বাঁচতে চায় সৌদি প্রবাসী ঈমান আলী, দূতাবাসের দৃষ্টি আকর্ষণ!

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০২০

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বড়ইছুটি গ্রামের মৃত. ইয়াকুব আলীর ছেলে মোঃ ঈমান আলী (৫৫)। তার পরিবারে স্বচ্ছলতা আনার জন্য বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে পরিবার পরিজন ছেড়ে ২০ বছর আগে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। এর মধ্যে কয়েকবার দেশে আসা যাওয়া করেছেন। সর্বশেষ তিনি গত বছর ছুটিতে এসে আবার সৌদি আরবে চলে যান। ভালই চলছিল সবকিছু। কিন্তু হঠাৎ করেই বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রকোপে তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।

পরিবারের লোকজন জানান, গত সপ্তাহে ঠান্ডা জ্বর হওয়ার ফলে ঈমান আলী যে কোম্পানিতে কাজ করে সেখানকার লোকজন তাকে হাসপাতালে পাঠায় এবং করোনাভাইরাস হয়েছে কিনা পরীক্ষা করায়। এরপর গত (২৫ এপ্রিল, শনিবার) ঈমান আলীকে জানানো হয় তার করোনাভাইরাস হয়েছে। তবে, তার (২৭ এপ্রিল, সোমবার) বিকেলে তাকে জানানো হয় যে, কয়েকজনের রিপোর্টে গড়মিল হয়েছে হয়তো। সেজন্য ১৪ দিন আলাদাভাবে থাকার জন্য ঈমান আলীকে অন্য একটি বাসায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার থেকে ঈমান আলীকে তার কোয়ার্টার থেকে বের করে ওই কোম্পানির ক্যাম্পের একটি মসজিদের পাশের কক্ষে রাখা হয়। সেখানে তাকে কোন প্রকার খাবার দেয়া হয়নি । এমনকি তাকে বাহিরে বের হতে দেয়া হয়নি। আবার তার সাথে কাউকে দেখাও করতে দেয়নি। খাবারের কষ্টে দিনরাত পার করেছেন ঈমান আলী। কোন হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে পারেননি তিনি। কয়েকবার হাসপাতালে শুধু আনা নেয়া হয়েছে। তবে কোন চিকিৎসা করানো হয়নি।

এদিকে, তার এই অবস্থার খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারের সদস্যরা। বুক ফাটা কান্না ছাড়া যেন কিছুই করার নেই পরিবারের সদস্যদের।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের বড়ইছুটি এলাকায় ওই প্রবাসির বাড়িতে গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

কান্না জরিত কন্ঠে ঈমান আলীর ছেলে জসিম জানান, সৌদি আরবে  একটি হাসপাতাল থেকে ফোন দিয়ে তার করোনা পজিটিভ বলে জানান। সেই সাথে তাকে একা একটি কক্ষে থাকার জন্য পরামর্শ দেন। বিষয়টি তার বাবার সাথে থাকা রুমের অন্যান্যরা জানতে পেরে তাকে ঘর থেকে বের করে দেন। পরে তিনি একটি মসজিদে আশ্রয় নেন। তিনি কোন সহযোগিতা পাচ্ছেন না, খানাও পাচ্ছেন না। কেউ তাকে খাবার কিনে আনতে দেয় না সেখানকার কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তিনি মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিষয়টি সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তার বাবাকে যেন সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন।

ঈমান আলীর মেয়ে অঞ্জনা আক্তার, বড় ভাই জয়নাল আবেদীন, ছোট ভাই মজিবুর রহমান, স্ত্রী ইলিয়া বেগম এবং এলাকাবাসি জানান, সৌদি আরবে মানবেতর জীবন যাপন করা তাদের স্বজন ঈমান আলী যেন দূতাবাসের মাধ্যমে সুচিকিৎসা পান তার ব্যবস্থা করে দেন। অথবা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সব রকম সহায়তা প্রদান করেন।

মুঠোফোনে সৌদি প্রবাসী ঈমান আলী জানান, বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের রিয়াদে রয়েছেন। করোনা পরীক্ষা করানোর পর তার পজেটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর থেকেই তাকে তার ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন তিনি যে কোম্পানীতে (আল আফরাজ কোম্পানী) চাকুরী করেন, কিন্তু সেই কর্তৃপক্ষ তার সু চিকিৎসা করানোর জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তবে একটি মসজিদের পাশে ক্যাম্পের মত করে দেয় থাকার জন্য। কিন্তু সেখানে তিনি কোন চিকিৎসা পাননি সেই সাথে খাবারও পাননি। আল্লাহ জানে কি হয়!

বিষয়টি সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসকে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান ঈমান আলী। তার ইকামা নাম্বার ২১৩৯৭৭৮৬৯৬।

আপনার মতামত লিখুন :