শ্রীপুরে রাস্তা কেটে গোডাউনে আগুনের অভিযোগ, থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০২০

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরে শ্রীপুরে জমি সংক্রান্তের বিরোধের জেরে ৫০বছরের চলাচলের রাস্তা কেটে বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। পরে আবার আগুন দিয়ে নির্মানাধীন বহুতল বাড়ির মালামাল রাখার গুদাম পুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রাস্তা কেটে ফেলায় বিপাকে পড়েছেন ওই এলাকার প্রায় ১৫/২০টি পরিবার।

গত সোমবার ভোরে পৌর এলাকার দক্ষিণ ভাংনাহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়ার আগেই গোডাউন ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দক্ষিণ ভাংনাহাটি গ্রামের মৃত হাজী ডা: আবুল মুনসুরের ছেলে আবুল হাসান খন্দকার বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে একই এলাকার সাখাওয়াত হোসেন খান সোহাগ (৫০), বেলায়েত হোসেন খাঁন এমরান (৪৫), শিবলি (৩৫), আব্দুস সাত্তার (৪৮), আব্দুল বারেক (৪৬), মোজাম্মেল হক (৩৫), আবুল কালাম আজাদ (৫৫), মোতাহার হোসেন (৩৮) অজ্ঞাতসহ আরো ২০/২৫ জনকে আসামী করে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বাদী আবুল হাসান খন্দকার বলেন, প্রতিবেশী সাখাওয়াত হোসেন সোহাগদের সাথে দীর্ঘদিন আমাদের বাড়ির চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধপূর্ণ রাস্তাটি দিয়ে আমাদের পূর্বপুরুষরা দীর্ঘ ৬০বছরের অধিক সময় যাবৎ চলাচল করছে। ওই রাস্তাটিতে মাটি ফেলে সুন্দর ভাবে চলাচলের উপযোগী করে তুলি। হঠাৎ গত সোমবার ভোরে সোহাগ ৩০/৩৫জন লোক নিয়ে ওই রাস্তার মাটি কেটে গর্ত করে ফেলে। এখন বাড়ির একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়ায় আমরা প্রায় শতাধিক লোকজন বাহিরে আসা যাওয়া করতে পারছি না। রাস্তা কাটার পর তাঁরা আমার বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য বাড়ির দক্ষিন পাশের গুদামজাত করে রাখা বাড়ির নির্মানাধীন বিভিন্ন মালামালসহ কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রায় ৫/৬লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ক্ষতি হয়েছে তিনি দাবী করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহাগ বলেন, রাস্তাটি পৌরসভার অনুমতি রাস্তা নয়, এটা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তির উপর দিয়ে রাস্তা নেয়া হয়েছে। আমাকে না বলে আমার জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তাটি বড় করে জমি অংশ কমিয়ে ফেলেছে। আমি বাধা দেয়া উল্টো আমাকে মারধর করে। আমি ও তাদের বিরোদ্ধে বুধবার রাতে থানায় মামলা করেছি। তারা নিজেরাই তাদের গোডাউনে আগুন ধরিয়ে আমাদের নামে মামলা করে হয়রানি করছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, গোডাউন ঘরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলায় একটি মামলা হয়েছে। অপরপক্ষ সোহাগ ও মারধরের অভিযোগের অপরাধে একটি মামলা হয়েছে। উভয় পক্ষের আসামীরা পলাতক রয়েছে, তাদেরকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 
 

আপনার মতামত লিখুন :