জয়াখালীর এক পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: জয়াখালীর ইউনুস আলী গাজী ও তার পরিবারকে ভিটা ও বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দখল নেবার জন্য দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক হামলা করে আসছে। এই চক্রটি মানছে না কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশনা। বারবার ব্যর্থ হয়ে গত ৩০ মার্চ সাড়াশি আক্রমণ চালিয়ে মাথায় কুপিয়ে আহত করেছে ইউনুস আলী গাজীকে। তার স্ত্রী নূরজাহান শ্যামনগর থানায় এজাহার দিলেও পুলিশ মামলা না নিয়ে উল্টো প্রতিপক্ষের দেয়া মামলা গ্রহণ করে। 
ইউনূস আলী গাজীর বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালা ইউনিয়নের জয়াখালী গ্রামে। তিনি একজন দিনমজুর। জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে বিভিন্ন স্থানে কাজ করে বেড়ায়। তার সঞ্চিত অর্থ দিয়ে শ্যামনগর থানার কৈখালী মৌজায় ১/৮৯১ খতিয়ানে ১০৩৭ দাগে দু'দফায় ৫৮ শতক জমি কেনে। এই জমির ওপর তারা বাড়ি তৈরি করে, গাছ লাগিয়ে ও চাষাবাদ করে ভোগ দখল করছিল। এর ওপর চোখ পড়ে কুয়েত ফেরত একই গ্রামের ইদ্রিস আলী গাজী ও তার স্ত্রী খায়রুন্নেছার। তারা স্বামী-স্ত্রী আব্দুস সাত্তার, রাজ্জাক বৈদ্য, রজত আলী বৈদ্য, মেহেদি হাসান, করিমুন্নেসা, করিম সরদার, আমিরুল ইসলাম, কুদ্দুস আলীসহ আরও ১০/১৫ জনের সহযোগিতায় এই জমি দখল করে নেওয়ার জন্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংঘবদ্ধ দলটি তার জমির গাছ কেটে নিয়ে গেছে। জমিতে বালি তুলেছে। পাকা বাড়ি করার জন্য জোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউনুস আলী গাজীর অভিযোগের ভিত্তিতে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিষয়টি নিয়ে কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম ২০১৯ সালের ১৭ ও ২০ জুলাই দুদফা নোটিশ প্রদান করলেও খায়রুন্নেছা ও অন্যান্য অভিযুক্তরা ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হয়নি। এসময় ইদ্রিস আলী গাজী কুয়েতে ছিল। খায়রুন্নেসা ও তার স্বামী ইদ্রিস আলী গাজী দালাল আমিনুর গাজী সহ কতিপয় দুষ্টু প্রকৃতির ব্যক্তির পরামর্শে সব ধরনের শালিস ও শান্তি বৈঠক বর্জন করে আসছে। জনশ্র“তি রয়েছে আমিনুর গাজীর সাথে খায়রুন্নেছার আপত্তিকর সম্পর্ক রয়েছে। তার কাছ থেকে চা পান বিড়ি খাবার খরচ নেয়। পিছনে পিছনে ঘুরে থাকে। নির্জনে খোশগল্প করে। এদিকে মীমাংসার করার জন্য সন্ত্রাসীরা পুলিশ সুপারের কাছে অঙ্গীকার আমার প্রদান করে। কিন্তু অঙ্গীকার করার পরও তারা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। গত ৩০ মার্চ বিকেলে ইদ্রিস আলী গাজী, খায়রুন্নেছা, আব্দুস সত্তার, রাজ্জাক বৈদ্য, রজত আলী বৈদ্য, মেহেদী হাসান এবং আমিনুর গাজী একত্র হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইউনুস গাজী পরিবারের উপরে হামলা চালায়। জমি দখল নেবার চেষ্টা করে। বাধা দিলে ইউনুস আলী গাজীর মাথায় হাতে কোপ মারে। নুরজাহান খাতুনের বিবস্ত্র করে শ্লীলতা হানি ঘটায়। আহত ইউনুস সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার স্ত্রী শ্যামনগর থানায় এজাহার করে। থানার এসআই রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু তিনি কোন আইনী ব্যবস্থা নেননি। টাকা না দেয়ায় উল্টো পুলিশের পরামর্শে আসামী পক্ষের মামলা নিয়ে তাদেরকে হয়রানি করছে। পুলিশ ও প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের ভয়ে ইউনুস আলী গাজী, নুরজাহান খাতুন এবং পদ্মপুকুর গ্রামের তৈইবুর রহমান গ্রাম ছাড়া। তৈইবুর রহমানের বাড়ি কৈখালী থেকে প্রায ৩০ কিলোমিটার দূরে। অজ্ঞাত কারণে এই মিথ্যা মামলায় তার নাম ঢোকানো হয়েছে। আমিনুর গাজী ও করিম গাজীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তাদের খুন করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশ্য বলে বেড়াচ্ছে দারোগা নাজমুল হুদা আমাদের হাতের মুঠোয়। কিছুই করতে পারবে না।  
 

আপনার মতামত লিখুন :