হাটহাজারীতে লাগামছাড়া বিদ্যুৎ বিলে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০২০

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চলতি মাসের পরিশোধযোগ্য বিদ্যুৎ বিল নিয়ে হাটহাজারী উপজেলার অধিকাংশ গ্রাহকেদর বেড়েছে অস্থিরতা। প্রকৃত মিডার রিডিং এর সাথে বিদ্যুৎ বিলে প্রদর্শিত মিডার রিডিং এর ব্যাপক অসামঞ্জস্যতা, পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় চলতি মাসে চার থেকে পাঁচ গুণ হারে বেশি বিদ্যুৎ বিল দেখানো সহ লাগামছাড়া এমন ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের নানা অভিযোগ।

দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতির সাথে বিদ্যুৎ বিভাগের এমন মনগড়া বিদ্যুৎ বিল সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের মাঝে হতাশা আর ভোগান্তি বাড়িয়েছে অনেকটা। এসব বিদ্যুৎ বিল জনিত সমস্যা নিয়ে হাটহাজারী পিডিবি র্নিবাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এসে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে।

পিডিবি হাটহাজারী জোনের এমন মনগড়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মিটার রিডিং সংশ্লিষ্টদের গাফিলতিকে দায়ী করছেন অধিকাংশ ভূক্তভোগীরা। হঠাৎ অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল তৈরির পিছনে চলতি বছরের মার্চ মাসে বিদ্যুৎতের দাম বাড়ানোকে কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। আবার অনেকে মনে করছেন অর্থ বছরের শেষে দিকে বিদ্যুৎ বিভাগের আর্থিক হিসাব মিলানোর জন্য এমন ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল তৈরি করেছেন কর্তৃপক্ষ।

হাটহাজারী পৌর সদরের ব্যবসায়ী ইউনুছ মিয়া জানান, চলমান লকডাউনে তিনি এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখলেও কর্তৃপক্ষ তার বিদ্যুৎ বিল তৈরি করেছেন ফেব্রুয়ারী মাসের আনুপাতিক হারে। অন্যদিকে হাটহাজারী পিডিবি প্রকৌশলীর কার্যালয়ে অভিযোগ নিয়ে আসা মো: বখতিয়ার জানান, মে মাসে তিনি ৭৩০ টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলেও এ মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৩০৮০ টাকা।

এছাড়া হাটহাজারী পৌর সদরের ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিটুন দাশ জানান, তাঁর বিদ্যুৎ বিলে ১৩১০০ ইউনিউট রিডিং দেখানো হলেও তার মিটারের প্রকৃত রিডিং ১০,৮০০ ইউনিট।

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের নানা অভিযোগের ব্যাপারে হাটহাজারী পিডিবি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে সবার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মিটার রিডিং দেখতে না পারায় গড় হারে একটা মিটার রিডিং হিসাব করে বিদ্যুৎ বিল তৈরির করা হয়েছে। আর বর্তমানে মাঠকর্মীরা সবার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তা সমন্বয় করছেন। এছাড়া তিনি আরো বলেন, যারা বিদ্যুৎ বিল জনিত সমস্যা নিয়ে আসছেন তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন :