্থিতিতে সবজি কিনতে পাইকাররা আসছে না তিনি আরো বলেন, আগে একটি মাঝারি আকারের মিষ্টি কুমড়া পাইকারী বিক্রি করা যেতো ৫০ থেকে ৬০টাকা এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫টাকা এতে মোটা অংকের টাকা লোকসান গুনতে হবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু সরাবদী এলাকায় আছেন প্রায় দেড় শতাধিক মৌসুমী কৃষক প্রতিটি ইউনিয়নে কমবেশী মৌসুমী শাকসবজির চাষ করা হচ্ছে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে উপজেলার আশপাশের বাজারগুলোতে বিক্রি করা হচ্ছে অনেকেই জানান, এই এলাকার বিষাক্ত কেমিক্যাল মুক্ত সবজি হওয়ায় চাহিদা ব্যাপক এর ফলোশ্রুতিতে বর্হিবিশ্বের বিভিন্ন দেশেও সবজি রপ্তানি হয়ে আসছিল হঠ্যাৎ করোনাভাইরাসের থাবায় যেন সব তছনছ

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারি কৃষি অফিসার আকলিমা আক্তার বলেন, স্থানীয় বাজারগুলোতে বিপুল পরিমাণে সবজি বিক্রি হয়ে আসছিল কিন্তু করোনাভাইরাস আতঙ্কে কাঁচাবাজারগুলো সীমিত পরিসরে খোলা রাখায় সবজি বিক্রি করতে কৃষকদের বেগ পেতে হচ্ছে এতে তারা কিছুটা হলেও লোকসানের মুখে পড়বেন

আপনার মতামত লিখুন :