মাদারবাড়িতে যুবলীগ নেতা সুমনের উপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০২০

চট্টগ্রাম ব্যাুরো: চট্টগ্রাম নগরীর পূর্ব মাদার বাড়ী দক্ষিণ নালাপাড়ায় গত ২৬ মে (শুক্রবার) রাত ১১ টার দিকে যুবলীগ নেতা সুমন মল্লিকের উপর হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ব্যক্তিগত কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে কথিত সন্ত্রাসী মোঃ খোকনসহ চার পাঁচ জনের একটি গ্রুপ লোহার রড, হকিষ্টিক ও কিরিচ দিয়ে তার উপর আক্রমণ করে। পরে আহত সুমনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৭ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

জানা যায়, স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৩০ নং পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী আতাউল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে কাজ করায় ক্ষুদ্ধ হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী জহুরুদ্দীন বাবর তার সন্ত্রাসী দিয়ে এ হামলা করায়। হামলায় অংশ নেয়া খোকনসহ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সদরঘাট থানায় মামলা করেছে সুমন মল্লিক। মামলা নং- ০৭, ২৬/৭/২০২০ ইং।

এ বিষয়ে আহত সুমন কান্তি মল্লিক বলেন, খোকনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার রাতে আমার ব্যক্তিগত কাজ শেষে হেটে হেটে বাসায় যাওয়ার পথে নালাপাড়া ডাঃ ললিত কুমার দত্তের চেম্বারের সামনে পৌছিলে হঠাৎ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে খোকনসহ ৪-৫ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আমাকে হামলা করে।

এর পর আমি চিৎকার করিলে পথচারীরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় এবং তারা আমাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে। পরে আমার মাথায় কয়েকটি সেলাই হয়।

কি জন্য শত্রুতা জানতে চাইলে সুমন মল্লিক আরও বলেন, আমি এক সময় জহির উদ্দীন বাবরের সাথে চলাফেরা করতাম, তার অনেক কাজে আমি থাকে সহযোগিতা করেছি, কিন্তু করোনার কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ৩০ নং মাদারবাড়ি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী আতাউল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে কাজ করায় বাবর আমার প্রতি ক্ষুদ্ধ হয়ে তার সন্ত্রাসী বাহিনী খোকনদের দিয়ে আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে হামলা করে। আমি মেডিকেল রিপোর্ট নিয়েছি, বিষয়টি থানায় অবহিত করেছি, মামলাও করেছি, এখন আইন যা করে আমি তা মেনে নিব।

এ বিষয়ে আতাউল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাবরও আমার কর্মী। খোকনও একসময় আমার সাথে ছিল। করোনার কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে সুমনসহ আওয়ামী লীগ যুবলীগ ছাত্রলীগ এর কর্মীরা একাট্টা হয়ে আমার জন্য কাজ করেছে। এতে বাবর ক্ষুদ্ধ হয়েছে সুমনের প্রতি। এই ঘটনার পর খোকনসহ অন্যান্যরা আমার সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে ঘটনা সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে। এখন যেহেতু মামলা হয়ে গেছে এ বিষয়ে আর কিছু করার নাই। আইন যা করে তা হবে। এ বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত বাবর ও খোকনের সাথে মোঠোফোনে যোগাযোগ চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুর রহমান ফারুকি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সুমন কান্তি মল্লিক বাদী হয়ে দুপুরে একটা মামলা দায়ের করেছেন। খোকনকে মূল আসামী করে অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে মামলায়। আমরা আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

জানা যায়, জহির উদ্দীন চৌধুরী বাবর চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজের সাবেক ভিপি ছিলেন। বর্তমানে তিনি সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার পর থেকে তিনি এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন :