নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ক্ষেতেই পাকা গম পুড়িয়ে ফেলছেন কৃষকরা

প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল ২০২০

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ফলন ভালো না হওয়ায় পাকা গম ক্ষেতেই পুড়িয়ে ফেলছেন কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন, সরু দানা হওয়ায় এ বছর গমের ফলন ভাল হয়নি। এতে কাটার শ্রমিকের মজুরি খরচই উঠছেনা। ফলে তারা গম না কেটে ক্ষেতেই আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে স্থানীয় কৃষিবিভাগের দাবি, এবছর গমের ফলন ভালো হয়েছে। মওসুমের শেষে দেরিতে বপনকারীদের গমের ফলন খারাপ হয়ে থাকতে পারে। 
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কয়েকদিন আগে মাঠজুড়ে গম চাষ দেখে চোখ জুড়িয়ে গেলেও হঠাৎ অজানা কারণে গমে দানা না হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে গম চাষীদের। বিঘা প্রতি উৎপাদিত গম মাড়াইয়ের পর বিক্রি করে কাটার শ্রমিকের মজুরির মূল্যই উঠছেনা। ফলে পাকা গম না কেটে পুড়িয়ে ফেলতে তারা বাধ্য হচ্ছেন। উপজেলার ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের সাইলকোনা এলাকার বেশ কিছু কৃষকরা তাদের গম ক্ষেতেই পুড়িয়ে ফেলেছেন। 
জানা যায়, চলতি মৌসুমের  শুরুতে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মাঠে মাঠে জমি চাষ করে সার ও গম বীজ বপন করেছিলেন কৃষকরা। নিয়মিত সার ও সেচ পরিচর্যায় সবুজে সবুজে ভরে উঠেছিলো পুরো মাঠ। সেই সঙ্গে রঙিন হয়ে উঠেছিলো প্রান্তিক কৃষকদের স্বপ্ন। কিন্তু গম যখন শীষ নিয়ে দাঁড়িয়েছে ঠিক তখনই অজানা এক সমস্যায় যেন কৃষকদের সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেছে। একবুক আশা নিয়ে যতœ আর পরিচর্যা করেছেন যে কৃষক, তারাই এখন নিজের হাতে ক্ষেতেই সেই পাকা গম পুড়িয়ে ফেলছেন। উপজেলার সাইলকোনা গ্রামের আবুল কালাম, আলমগীর হোসেন, আলাউদ্দিন, সেলিম রেজা, জালাল উদ্দিন এবং ভাটুপাড়া গ্রামের ছাকাত আলী তাদের জমিতে থাকা পাকা গম গাছ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে সাইলকোনা গ্রামের নজরুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ, বাজিতপুর গ্রামের হাবিবুল¬া, আফাজ উদ্দিন, বিরাজ মোল্লা, কাঁকফো গ্রামের আবুল কালাম, আব্দুল লতিফ, কোয়ালিগাড়া গ্রামের রুহুল আলী , সাদেক আলী, রুবেল আলী, ক্ষিদ্রমালঞ্চি গ্রামের রিয়াজ উদ্দিন, আঃ ছাত্তার, তকিনগর গ্রামের নিজাম উদ্দিন, মাফেজ উদ্দিন, আতাহার আলী, আস্তিক পাড়া গ্রামের সালামসহ বেশ কিছু কৃষকদের সাথে প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা জানান, এ বছর শুরুতে তেমন প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটায় গমের কাঁচা গাছে মাঠ ভরে উঠেছিলো। কিন্তু শীষ নিয়ে দাঁড়ানোর সময় কৃষকরা লক্ষ্য করেন গম গাছের মাজা ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে। সেসময় দোকানী ও বিভিন্ন কোম্পানির লোকজনের পরামর্শে এই রোগ থেকে প্রতিকার পেতে কীটনাশক স্প্রে করেও কোন কাজে আসেনি। ফলে ওই সব জমিতে বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে দেড় থেকে তিন মণ। দানা খারাপ হওয়ায় যার বর্তমান বাজার মূল্য ১৫শ' টাকা থেকে দুই হাজার টাকা। এদিকে গম কাটা ও মাড়াই খরচ দুই হাজার টাকা। আর গমের বীজ বপন থেকে কাটার পূর্ব পর্যন্ত বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা। এতে বিঘা প্রতি জমিতে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। সাইলকোনা ছাড়াও উপজেলার জিগরী, বিলগোপালহাটি, যোগিপাড়া, মহজমপুর, শ্রীরামপুর, ডাকরমারিয়া, তমালতলা, জামনগর, ফাগুয়াড়দিয়াড়, মাধোববাড়িয়া, কালিকাপুর, রহিমানপুর ও দেবনগর গ্রামসহ বেশ কিছু গ্রামের কৃষকরা এই সমস্যা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আগাম গম বীজ বপনকারী চাষীদের ফলন কিছুটা ভালো হয়েছে বলে জানা গেছে। সাইলকোনা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাই। এই বছর এক বিঘা জমিতে গম বীজ বপন করেছিলাম। বপন থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু গমের দানা না হওয়ায় জমিতেই পুড়িয়ে ফেলেছি। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে কাজ বন্ধ থাকায় পরিবারের সকলকে নিয়ে কিভাবে চলব তা ভেবে পাচ্ছি না'। এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা মোমরেজ আলী বলেন, এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাগাতিপাড়ায় গমের ফলন ভালো হয়েছে। বিঘা প্রতি ৯ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে। তবে যেসব চাষীরা নির্দিষ্ট সময়ের থেকেও অনেক দেরিতে বীজ বপন করেছেন তাদের গমের ফলন ভালো হয়নি। প্রতিটি ফসলের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে সেই সময়ের পরে চাষ করলে সেই ফসল হয়না। এই সকল কৃষকদের ক্ষেত্রে সেই ঘটনাটায় ঘটেছে।

আপনার মতামত লিখুন :