গাজীপুরে বন্ধ কারখানা চালু ও বকেয়া বেতদের দাবীতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ 

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল ২০২০

মঞ্জুর হোসেন মিলন, গাজীপুরঃ  গাজীপুরের বন্ধ (লে-অফ) ঘোষিত  এক পোশাক কারখানা চালু করার  তারিখ ঘোষণা এবং শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের দাবীতে ওই কারখানার শ্রমিকরা রবিবার বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছে। উত্তেজিত শ্রমিকরা পাশর্^বর্তী কয়েকটি কারখানা ভাংচুরকরেছে।

এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল এবং টায়ারে অগ্নিসংযোগ করেছে। পুলিশের সঙ্গে উত্তেজিত শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশসহ অন্ততঃ ৮জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৫ রাউন্ড টিয়ার সেল ছুড়েছে। 

গাজীপুর শিল্পপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, গত ৩১ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গাজীপুর মহনগরীর ভোগড়া এলাকার স্টাইলিশ গার্মেন্টস কারখানাটি ১এপ্রিল হতে লে-অফ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। অথচ কারখানাটিতে ১ এপ্রিলের পরও কিছুদিন পর্যন্ত উৎপাদন অব্যহত ছিল। কারখানাটি কবে নাগাদ খোলা হবে তা ঘোষণা দেয়নি মালিক পক্ষ।

কারাখানাটি লে-অফ করার আগে ৩০জন শ্রমিকের বেতন এবং ৮০জন স্টাফের ৬০শতাংশ বেতন বকেয়া ছিল। শ্রমিকরা ওই কারখানা চালু করার নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতাসহ পাওনাদি পরিশোধের দাবীতে রবিবার বিক্ষোভ ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছে। কিন্তু তাদের দাবী পূরণ না হওয়ায় এবং মালিক পক্ষের সাড়া না পেয়ে শ্রমিকরা সোমবার সকাল ৮টার দিকে কারখানার সামনে এসে জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। 

গাজীপুর শিল্পপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার পাশর্^বর্তী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় বিক্ষোভকারীরা স্টাইলিশ কারখানার পাশর্^বর্তী ভলমন্ট ফ্যাশন, ক্রাউন ফ্যাশন, টেকনো ফাইবার পোশাক কারখানার কর্মরত শ্রমিকদেরকে কাজ বন্ধ রেখে তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহবান জানায় এবং ওইসব কারখানায় ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে।

এতে ওই কারখানাগুলোর দরজা জানালার কাঁচসহ বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর হয়। একপর্যায়ে তারা ক্রাউন ফ্যাশন কারখানার সামনে মহাসড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা ৩টি মোটর সাইকেল ও ৮টি বাইসাইকেলে জড়ো করে সেগুলোতে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে অবরোধকারীদের মহাসড়কের উপর থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়তে থাকে।

একপর্যায়ে পুলিশ অবরোধকারীদের লাঠিচার্জ ও ধাওয়া করলে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে পুলিশসহ অন্ততঃ ৮জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৫ রাউন্ড টিয়ার সেল ছুড়ে বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।  
 

আপনার মতামত লিখুন :