নন্দীগ্রামে পাকছে ধান, দুশ্চিন্তায় কৃষক

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০২০

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার নন্দীগ্রামে ক্ষেতে পেকে আসছে সোনালী ধান। ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষার প্রহর গুনছেন উপজেলার কৃষকরা।
জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলায় ২০ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এই উপজেলায় আগাম জাতের ধান পাকতে শুরু করেছে। তবে দুশ্চিন্তায় ঘুম নেই উপজেলার কৃষকের। ঘুম কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস। অঘোষিত লকডাউন যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। ধান কাটা ও ঘরে তোলার শ্রমিক কোথায় পাবেন- এ নিয়েই তাদের যত চিন্তা। একদিকে নগদ টাকা না থাকায় সেচ মেশিনের তেল কিনতে পারছেন না, অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতি দ্রæত স্বাভাবিক না হওয়ার আশঙ্কায় ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
কৃষকরা জানান, কয়েকদিন পরই ধান কাটা শুরু হবে। ফসল ভালো হওয়াতে কৃষকরা খুশি। তারপরেও কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাজ। বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতে কৃষক-শ্রমিকসহ সবাই ঘরমুখো। ফসল ঘরে তুলতে শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। পাশাপাশি আবহাওয়ার বিরুপ আচরণের আশঙ্কাও রয়েছে কৃষকদের।
উপজেলার বার্মন গ্রামের কৃষক তীর্থ সলিল রুদ্র বলেন, এ বছর ৪০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। মনটা খুব ফুরফুরে ছিল। ফলনও ভাল হয়েছে। এরই মধ্যে করোনার হানা। এক সপ্তাহ পরই পাকা ধান কাটা শুরু হবে। কিন্তু ধান কাটার শ্রমিক কোথায় পাবো। নীলফামারী জেলা থেকে শ্রমিক আছে। তারা এবার আসতে চাইছে না। ধান ঘরে তুলব কী করে? এসব চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না।
জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আদনান বাবু জানান, ভুর্তুকী মূল্যে ধান কাটার (কম্বাইন্ড হারভেস্টার) যন্ত্র কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে। এতে করে কিছু শ্রমিক সংকট কমবে। এছাড়া শ্রমিক যেন আসা যাওয়া করতে পারে এ নির্দেশনা অল্প দিনেই পাবো। তবে শ্রমিক সংকট নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :