আড়াইহাজারে বাজারগুলোতে লোক সমাগম, মানা হচ্ছে না প্রশাসনের নির্দেশনা 

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০২০

জাকির হোসেন, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিন সকালে ব্যাপক লোকসমাগম হয়ে যাচ্ছে। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। রমজানের শুরু থেকেই কেনাকাটা করতে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে লোকজনের অতিরিক্ত চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজারগুলোতে অনেকটা গাদাগাদি করে লোকজন চলাফেরা করছেন। অনেকেই সুরক্ষা সামগ্রীও পরিধান করছে না।

সমাগম দেখে মনে হচ্ছে যেন ঈদের বাজার কেও হার মানিয়েছে। লোকজন যেন কেনাকাটা করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। বাজারগুলোতে বেচাকেনায় সকাল ৬টা থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। (কোভিড-১৯) করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও জনসমাগম ঠেকাতে পারছে না।

বৃহম্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আড়াইহাজার পৌরসভা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন মুদি-মনোহারি দোকানে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। মুড়ি, গুঁড় ও দুধ পট্রিসহ মুদি-মনোহারি দোকানগুলোতে দেখা গেছে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা কেউ মানছে না সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা। অনেকটা গাদাগাদি করেই প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় করছেন। অনেকের হাতে মুখে ছিল না কোনো সুরক্ষা সামগ্রী। করোনা নিয়ে যেন এক ধরনের উদাসহীনতা দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে লোকজন চলে যেতে দেখা গেছে।

আড়াইহাজর পৌরসভা বাজারে কর্তব্যরত আড়াইহাজার থানার এসআই রূপন বলেন,  বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সীমিত সময়ের জন্য খোলে দেয়ায় লোকজনের চাপ কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে লোকসমাগম ঠেকাতে পুলিশ সদস্যরা চেষ্টা করছেন।

আড়াইহাজার পৌরসভার বাসিন্দা জেলা কৃষকলীগের সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে লোকজনের মধ্যে কিছুটা উদাসগীনতা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। আমি নিজেও এলাকায় বেশ কিছু লোকের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। তার পরও রিকশা চালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে চালকরা বের হয়ে পড়েছেন। এতে করোনা ঝুঁকি বাড়ছে।

সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকাল ৬ থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এতে সকালে দোকানপাটে অতিরিক্ত লোকজনের সমাগম হয়ে যাচ্ছে। মুড়ি কিনেতে আসা জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি বলেন, সকালে যেভাবে বাজারে লোক সমাগম হচ্ছে। এতে আমাদের মধ্যে করোনার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন সকালে ক্রেতাবিক্রেতায় মুখরিত হয়ে পড়ছে বাজার। মনে হচ্ছে ঈদ বাজার। এতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার যে নির্দেশনা রয়েছে তা মানা হচ্ছে না।

আড়াইহাজার পৌরসভাবাসি হারুন অর রশীদ নামে এক ব্যক্তি বলেন, খেজুর, দুধ, মুড়ি ও গুঁড় পট্রি পৃথক স্থানে সরিয়ে নেয়া উচিত। কারণ নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে এক সঙ্গে অনেক লোকের সমাগম হয়ে যাচ্ছে। একই চিত্র উপজেলার অন্যান্য বাজারেও লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ হোসেন বলেন, আগের বেঁধে নিয়ম এখনোও বলবদ রয়েছে। তবে খেজুর, দুধ, গুঁড় ও মুড়ি পট্রি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত এসব দোকানগুলো সরানো হয়নি।

আড়াইহাজার থানার ওসি তদন্ত আমীর হোসেন বলেন, রোজার মাসকে কেন্দ্র করে বাজারে অতিরিক্ত লোক সমাগম বেশী হচ্ছে। তবে লোক সমাগম ঠেকাতে পুলিশের দুইটি টিম সর্বদা কাজ করে যাচ্ছেন। অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৩জন। সন্দেহভাজন ২০০ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়েছেন।

 

 

 

 

আপনার মতামত লিখুন :